সেলুনের ট্রিমার দিয়ে কাটা চুল নেমে আসছে পিঠ বেয়ে। পায়ুদ্বারের খাঁজের লোমশ অংশে তা আটকে থাকছে। ট্রিমার দিয়ে কাটা ওই চুলের গুচ্ছ ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জের মতো তীক্ষ্ণ। ধীরে ধীরে সেই গুচ্ছ প্রবেশ করছে পাযুদ্বারের উপর দিয়ে। সেখান থেকে ফোড়া। অসহ্য যন্ত্রণা। এটাই পাইলনডিয়াল সাইনাস (Pilonidal Sinus)। বিশ্বাস না হলে আবার পড়ুন। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের শল্য চিকিৎসা বিভাগের অধ্যাপক ডা. উৎপল দে জানিয়েছেন, সাইনাস অর্থাৎ শরীরের ভেতর তৈরি হওয়া একটা অস্বাভাবিক সরু নালি। এই নালিতেই ঢুকে থাকে ধারালো চুলের ওই গুচ্ছ। সম্প্রতি বছর একুশের মেডিক্যাল পড়ুয়া অদ্ভুত অসুখ নিয়ে এসেছিলেন চিকিৎসকের কাছে। তাঁর পায়ুছিদ্রের উপরে নিতম্বের খাঁজের মাথায় একটা ফোড়া। সেখানে অসহ্য যন্ত্রণা। বেরচ্ছে পুঁজও।
আরও পড়ুন:
সেই রহস্য সমাধান করতে গিয়েই উন্মোচন হল অসুখের নেপথ্য কারণ। যা প্রকাশিত হয়েছে ‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ কোলোরেকটাল সার্জারি’-তে। ডা. উৎপল দে-র সহলেখক হিসাবে রয়েছেন আলসা সুব্বা, উদিতাংশু দে। কীভাবে মাথার চুল ঢুকছে নাটাল ক্লেফ্ট দিয়ে? ডা. উৎপল দে জানিয়েছেন, দুই নিতম্বের মাঝখানে কোমর থেকে নিচের দিকে নেমে যাওয়া পায়ুদ্বারের উপর স্বাভাবিক খাঁজটা নাটাল ক্লেফ্ট । মাথার কাটা চুল লোমশ ‘নাটাল ক্লেষ্টে’ আটকে যায়। এরপর নড়াচড়ার ফলে একটা রোলিং ও সাকশন এফেক্ট তৈরি হয়। ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জের মতো ধারাল চুল ঢুকে যায় ভেতরে!
তা থেকেই ফোড়া। সংক্রমণ। যেমনটা হয়েছিল ওই যুবকরে। তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল। পায়ুদ্ধদ্বারের উপরের ছিদ্র থেকে পুঁজ বের করার ব্যবস্থা করেন চিকিৎসকরা। পুঁজ বের করা হলেও যুবকের শরীরে থেকে গিয়েছিল সাইনাসটি। সেখান তীব্র ব্যথা। এরপর চিকিৎসকরা ভালো করে পরীক্ষা করে দেখেন নাটাল ক্লেস্টটি লোমশ হয়ে রয়েছে। গোটা অংশটি অস্ত্রোপচার করে বাদ দিয়ে কিস্টোন ফ্ল্যাপের মাধ্যমে মেরামত করা হয়। বাদ দেওয়া অংশটি খতিয়ে দেখতে গিয়ে চিকিৎসকরা দেখেন, সেখানে চুলের বিনুনি! ১৮৩৩ সালে হাবার্ট মেয়ো প্রথম এই রোগের বর্ণনা দেন। রোগটির উৎপত্তি নিয়ে রহস্য ছিল বরাবরই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকান সৈন্যদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ দেখা গিয়েছিল। তখন এই রোগকে বলা হত জিপস ব্যাক।
দীর্ঘক্ষণ জিপে বসে থাকতে হত সৈন্যদের। মনে করা হত অতক্ষণ বসে থাকার কারণে পশ্চাদদেশের চুল ঢুকে যেত পিছনে। কিন্তু এখন যুবকের পাইলনডিয়াল সাইনাসে যে চুল পাওয়া গিয়েছে তা মাথার স্ক্যাল্পের। যদিও চুলের সঙ্গে কোনও হেয়ার ফলিকল নেই। দেখা গিয়েছে, চুলগুলির গড় দৈর্ঘ্য ১ সেমি। চুল অত্যন্ত শক্ত এবং উভয় প্রান্ত ধারালো। ডা. উৎপল দে জানিয়েছেন, ট্রিমার দিয়ে কাটা চুল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ। নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে যে সিদ্ধান্তে আসা গিয়েছে তাতে মনে করা হচ্ছে সেলুনে ট্রিমার দিয়ে কাটা চুল প্রবেশ করছে জামার ভেতর দিয়ে। তা গিয়ে আটকে থাকে পায়ুদ্বারের উপরে। এই অসুখ নাপিতদের আঙুলের ভাঁজে, বগলেও দেখা যেতে পারে। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে সেই চুল ফেলে দেখা গিয়েছে, ছোট শক্ত নলাকার চুলগুলো ইঞ্জেকশনের সুচের মতো।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হিরো মচ্ছরকে কুর্নিশ, ‘বাংলা থেকেও তৈরি হবে রাষ্ট্রবাদী পাইলট’, বললেন শুভেন্দু
-
প্রেমিকার সঙ্গে মোমো ডেট! হাতেনাতে ধরতে সটান স্বামীর গাড়ির বনেটে স্ত্রী, তারপর যা হল…
-
ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের নির্বাচন গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ভীমরতি’তে হাসির রোল
-
‘১৫ দিনের মধ্যে ফিরে আসুন’, দল ভাঙার পরও ‘গদ্দার’দের জন্য দরজা খোলা মমতার!
-
টিম ইন্ডিয়ায় ব্রাত্য! এবার অন্য ভারতীয় দলে এন্ট্রি ভুবনেশ্বরের, এই টুর্নামেন্টে দেবেন নেতৃত্ব