তারাতলা বিভীষিকা
Taratala Disaster

মেয়ের আবদারে কাজে যাননি, যমদুয়ার থেকে তারাতলার শ্রমিক বাবাকে ফেরাল খুদে

মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ভগবানকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন ধর্মেন্দ্র। বলেন, "মেয়েই আমার লক্ষ্মী। ভাগ্যিস ওর কথা শুনেছিলাম। না শুনলে আমিও থাকতাম না।"

Advertisement
সোমনাথ রায়
সোমনাথ রায়

শেষ আপডেট: জুন ২৭, ২০২৬, ১৩:২৩

options
link
মেয়ের আবদারে কাজে যাননি, যমদুয়ার থেকে তারাতলার শ্রমিক বাবাকে ফেরাল খুদে
মেয়ের আবদারে বাড়িতে থাকায় প্রাণ বাঁচল তারাতলার ধর্মেন্দ্রর। নিজস্ব চিত্র

সবে ফুটেছে দিনের আলো। আড়মোড়া ভেঙে জাগছেন সকলে। পেটের টানে ঘুম থেকে উঠে বেরনোর তোড়জোড় করছিলেন জগদ্দলের মোমিনপুরের ধর্মেন্দ্র চৌধুরী। বাদ সাধল মেয়ে। বাবার কাছে খুদে কন্যার আবদার আজ আর কাজে যেতে হবে না। একটু দোনামনা করলেও শেষমেশ আর কাজে যাননি। আর সে কারণেই প্রাণে বাঁচলেন শ্রমিক বাবা। ‘ও না থাকলে কী যে হত’, মৃত্যুকে এড়িয়ে বলছেন ধর্মেন্দ্র।

Advertisement
Taratala Disaster: Left workers' union informed against Asgar Ali to port authorities long before the disaster
তারাতলায় গোডাউনের ধ্বংসস্তূপে জারি উদ্ধারকাজ। ছবি: সুখময় সেন

তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ গুদামে শ্রমিকের কাজ করতেন ধর্মেন্দ্র। দৈনিক ৭০০ টাকা পেতেন তিনি। বুধবার কাজে গেলে আরও ৩০০ টাকা অতিরিক্ত পাবেন বলেই আশ্বাস দিয়েছিলেন ঠিকাদার। গরিবের সংসারে একটু বেশি পয়সা উপার্জনের সুযোগ কে-ই বা হাতছাড়া করতে চায়। তাই তো, বুধবার কাকভোরে খাবারদাবার গুছিয়ে বেরনোর তোড়জোড়ও শুরু করে দেন। ছোট্ট মেয়ে অবশ্য টাকাপয়সা, সংসার খরচ জোগানের মরিয়া চেষ্টা যে কী, তা বোঝে না। সে শুধু চায় বাবার পরম স্নেহের সান্নিধ্য। সে কারণেই বাবা কাজে যান, তা চায়নি। ঘুমচোখ খুলে বাবার কোমর জড়িয়ে আবদার করেছিল, আজ আর কাজে যেতে হবে না। মেয়েকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেন। পরে অবশ্য নাছোড়বান্দা মেয়ের আবদার ফেরাতে পারেননি। বাড়তি উপার্জনের ‘মোহ’ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেন আজ আর কাজে যাবেন না। মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাবেন।

Advertisement
Taratala Disaster: Rescue operation of army
তারাতলার ‘তাসের ঘরে’ ত্রাতা সেনাই। ছবি: অমিত মৌলিক

বিকেলের দিকে জানতে পারেন ঠিক বেলা ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে নির্মীয়মাণ কারখানা। কারখানা থেকে বহু কিলোমিটার দূরে বসেও শিউরে ওঠেন। মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ভগবানকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন ধর্মেন্দ্র। শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর পরিবর্তে কাজে যাওয়া জখম সন্দীপকে দেখতে যান ধর্মেন্দ্র। বলেন, “মেয়েই আমার লক্ষ্মী। ভাগ্যিস ওর কথা শুনেছিলাম। না শুনলে আমিও থাকতাম না।” যমদুয়ার থেকে বাবাকে ফেরাল ছোট্ট মেয়ে। খুদের কথা বলতে গিয়ে চোখের কোণে চিকচিক করছে জল।

Advertisement
Taratala Disaster: WB govt forms panel to assess safety of Kolkata’s under-construction buildings
তারাতলা বিপর্যয়স্থলে উদ্ধারকাজ। নিজস্ব চিত্র

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.