সময়সীমা বাড়িয়েও বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার, কমিশনের সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি

মনোনয়নের সময়সীমা বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি বাতিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০১৮, ১২:১২

options
link
সময়সীমা বাড়িয়েও বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার, কমিশনের সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নির্দেশিকা জারি করেও পিছু হটল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে কমিশন জানাল, আজ আর মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে না। সোমবারই কমিশন নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়েছিল, মঙ্গলবারও পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। কিন্তু মঙ্গলবার সেই নির্দেশিকা বাতিল করল কমিশন। ফের একবার বিভ্রান্তি ছড়াল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। পূর্ব নির্দেশিকা অনুযায়ী, আজ জেলায় জেলায় বিডিও, এসডিও দপ্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীদের লম্বা লাইন পড়েছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার। কমিশনের নয়া সিদ্ধান্তে রীতিমতো আশাহত তাঁরা।

Advertisement
নয়া বিজ্ঞপ্তি
নয়া বিজ্ঞপ্তি
[২৩ কিমি বাইক চালিয়ে মনোনয়ন জমা, পুরুলিয়ায় চমক পূর্ত কর্মাধ্যক্ষর]

সোমবার রাতে আচমকা নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। নির্দেশিকা দিয়ে বাড়ানো হয় পঞ্চায়েতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে বেলা তিনটে পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে বলে জানায় কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে উল্লেখ করেই সময়সীমা বৃদ্ধির কথা জানায় কমিশন। জেলা প্রশাসনগুলিকেও রাতেই পৌঁছে দেওয়া হয় বার্তা। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল ছিল মঙ্গলবার সকালেও। যদিও বিরোধীদের আসলে কী হাল, তা সোমবারই স্পষ্ট হয়ে যায়। সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠলেও, এমন অভিযোগ নেই এমন হাজার হাজার গ্রামে মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি তাঁরা। ফলে সময়সীমা বাড়লেও যে তাঁরা মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন, তার নিশ্চয়তা ছিল না। তবুও অনেকে আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু কমিশনের নয়া ঘোষণায় সে গুড়ে কার্যত বালি।

Advertisement
[সেজেগুজে সাড়ম্বরে চলেছেন মহিলা প্রার্থী, বিয়েবাড়ির লোক ভেবে ভ্রম বাসিন্দাদের]

তাহলে এখন প্রশ্ন উঠছে, সময়সীমা বাড়িয়েও কেন সিদ্ধান্ত বদল কমিশনের? আইন অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোনও বড় দুর্ঘটনা ছাড়া এইভাবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো যায় না। কিন্তু সুপ্রিম নির্দেশ উল্লেখ করেই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। কিন্তু মঙ্গলবার নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে কমিশন। সূত্রের খবর, এদিন কমিশনের দপ্তরে একপ্রস্থ বৈঠক করেন নির্বাচনী আধিকারিকরা। সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। শেষমেশ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। যথারীতি আচমকা বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারে বিভ্রান্তি ছড়ায় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। এই প্রসঙ্গে কমিশনকে কটাক্ষ করে মেরুদণ্ডহীন বলেন বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী। এদিকে কমিশনের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে বিজেপি। এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘যাঁরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি, তাঁদের মনোনয়ন জমা সুনিশ্চিত করতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। এই সংক্রান্ত নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের ১৪,১৫,১৬ নং অনুচ্ছেদে অর্ডারে আছে। এটা নিয়েই আজ হাই কোর্টে যাচ্ছে বিজেপি।’ তারপরই কমিশনকে তোপ দেগে বলেন, ‘চাপে পড়েই এই সিদ্ধান্ত। কল্যাণ ব্যানার্জিরা চাপ দিয়েছেন।’ শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনের অভিযোগে সরব সুজনও। বলেন, ‘৪ মন্ত্রীরা আজ সকালে কমিশনারের কাছে গিয়েছিলেন। তারপর এই প্রত্যাহার। মন্ত্রীরা কী করতে গিয়েছিলেন?’

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.