West Bengal Budget

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও মমতার বাজেট ভিশন কর্মসংস্থান, সব প্রান্তকে ছোঁয়ার চেষ্টা

রাজ্যের সব প্রান্তের সব শ্রেণির মানুষকে কোনও না কোনওভাবে ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে বাজেটে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫, ১৮:১৫

options
link
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও মমতার বাজেট ভিশন কর্মসংস্থান, সব প্রান্তকে ছোঁয়ার চেষ্টা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতিকূলতা নেহাত কম নয়। রাজ্যের বিপুল প্রাপ্য মেটায়নি কেন্দ্র। ১০০ দিনের কাজ, বাংলার বাড়ির মতো প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পুরোপুরি বন্ধ। অথচ রাজ্য থেকে প্রাপ্ত বিপুল করের টাকার ভাগ আগের মতোই দিতে হচ্ছে কেন্দ্রকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেন, রাজ্যকে আর্থিকভাবে অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। তবে এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ছাব্বিশের ভোটের আগের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সাধ্যমতো রাজ্যের সব ইস্যুতে আলোকপাত করার চেষ্টা করল তৃণমূল সরকার।

Advertisement

এমনিতে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আমলে প্রায় শ’খানেক জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি চলে। সেই প্রকল্পগুলি চালাতে নিতান্ত কম খরচ হয় না। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের খরচ সত্ত্বেও সুপরিকল্পিত বাজেটে, সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও রাজ্যের সব প্রান্তের সব শ্রেণির মানুষকে কোনও না কোনওভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হল। সরকারি কর্মী থেকে প্রান্তিক কৃষক, বন্যা রোধে পদক্ষেপ থেকে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন। রাজ্যের যে যে প্রান্তে টুকটাক সমস্যা ছিল, সবটাই সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে বাজেটে।

Advertisement

রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। মুখ্যমন্ত্রী আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাজেটে সাধ্যমতো সরকারি কর্মীদের ডিএ’র কথা ভাবা হবে। সেই মতো এবারের বাজেটে আরও ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হল। যদিও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের ডিএ বৃদ্ধি সত্ত্বেও কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাকটা অনেকটাই। তবে এ প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার, দেশের অন্যান্য প্রান্তের তুলনায় রাজ্যের জীবনযাপনের খরচ অনেকটাই কম। তাছাড়া কেন্দ্রের পেনশন প্রকল্প এবং রাজ্যের পেনশন প্রকল্পের মধ্যেও আকাশ-পাতাল ফারাক। সব দিক বিবেচনা করলে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি নিতান্ত কম নয়।

Advertisement

শুধু সরকারি কর্মীদের জন্য নয়, এই বাজেট সুখবর বয়ে এনেছে প্রান্তিক নাগরিকদের জন্যও। এবারের বাজেটে ১৬ লক্ষ নতুন বাংলার বাড়ি তৈরির জন্য বরাদ্দ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সাম্প্রতিক কালে কলকাতার বেশ কিছু বহুতলে বাড়ি হেলে পড়া নিয়ে একটা সমস্যা দেখা গিয়েছে। ওই আবাসনগুলির বাসিন্দারাও এই বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আওতায় আসবেন। গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য গত কয়েক বছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। এ বছর সেই বরাদ্দের পরিমাণ আরও দেড় হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।

চলতি বছর গত দেড় দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে রাজ্য। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। ২০০ কোটি টাকা খরচে ‘নদী বন্ধন’ প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যা রোধে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হবে ওই প্রকল্পে। সঙ্গে হবে কর্মসংস্থানও। ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্দশা ঘোচানোর উদ্যোগও দেখা গেল পঁচিশের রাজ্য বাজেটে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য আলাদা নতুন করে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পে ৩৪০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই খরচ করা হয়েছে। আগামী ৩ বছরে ওই প্রকল্পে বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া উত্তরবঙ্গের জন্য চা শিল্পে কৃষি আয়কর ছাড়ের সুবিধা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের আশা-অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মোবাইল ফোন দিতে ২০০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।

সার্বিকভাবে দেখতে গেলে উত্তর থেকে দক্ষিণ, একেবারে প্রান্তিক থেকে চাকুরীজীবী, রাজ্যের সব প্রান্তের সব শ্রেণির মানুষকে কোনও না কোনওভাবে ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে এই বাজেটে। সীমিত ক্ষমতার মধ্যে পরিকাঠামোগত উন্নয়নও করা হয়েছে। বাজেটের পর সেভাবে ইস্যু না পেয়ে কর্মসংস্থানের দাবি তুলে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছে বিজেপি। যদিও কর্মসংস্থানের দিকটিও নজর রাখা হয়েছে বাজেটে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন স্রেফ দেউচা-পচামি কয়লা প্রকল্পে এক লক্ষ কর্মসংস্থান হবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.