অভিরূপ দাস: দু’দুখানা গুলি লাগে শরীরে। একটা বুকে। অন্যটা তলপেটে। যাঁর বেঁচে থাকাটাই অলৌকিক। তাঁকেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে অসাধ্যসাধন করল এসএসকেএম হাসপাতাল। অভিজ্ঞ-বিচক্ষণ চিকিৎসকদের টিমে ছিলেন ডা. গৌতম দাস, ডা. অমিত সামন্ত। ছিলেন কার্ডিওথোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারি টিমের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা।
প্রলম্বিত সফল অস্ত্রোপচার শেষে ডা. অমিত সামন্ত জানিয়েছেন, অত্যন্ত জটিল ছিল এই অস্ত্রোপচার। দুখানা বুলেট ঢুকেছিল গুরুতর জখম ওই ব্যক্তির শরীরে। কার্ডিওথোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারি টিম আর জেনারেল সার্জারি টিম যৌথভাবে এই অস্ত্রোপচার করে। তলপেটের যে অংশে বুলেট ঢুকেছিল সেটা নিয়ে ব্যস্ত ছিল জেনারেল সার্জারি টিম। অন্যদিকে বুকের অংশের বুলেট বের করতে নিরত ছিল সিটিভিএস টিম। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তলপেট দিয়ে ঢুকে কোমরের উপর পেলভিস হাড়ের পিছনে আটকে ছিল একটি বুলেট। অন্যটি আটকে ছিল বুকের পাঁজরে।
চিকিৎসক অমিত সামন্তর কথায়, সৌভাগ্যবশত তলপেটের বুলেটটা শরীরের ভিতরের বড় বড় অঙ্গকে খুব বেশি জখম করেনি। এ যেন রাখে হরি মারে কে। এই মুহূর্তে জখম ওই ব্যক্তি কড়া পর্যবেক্ষণে। জানা গিয়েছে, তলপেটের জখম অংশ থেকে না হলেও বুকের পাঁজর থেকে রক্তক্ষরণ হয়েছে অনেকটা। ডা. অমিত সামন্ত জানিয়েছেন, গুলি বন্দুক থেকে বেরিয়ে চরকির মতো পাক খেতে খেতে শরীরে ঢোকে। বুলেটের ঘূর্ণি শরীরের মধ্যে যে ক্ষয়ক্ষতি করেছিল তাকে মেরামত করেছি আমরা।

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ওই ব্যক্তি দেবব্রত মণ্ডল। সম্প্রতি হাওড়ায় দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর জখম হন তিনি। গুলিবিদ্ধ ওই পঞ্চায়েত প্রধান বেলুড়ের সাঁপুইপাড়া বসুকাঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ দেবব্রত মণ্ডল এক সঙ্গীর সঙ্গে বাইকে করে বিয়ের একটি অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। সেই সময় ষষ্ঠীতলা মালিবাগানের সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, দুটি গুলি লাগে পঞ্চায়েত প্রধানের শরীরে। কিন্তু মৃত্যুর মুখ থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনল এসএসকেএম।
সর্বশেষ খবর
-
আত্মনির্ভরতায় জোর, জলে ভাসল গার্ডেনরিচে তৈরি ‘শ্রুতি’, কতটা শক্তিশালী নৌবাহিনীর এই জাহাজ?
-
গুটিকয়েক কর্মীর বেতন দিতেই মাসিক ৫১ লক্ষ! সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ল কালীঘাট তৃণমূলের খরচের বহর
-
শ্রীলঙ্কাতেও তাড়া করছে অস্ট্রেলিয়ার জুজু! টেস্টের আগে বিশেষ আবদার গম্ভীরদের, সুযোগ পাবেন নবি?
-
৯৬ ঘণ্টা পার, এখনও বাংলাদেশে আটকে জলপাইগুড়ির চাষি, দীপঙ্করের পরিবারে বাড়ছে উদ্বেগ
-
রক্তের জোগান, খরচ ও ব্যবহারের স্বচ্ছতা, একটি সামাজিক দায়