বহুদিনের ইচ্ছে ছিল কলকাতা দেখার। মামার কাছেই গল্প শুনেছিল, উঁচু বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে অনেএএএএক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। উঁকি দেয় উঁচু উঁচু ফ্ল্যাট বাড়ি, হুগলি ব্রিজ আরও কত কী…। তখন থেকেই মনে মনে স্বপ্ন বোনা শুরু। ভেবেছিল, একদিন আমিও নিজের চোখে দেখব শহরটাকে। মামারবাড়ি বেড়াতে এসে যেমন ভাবা, তেমন কাজ। মামার কাছে বায়না জুড়ল ‘আমিও যাব তোমার সঙ্গে। ছাদ থেকে কলকাতা দেখব।’ ভাগ্নের ইচ্ছেপূরণ করতে হাত ধরে তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউনে নিয়ে গিয়েছিল মামা। খালেক ওই গোডাউনের শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বুধবার ভাগ্নেকে সঙ্গে করে নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদে ওঠার পরপরই আচমকা বিপর্যয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ভাগ্নে সাহিলের। দু’দিন যমে-মানুষে টানাটানির পর শেষরক্ষা হল না মামারও।
আরও পড়ুন:
খালেকের ভাই নুর আলম সর্দার জানিয়েছেন, “দাদা খালেক সর্দার প্লাম্বারের কাজ করতেন মুম্বইতে। করোনাকালে মুম্বই থেকে চলে এসেছিলেন। খুঁজেপেতে কাজ জোগাড় করেছিলেন তারাতলার গোডাউনে। ভাগ্নে সাহিল ক্লাস টেনে পড়ে। ছুটিতে এসেছিল আমাদের বাসন্তির বাড়িতে। বুধবার বায়না করে দাদার সঙ্গে তারাতলায় আসে কলকাতা দেখতে। তারপর সব শেষ।”চাঙড় ভেঙে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সাহিল। শনিবার দুপুরে এসএসকেএম ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসাধীন খালেকের মৃত্যু হয়। বাড়িতে এক ছেলে-এক মেয়ে। সংসারের একমাত্র রোজগেরে ছিল খালেক। স্বামীর মৃত্যুতে শোকে পাথর স্ত্রী।
শনিবার এসএসকেএমে আহতদের দেখতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসক ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, আহতদের অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের দ্রুত ছুটির বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। প্রাক্তন শ্রমমন্ত্রী অনাদি সাহু আসেন আহতদের সঙ্গে দেখা করতে। সব মিলিয়ে তারাতলার ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত। এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারে এই মুহূর্তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন দু’জন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
১০৮ জন উদ্ধার হলেও এখনও নেপালে নিখোঁজ ২৭৫ ভারতীয়, জানাল বিদেশমন্ত্রক
-
গাড়ি থামিয়ে জোর করে টাকা আদায়! সাসপেন্ড কলকাতা পুলিশের দুই কর্মী
-
অশোকনগরে শুরু তেল উৎপাদন, তৃণমূলকে দুষে শমীক লিখলেন, ‘শক্তিশালী হোক বাংলার অর্থনীতি’
-
স্মার্টওয়াচ অতীত, শরীরের খুঁটিনাটি হিসেব রাখবে অত্যাধুনিক ‘টেম্পল’, কবে আসছে ভারতের বাজারে?
-
পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স! ‘কাউকে ছাড়া হবে না’, কড়া বার্তা মন্ত্রী দিলীপের