শিয়ালদহ স্টেশনে উদ্ধার ঘর পালানো দুই কিশোর-কিশোরী

অন্যদিকে, বাহাদুরির জন্য পুরস্কৃত তিন খুদে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০১৮, ১৩:৫৪

options
link
শিয়ালদহ স্টেশনে উদ্ধার ঘর পালানো দুই কিশোর-কিশোরী

সুব্রত বিশ্বাস: কম্পিউটর নিয়ে সারাদিন পড়ে থাকায় বাবার বকুনিতে ঘর ছাড়ল কিশোর। আর এক কিশোরী অভাবের তাড়নায় কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল ঘর ছেড়ে। গন্তব্য দু’জনেরই অজানা। ফলে শিয়ালদহ স্টেশনে এসে দু’জনেই উপযুক্ত পথ পেল না। ফলে স্টেশনে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে ঘোরাঘুরি ছাড়া উপায় ছিল না। গভীর রাতে দু’জনকে স্টেশনের দু’টি জায়গা থেকে উদ্ধার করল আরপিএফ।

Advertisement

কিশোরের নাম ঋষিণ দাস (১৩)। যাদবপুর ১৯ ডি গল্ফ ক্লাব রোডের এসবিআই অফিসার কমপ্লেক্সের বাসিন্দা রাজু দাসের ছেলে। সারাদিন কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকায় বাবার বকুনিতে অভিমানে ঘর ছাড়ে ঋষিণ। এদিক ওদিক ঘুরে পৌঁছে যায় শিয়ালদহ স্টেশনে। গভীর রাতে টহলরত আরপিএফের চোখে পড়ে ঋষিণ। এর পর জিজ্ঞাসাবাদে বাড়ির সন্ধান পেলে বাবা রাজু দাসকে খবর দেয় আরপিএফ। এর আগে যাদবপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন রাজু দাস। বাড়ির চরম দারিদ্রতা সহ্য করতে না পেরে কলকাতায় কাজের সন্ধানে এসে শিয়ালদহে আরপিএফ কর্মীদের নজরে পড়ে এক কিশোরী। এর পর তাকে উদ্ধার করে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেন আরপিএফের দক্ষিণ পোস্টের কর্মীরা। কিশোরীর নাম রেখা হাজরা (১২)। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বালুয়ার বাসিন্দা হলেও কোনও মোবাইল নম্বর দিতে না পারায় চাইল্ড লাইন হেফাজতে তাকে তুলে দেওয়া হয়।

Advertisement

অন্যদিকে, তিন খুদের বাহাদুরিতে শনিবার বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল বর্ধমান-ব্যান্ডেল লোকাল (৩৭৭৮২)। আর তার স্বীকৃতি চারদিনের মধ্যেই মিলল। তিন খুদেকে তিন হাজার টাকা করে পুরস্কারের পাশাপাশি বাহাদুরির জন্য শংসাপত্র দিল রেল। সঙ্গে স্কুল ব্যাগ পড়ার সরঞ্জাম আর ভালবাসা। শনিবার সকালে বর্ধমান মেন শাখার সিমলাগড় আর পাণ্ডুয়ার মাঝে লাইনে ফাটল দেখতে পায় ওই তিন খুদে রূপা বৈদ্য, অনিল সিং ও শুভ মণ্ডল। ঘন কুয়াশার আর ঠান্ডায় বাড়ি থেকে লাল কাপড় নিয়ে আসে তারা। এর পর কাপড় লাঠিতে ঝুলিয়ে জানাতে থাকে বিপদ সংকেত। এই সময় বর্ধমান-ব্যান্ডেল লোকালটি চলে আসে। ট্রেনটি দাঁড়িয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে গার্ড পাণ্ডুয়া স্টেশনে খবর দেন। বড়সড় দুঘর্টনা থেকে রক্ষা পায়  ট্রেনটি। এই কৃতিত্বের স্বীকৃতিতে এদিন প্রত্যেককে নগদ ৩০০০ টাকা, শংসাপত্র ও পড়ার সরঞ্জাম তুলে দেন হাওড়ার ডিআরএম মনু গোয়েল। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই কাজের জন্য তাদের সম্মান জানাল রেল। মানবকল্যাণে বরাবর তারা যাতে এই কর্মদক্ষতা দেখাতে পারে সেই জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করতে এই প্রয়াস রেলের।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.