সাফল্য শুধু নম্বরের খাতায় সীমাবদ্ধ নয়; তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্বপ্ন, সাধনা, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার গল্প। সেই অসামান্য যাত্রাপথকে সম্মান জানাতেই ডিসান হসপিটালের উদ্যোগে আয়োজিত হল ‘আরোহণ ২০২৬’। শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় উৎসাহ জোগানোর লক্ষ্যেই এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন।
আরও পড়ুন:
সুরের মূর্ছনায় সূচনা হয় অনুষ্ঠানের। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজন শুরু থেকেই এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর আবহ তৈরি করে। এরপর কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা, অতিথিদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন পর্বে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে মেধা ও সাফল্যের এক অনন্য উদযাপন।
আরও পড়ুন:

‘আরোহণ’ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন বা আরও উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই ডিসান হসপিটাল এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সাফল্যকে জানাল স্বীকৃতি। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় এবং আজীবন শেখার মানসিকতাকে উৎসাহিত করার প্রয়াসও রয়েছে এই কর্মসূচির অন্তরে।
২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘আরোহণ’ পূর্ব ভারতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল। শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতী এবং নিউরোডাইভার্স শিক্ষার্থীদের একই মঞ্চে সম্মান জানিয়ে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল ‘আরোহণ ২০২৫’। দ্বিতীয় বর্ষে এসে সেই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত আকারে আয়োজিত হল, যেখানে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কৃতী শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যামিটি ইউনিভার্সিটি কলকাতার উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) শঙ্কু বসু, ডিসান হসপিটালের সিইও শাওলি দত্ত, গ্রুপ ডিরেক্টর ডা. সৌমিত্র ভরদ্বাজ-সহ বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
অধ্যাপক (ড.) শঙ্কু বসু বলেন, শিক্ষাগত উৎকর্ষতা কেবল ভালো ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শৃঙ্খলা, সৃজনশীলতা এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ। ‘আরোহণ’-এর মতো উদ্যোগ ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের আরও বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।

ডিসান হসপিটালের সিইও শাওলি দত্তের কথায়, ‘আরোহণ’ হল অধ্যবসায় ও সাফল্যের উদযাপন। একজন শিক্ষার্থীর কৃতিত্বের পেছনে যেমন তার নিজের পরিশ্রম থাকে, তেমনই থাকে পরিবার ও শিক্ষকদের অবদান। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত বিকাশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই আগামী প্রজন্মের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্বেরই অংশ।
ডা. সৌমিত্র ভরদ্বাজ বলেন, ডিসান হসপিটাল সবসময় সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশ্বাস করে। ‘আরোহণ’ সেই দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন। আমরা এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সাফল্যের পাশাপাশি সহমর্মিতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সম্মানিত শিক্ষার্থীদের হাতে ‘ডিসান প্রিভিলেজ কার্ড’ তুলে দেওয়া। এই কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ডিসান হসপিটালে চিকিৎসার প্রয়োজনে বেড ভাড়ায় বিশেষ সুবিধা পাবে। ডিসান হসপিটালের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতাকেই আরও একবার তুলে ধরল।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের উৎসাহী অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে সাফল্য, স্বপ্ন এবং সম্ভাবনার এক মিলনমেলা। সম্মাননা পাওয়া শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস এবং পরিবারের গর্ব অনুষ্ঠানের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

‘আরোহণ ২০২৬’ শুধু একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের মেধা, অধ্যবসায় ও সম্ভাবনার প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য। আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তোলার পথে স্বীকৃতি এবং অনুপ্রেরণার যে প্রয়োজন, সেই বার্তাই নতুন করে তুলে ধরল ডিসান হসপিটালের এই উদ্যোগ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
একেই বলে লড়াই! নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনাকে আটকে দিলেন ভোজিনহারা
-
নির্দল থেকে চেয়ারম্যান পদে! তৃণমূলের সমর্থনে কামারহাটির পুরপ্রধান লকেটের দাদা
-
বিধায়কদের ক্লাস করাতে এসে শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওম বিড়লা! মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বাম-তৃণমূল
-
বিজ্ঞান জগতেও সমাদৃত শ্যামাপ্রসাদ! নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার নামকরণে ‘ভারত কেশরী’
-
ব্রিজে ওঠার মুখে গাড়ির উপর ভেঙে পড়ল লোহার বার, বন্ধ বাগুইআটি ফ্লাইওভার