অর্ণব আইচ: গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইলে টানা কথা বলছিল অ্যাপ ক্যাবের চালক। প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন আরোহী। সেই ‘অপরাধে’ তাঁকে ও তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে গাড়ি থেকে জোর করে নামানোর চেষ্টা করল চালক। নামতে না চাইলে অ্যাপ ক্যাবের চালক আরোহীর হাত ধরে টেনে তাঁকে আঘাত করে। স্বামীকে আক্রান্ত হতে দেখে ক্যাব থেকে রাস্তায় নামতে বাধ্য হন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শেষ পর্যন্ত ১০০ ডায়ালে লালবাজারে ফোন করে রক্ষা পান আরোহী। কিন্তু আতঙ্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না দম্পতির।
বিচারবিভাগের কর্মী সুমিতরঞ্জন ভৌমিক বৃহস্পতিবার রাতে কুলবন্ত সিং নামে ওই অ্যাপ ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে গড়ফা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই ওই চালককে গড়ফা থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। যেখানে চলন্ত গাড়িতে চালকের মোবাইলে কথা বলা নিয়ে সারা রাজ্যজুড়ে পুলিশ যথেষ্ট কড়া হয়েছে, কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ শহরবাসীকে সতর্ক করেছে, সেখানে কলকাতার বুকে এই ঘটনাটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
[একুশের মহামিছিলে কড়া নিরাপত্তা, আকাশপথে নজরদারি করবে ‘দুর্দান্ত’ ]
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সুমিতরঞ্জনবাবু তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। দক্ষিণ কলকাতার উত্তর পূর্বাচলে তাঁর শ্বশুরবাড়ি। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট নাগাদ নিউ আলিপুরে বাড়ি ফেরার জন্য একটি অ্যাপ ক্যাব বুক করেন। দম্পতির সঙ্গে প্রচুর জিনিসপত্রও ছিল। বাইপাসের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় চালকের মোবাইলে একটি ফোন আসে। চালক কথা বলতে শুরু করে। সুমিতরঞ্জনবাবু জানান, ফোন করতে করতে গাড়ি চালানো মানে যে কোনও সময়ই ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। সঙ্গে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। তাই তিনি কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি। চালককে তিনি অনুরোধ করেন, ফোনে কথা না বলতে। বরং বলেন যে, চালক গাড়ি থামিয়ে কথা শেষ করলেও তাঁদের আপত্তি নেই।
[নিম্নচাপকে শক্তি যোগাচ্ছে অক্ষরেখা, বৃষ্টিস্নাত একুশের মঞ্চ]
অভিযোগ, এত অনুরোধের পরও কর্ণপাত করেনি চালক কুলবন্ত। উপরন্তু হুমকি দিয়ে দম্পতিকে গাড়িতে চুপ করে বসে থাকতে বলে। একইসঙ্গে কথা চালিয়ে যেতে থাকে ফোনে। আরোহী দম্পতি তার প্রতিবাদ জানান। সাঁপুইপাড়ার কাছে বিহারী মণ্ডল রোডে অ্যাপ ক্যাব এলে হঠাৎই চালক হুমকির সুরে তাঁদের গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলে। আরোহী জানান, তা কোনওমতে সম্ভব নয়। কারণ তিনি অ্যাপ ক্যাব সংস্থার মাধ্যমে গাড়ি বুক করেছেন। এ ছাড়াও গাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়ি ধরার মতো শরীরের অবস্থা তাঁর স্ত্রীর নেই। বাদানুবাদের মধ্যেই গাড়ি থামিয়ে চালক নেমে এসে পিছনের গেট খোলে। সুমিতরঞ্জনবাবুর হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়। তিনি নামতে না চাইলে তাঁর হাতে আঘাত করে। তাঁকে জোর করে বাইরে টেনে নামায়। স্বামীর উপর হামলা হতে দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন সুমিতরঞ্জনবাবুর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। তিনি চিৎকার করে প্রতিবাদ করে উঠলে এলাকার বাসিন্দারা জড়ো হয়ে যান। এর মধ্যেই সুমিতরঞ্জনবাবু ১০০ ডায়ালে ফোন করলে লালবাজারের নির্দেশ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গড়ফা থানার পুলিশ। চালক ও গাড়িটিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে অন্য একটি অ্যাপ ক্যাব বুক করে বাড়ি ফেরেন দম্পতি। পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[মোদিতেই ভরসা সংসদের, তীব্র বাদানুবাদের পর আস্থা ভোটে জয় এনডিএ-র]
সর্বশেষ খবর
-
হরমুজ এবার ট্রাম্প প্রণালী! ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই গর্জন মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
কখনও জলে ডুবে, কখনও ঠায় শুয়ে, আচমকা কী হল ‘রামলালে’র?
-
বয়স ভাঁড়ানোর অপরাধে ‘বাংলা’র ক্রিকেটারকে দু’বছরের নির্বাসনে পাঠাল বোর্ড
-
পুজোর আগে বেহাল পিচ রাস্তা মেরামত, বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে কী জানালেন পুর ইঞ্জিনিয়াররা?
-
প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদেশে ত্রিশতরান! দক্ষিণ আফ্রিকায় ইতিহাস হৃদয়ের