Trinamool office

ভাঙনের মরশুমে উঠেই গেল বাইপাসের তৃণমূল কার্যালয়! বাড়ির দখল নিলেন মালিক

২০২২ সালে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল ওই বাড়িটি।

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুন ১৭, ২০২৬, ১১:৪৫

options
link
ভাঙনের মরশুমে উঠেই গেল বাইপাসের তৃণমূল কার্যালয়! বাড়ির দখল নিলেন মালিক
ভাঙনের মরশুমে উঠেই গেল বাইপাসের তৃণমূল কার্যালয়! বাড়ির দখল নিলেন মালিক

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডালপালা মেলেছিল তৃণমূল। কালীঘাটের পাশাপাশি বাইপাসের ধারে কার্যালয় খোলা হয়েছিল দলের কাজের জন্য। ভাঙনের মরশুমে উঠেই গেল সেই কার্যালয়। ইতিমধ্যেই বাড়িটির দখল নিয়েছেন মালিক। এই প্রক্রিয়া সারা হয়ে গেলে কলকাতায় কালীঘাটের বাইরে তৃণমূলের আর কোনও ‘প্রধান কার্যালয়’ থাকবে না।

Advertisement

গত কয়েকদিন ধরেই এই প্রক্রিয়া অল্পবিস্তর চলছিল। মঙ্গলবার ভাড়ায় নেওয়া বাইপাসের ধারের ওই বাড়ির চার ও পাঁচতলা খালি করার কাজ শুরু হয়। সূত্রের খবর, এই দুটি তলা তৃণমূলকে ভাড়াও দেননি মডার্ন ডেকরেটরসের মালিক মন্টু সাহা। দেওয়া হয়েছিল প্রথম তিনটি তলা। কিন্তু তার সঙ্গে উপরের দুটি তলাতেও দলীয় কাজ চলতো। এদিন মন্টুবাবু তাঁর ছেলে ও বউমার সঙ্গে ‘তৃণমূল ভবন’ গিয়েছিলেন। সেখানেই একাধিক নেতার সঙ্গে কথা হয়। তারপর চার ও পাঁচতলায় গিয়ে মন্টুবাবুর ছেলে অমিত ও তাঁর স্ত্রী দাঁড়িয়ে থেকে ঘর খালি করার প্রক্রিয়ার তদারক করেন। সরিয়ে নেওয়া হয় ব্যানার, পোস্টার, চেয়ার। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নিচের তলাগুলিও খালি করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে, এমনটাই দাবি পরিবারের।

Advertisement

২০২২-এ মেট্রোপলিটান বাইপাসের কাছে এই বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয় পার্টির সদর দপ্তর চালানোর জন্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বছরের মে মাসে একেবারে পুজো, যজ্ঞ করে এই বাড়ি থেকে পার্টি অফিসের কাজ শুরু করেন। বাড়িতে ছিল লিফট, বৈঠকের জন্য ছোট ছোট ঘর, সিসিটিভি, ঢালাও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একেবারে কর্পোরেট ধাঁচে চলত মমতা-অভিষেকের এই তৃণমূল পার্টি অফিস। মন্টুবাবুর পরিবার সূত্রে দাবি, ২০২৫ পর্যন্ত এই বাড়ি ভাড়া দেওয়া ছিল তৃণমূলকে। কিন্তু তারপর মুখে বলে কয়েক মাসের জন্য বাড়িটি তারা রেখে দিয়েছিলেন। তারও মেয়াদ ফুরিয়েছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের একটি অংশের দাবি, চলতি বছর মে মাস পর্যন্ত ভাড়া মেটানো রয়েছে এই বাড়ির। আর তার চুক্তির মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। সেই তথ্য স্থানীয় থানাকেও জানানো হয়েছে। সেটা নিয়ে মন্টুবাবুর সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে বলেও জানায় নেতৃত্ব। মঙ্গলবার তার মধ্যেই বাড়ি আংশিক খালি করার প্রক্রিয়া চলেছে।

Advertisement

যদিও গত কয়েকদিন ধরে বাড়ির অধিকার ফিরে পেতে একাধিকবার হত্যে দিতে হয়েছে মন্টুবাবুকে। সেই ছবি সামনেও এসেছে। সোমবার তিনি দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর সঙ্গে দেখা করেছিলেন এই বাড়িতেই। মঙ্গলবারও যান। কয়েকজনের সঙ্গে কথার ফাঁকে তৃণমূলের এই পরিণতি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন বলেও দাবি একটি সূত্রের।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.