বাংলার বহুরূপীদের বিবর্তনে সেজে উঠছে ৬৬ পল্লির পুজো

বাংলার অতীতে চোখ এই পুজো উদ্যোক্তাদের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯, ১৮:০২

options
link
বাংলার বহুরূপীদের বিবর্তনে সেজে উঠছে ৬৬ পল্লির পুজো

পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন ৬৬ পল্লি-র পুজো প্রস্তুতি৷

Advertisement

সরোজ দরবার: ছিনাথ ওরফে শ্রীনাথ বহরূপীকে মনে আছে? শরৎবাবুর উপন্যাসের চরিত্র হলেও, বাঙালি কাছে সে যেন খুব চেনা এক মানুষ। এই সেদিনও বাংলার রাস্তাঘাটে নিয়ত ছিল বহুরূপীর আনাগোনা। কথাশিল্পী সেই বহুরূপীদের অমর করে রেখেছেন তাঁর অনুনকরণীয় সরস লেখনীতে। ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের ওই মজার অংশ বোধহয় বাঙালি পাঠকমাত্রই ভুলতে পারেন না। সেই যে শ্রীনাথ বাঘ সেজে এল আর গোটা বাড়িতে হুলস্থূল। তারপর অনেক কাণ্ড কারখানার পর বোঝা গেল বাঘ-টাঘ নয়, আসলে শ্রীনাথই তার সাজে সবাইকে চমকে দিয়েছে। তাতেই তুলকালাম। এককালে বাংলার রাস্তাঘাটে দেখা যেত এই বহুরূপীদের। নানা সাজে তাঁরা বিলোতেন বিনোদন। এখন বহু বিনোদনের ভিড়ে তাঁরা বিলুপ্তপ্রায়। এই বহুরূপীদেরই পুজোর আবহে ফিরিয়ে আনছে রাসবিহারীর ৬৬ পল্লি।

Advertisement

এবার পুজোয় মাঝি-মাল্লাদের সংগ্রামের কাহিনি বলবে দমদম তরুণ দল ]

Advertisement

থিমের পুজোর চোখ যেমন ভিনরাজ্যে বা ভিনদেশে, তেমনই এই বাংলার সংস্কৃতিতেও। আর তাই ৬৬ পল্লি-র এবারের থিম ‘বিবর্তন: রংহীন জীবন’। বিষয়টা কী? একসময় এই বাংলা বেশ ভালভাবেই চিনত বহুরূপীদের। পরিবার নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন তাঁরা। মানুষকে উপহার দিতেন বিনোদন। এ এক শিল্পও বটে। ভেক অনেকেই ধরতে পারেন, কিন্তু সকলেই বহুরূপী হয়ে উঠতে পারেন না। দক্ষতা, পারফেকশন না থাকলে পুরো অভিনয়টাই জলে। বহুরূপীদের বৈচিত্রময় দুনিয়াই এই পুজো উদ্যোক্তাদের থিম ভাবনা। নানা সাজে বিনোদন ফিরি করাই ছিল বহুরূপীদের রুটিরুজি। আজ তাঁরা বাংলা থেকে নিশ্চিহ্নপ্রায়। কেমন আছেন বহুরূপীরা? কীভাবে টিকে আছে তাঁদের শিল্প? থিমশিল্পী সুমি মজুমদার ও শুভদীপ মজুমদারের চোখ সেদিকেই। বহুরূপীদের বিবর্তন, রঙচঙে জীবন থেকে রংহীন হয়ে ওঠা- তাঁরা তুলে ধরছেন এবছরের থিমে। রঙিন জীবনের উচ্ছ্বাস থেকে রংহীনতার যন্ত্রণা উঠে আসবে রঙের খেলাতেই। সাজিয়ে রাখা সারি সারি আরশিতে যেন ধরা পড়বে সেই বিবর্তনের প্রতিফলন। থাকছে বহুরূপী শিল্পের বহু নির্দশনও। সঙ্গতি রেখে প্রতিমা শিল্পী অরুণ পালও মা দুর্গাকে সাজাচ্ছেন বহুরূপীর আদলেই। আর পুরো মণ্ডপকে বহুরূপীর আবহে ভরিয়ে তুলবেন গৌতম ব্রহ্ম।

অসুরদলনের পর কোথায় ফিরে গেলেন মহামায়া, পুজোয় চেনাবে বেহালা ক্লাব ]

দিনে দিনে বাঙালির দুর্গাপুজো আধুনিক হয়েছে। লেগেছে কর্পোরেট ছোঁয়া। এসেছে হরেক থিমের বৈচিত্র। তবে আধুনিকতার শর্তই বোধহয় অতীতকে আত্মস্থ করে এগিয়ে যাওয়া। ৬৬ পল্লির ভাবনা এবার তাই-ই। বাংলার অতীত তথা বৈচিত্রময় সংস্কৃতির এক পর্বকে আধুনিক সময়ের প্রেক্ষিতে উপস্থাপনার মাধ্যমে, এবারের পুজোকে রঙিন করে তুলতে তৈরি উদ্যোক্তারা। যদি বাঙালির আধুনিকতা বহুরূপীদের এই পুজোর মাধ্যমে চিনে নিতে পারে, তবেই বোধহয় সার্থকতা।

দেখুন প্রস্তুতির ভিডিও:

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.