বঙ্গে পালাবদল
Suvendu Adhikari

শ্যামাপ্রসাদের বাড়ি থেকে কালীঘাট! শপথ নেওয়ার পর দিনভর কী করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

'মা কালীর পা থেকে পদ্ম এসে পড়ল', ভারত সেবাশ্রমে দাঁড়িয়ে আর কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

Advertisement
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: মে ৯, ২০২৬, ২২:৫৯

options
link
শ্যামাপ্রসাদের বাড়ি থেকে কালীঘাট! শপথ নেওয়ার পর দিনভর কী করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
ভারত সেবাশ্রমে মুখ্যমন্ত্রী।

দীর্ঘ প্রায় দেড়মাসের অপেক্ষার অবসান। ব্রিগেড ময়দানে রাজ্যের মানুষকে সাক্ষী রেখে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তিনি। একেবারে গেরুয়া পোশাকে, মাথায় তিলক এঁকে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর এন রবি। এরপরেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কোথাও বিতরণ হল লাড্ডু তো কোথাও আবার অকাল হোলি খেলা। এমনকী গড়িয়াহাট চত্বরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেল সাধারণ মানুষকে। ভিড়ের মাঝেই থমকালো কনভয়।

Advertisement

এদিন ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শপথগ্রহণ করেই এদিন একাধিক কর্মসূচি ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। শপথ অনুষ্ঠান সেরেই এদিন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধার্ঘ জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষতি বাংলার হয়ে গিয়েছে। সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা কিছুই আর নেই। জোড়াসাঁকোতে দাঁড়িয়ে বাংলাকে নতুনভাবে তৈরির শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। জানান, এখন অনেক দায়িত্ব। একে অপরের সমালোচনার সময় নেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Advertisement

জোড়াসাঁকো থেকে বেরিয়ে ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে মাল্যদান করেন। শুধু তাই নয়, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি ১৯৪৭ সালের ২০ জুন যে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস তাও মনে করিয়ে দেন। এমনকী এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানান। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস ১৯৪৭ সালের ২০ জুনই হওয়া উচিত। কখনই ইতিহাসকে বদলে দেওয়া যায় না। আমার ভাবনার মধ্যেই আছে। আগামিদিনে নিশ্চিতভাবে ক্যাবিনেট এবং বিধানসভায় বিষয়টু তুলে ধরা হবে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন নিয়ে বিভিন্ন সময় আগের তৃণমূল সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিল বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসাবে পয়লা বৈশাখকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে এদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়েই এদিন শুভেন্দু সোজা পৌঁছে যান ভারত সেবাশ্রমে। সেখানে প্রবেশ করতেই দেখা যায় উচ্ছ্বাসের ছবি। শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে এদিন এক অদ্ভুত আবেগের প্রতিফলন হয় ভারত সেবাশ্রমে। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান কার্তিক মহারাজ। শুভেন্দুকে কাছে পেয়ে গেরুয়াধারী মহারাজরা রীতিমতো সেলফি তুলতে শুরু করে দেন। আবেগে ভাসেন মুখ্যমন্ত্রীও।

সেখানেই তিনি জানান, কালীঘাটের মায়ের আশীর্বাদ আমার সঙ্গে ছিল। শুভেন্দু বলেন, যে দিন প্রথম আমি কালীঘাটে গিয়ে মাকে প্রণাম এবং পুজো দিলাম, সে দিনই মায়ের পা থেকে একটা পদ্মফুল হাতে পড়েছিল। বুঝেছিলাম মা কালীর আশীর্বাদ সঙ্গে আছে।

 

এরপরেই এদিন সন্ধ্যায় কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে মা কালীকে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে যাওয়ার পথে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসে দাঁড়িয়ে পড়ে তাঁর কনভয়। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। এদিন শুধু কালীঘাটেই নয়, চেতলার একটি মন্দিরের পুজোতেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.