উচ্ছেদের ধাক্কা সামলে হাওড়া স্টেশনে পানীয় জলের চাহিদা মেটাবে ভেন্ডিং মেশিন

স্টেশনের অধিকাংশ স্টলই ইতিমধ্যে ভেঙেছে রেল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮, ১৬:৪৬

options
link
উচ্ছেদের ধাক্কা সামলে হাওড়া স্টেশনে পানীয় জলের চাহিদা মেটাবে ভেন্ডিং মেশিন

সুব্রত বিশ্বাস: আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়া মাত্রই হাওড়া স্টেশন থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে সমস্ত ভেন্ডিং স্টল। শনিবার ভোর থেকেই এই নিয়ে স্টেশন চত্বর উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে বড় গন্ডগোলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ স্টল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে চরম আকাল দেখা দিয়েছে পরিশ্রুত পানীয় জলের। শহরে গরম এখনও পুরোপুরি না পড়লেও আবহাওয়া অস্বস্তিকর হওয়ায় বারবার জল তেষ্টা পাচ্ছে। যাত্রীদের যাতে গরমে জলকষ্টে ভুগতে না হয়, তাই স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চারটি জলের ভেন্ডিং মেশিন বসানো হয়েছে।

হাওড়া স্টেশনে হকার উচ্ছেদ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষর সঙ্গে ভেন্ডারদের বিবাদ এখন তুঙ্গে। শুক্রবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে মামলাকারীদের আইনজীবী অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বেআইনিভাবে ভেন্ডারদের  উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কারণ, রেলই স্টল বসানোর জন্য লাইসেন্স দিয়েছিল স্টল মালিকদের। তাতে বলা রয়েছে ৬০ বছর পর্যন্ত তাঁরা স্টল চালাতে পারবেন। পালটা রেলের আইনজীবী অশোক চক্রবর্তী ও সনজিৎ ঘোষ বলেন, রেল স্টল চালানোর কোনও লাইসেন্স দেয়নি। যা দেওয়া হয়েছে তা ফুড সেফটি লাইসেন্স। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি ৯ ফেব্রুয়ারির পরে হাওড়া স্টেশনে ভেন্ডার উচ্ছেদের উপর যে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছিলেন তা প্রত্যাহার করে নেন। পাশপাশি ভেন্ডারদের  আবেদনও খারিজ করে দেন।

Advertisement

[কারমেলের পর কমলা গার্লস, নবম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার দায়ে ধৃত অশিক্ষক কর্মী]

স্টেশন থেকে যাবতীয় স্টল তুলে দেওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। স্টেশনে মিলছে না কেক-চা বা রুটি। ফলে দূর দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা পড়েছেন মহা সমস্যায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে পানীয় জল নিয়ে। আর তাই তড়িঘড়ি স্টেশনে বসল জলের মেশিন। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়েছে জল বিক্রি। রেল সূত্রে খবর, দ্রুতই আরও জলের মেশিন বসানো হবে। আইআরসিটিসির গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার দেবাশিস চন্দ্র জানান, স্টেশন চত্বরে পুরনো স্টলগুলি খুলে ফেলায় পানীয় জলের সমস্যা তৈরি হতে পারত। চাহিদা মেটাতে জলের মেশিনের টেন্ডার ডাকা হয়। এই ধরনের মেশিন প্রথমে বসানো হয় বালিগঞ্জ, কৃষ্ণনগর স্টেশনে। পরে বসে শিয়ালদহ, দমদম ও হাওড়ার মতো বড় স্টেশনে।

Advertisement

এই মেশিনে এক এক গ্লাস জলের দাম ১ টাকা। ৫০০ মিলি জল পাওয়া যায় ৩ টাকা, এক লিটার জল মেলে ৫ টাকায়। বোতল নিলে দিতে হবে অতিরিক্ত ৩ টাকা। ৫ লিটার জল বোতল-সহ কিনতে লাগবে ২৫ টাকা। রেল সূত্রে খবর, শুক্রবার থেকে মেশিন বসতেই যাত্রীদের কাছ থেকে বিপুল সাড়া মিলেছে। তবে দৈনিক প্রায় ১৫ লক্ষ যাত্রীদের পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে যে এই কয়েকটি মেশিন পর্যাপ্ত নয়, এমনটাই মনে করছেন নিত্যযাত্রীরা। এদিকে, প্রায় ৬০ বছরেও বেশি পুরনো ভেন্ডিং স্টলগুলি উচ্ছেদে চরম বিপাকে পড়েছেন ভেন্ডাররা। দৈনিক ৮-১০ লক্ষ টাকার চা, জল, বিস্কুট, কেক বিক্রি হত এই স্টলগুলির মাধ্যমে। হাওড়ায় নয়্নয় করে অন্তত ৯২টি স্টল ও ট্রলি ছিল। যার মধ্যে ৬২টি ভেঙে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। বাকি ৩০টি স্টলে সবরকমের খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে আইআরসিটিসি। এবার সেই সব স্টলও ভেঙে দেওয়া হবে। সেইমতো প্রস্তুতি নিচ্ছে রেল। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে তৈরি রয়েছে আরপিএফ ও রেলের ইঞ্জিনিয়াররা।

Advertisement

দেখুন ভিডিও: 

[ভারতী ঘোষ ও সুজিত মণ্ডলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি]

[ছবি ও ভিডিও: প্রতিবেদক]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.