বর্ষা এলেই বাড়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার আতঙ্ক। মশার হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই প্রতিদিন মশা তাড়ানোর ধূপ জ্বালান। কিন্তু যার আপনাকে মশার কামড় থেকে রক্ষা করার কথা, সেটিই যদি ধীরে ধীরে আপনার ফুসফুসের ক্ষতি করে? সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় সামনে এল এমনই উদ্বেগজনক তথ্য। চিকিৎসকদের বড় অংশের মতে, বাজারে বিক্রি হওয়া মশা তাড়ানোর ধূপ ডেঙ্গুর চেয়েও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন:
হোম ইনসেক্ট কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন (এইচআইসিএ)-এর সমীক্ষায় দেশের ১২টি শহরের ১,২৬৪টি পরিবার এবং ৪০৫ জন চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র।
আরও পড়ুন:
সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত এক বছরে ৯৫ শতাংশ পরিবারের কেউ ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হননি। অথচ ৭০ শতাংশ চিকিৎসকের মতে, অনুমোদনহীন মশা তাড়ানোর ধূপ শ্বাসযন্ত্রের জন্য বড় বিপদ। ৬৭ শতাংশ চিকিৎসক মনে করেন, এসব ধূপের ধোঁয়ার ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই সিগারেটের ধোঁয়ার মতো।

বাজারের বড় অংশই নিয়ন্ত্রণের বাইরে
সমীক্ষা অনুযায়ী, বাজারের প্রায় ৮৫ শতাংশই অবৈধ বা নিয়ন্ত্রণহীন পণ্যের দখলে। এসব পণ্যে সরকারি অনুমোদন, সেন্ট্রাল ইনসেক্টিসাইডস রেজিস্ট্রেশন (সিআইআর) নম্বর বা ব্যবহৃত উপাদানের স্পষ্ট তথ্য থাকে না।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, দেশের ৫৯ শতাংশ পরিবার এই ধরনের ধূপ ব্যবহার করে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক পরিবার টানা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন এগুলি জ্বালাচ্ছে।
কেন বাড়ছে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি?
এইচআইসিএ-র সেক্রেটারি ও ডিরেক্টর জয়ন্ত দেশপান্ডের কথায়, স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়া বহু ধূপে বাধ্যতামূলক সিআইআর নম্বরই থাকে না। তাই পণ্য কেনার আগে তার গায়ে সরকারি নিবন্ধন নম্বর রয়েছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করা উচিত। এছাড়া ৮৪ শতাংশ চিকিৎসকের মতে, এসব ধূপ নিয়মিত ব্যবহারের ফলে পরিবারের স্বাস্থ্য ব্যয়ও বাড়ছে।

ভুল ধারণাই ডেকে আনছে বিপদ
সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এই ধরনের ধূপ নিরাপদ। কিন্তু ৫৬ শতাংশ চিকিৎসক এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে সতর্ক করেছেন। আবার ৫০ শতাংশ মানুষ হার্বাল বা সিট্রোনেলা-ভিত্তিক ধূপকে নিরাপদ মনে করলেও, ৬৬ শতাংশ চিকিৎসকের মতে, এই ধরনের পণ্য নিয়েও বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলির কোনও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন থাকে না।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই জরুরি। তবে নিম্নমানের বা অবৈধ ধূপের ধোঁয়ায় পাইরেথ্রয়েড, অর্গানোফসফেট, ভারী ধাতুসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, যা দীর্ঘদিন শ্বাসের সঙ্গে শরীরে গেলে কাশি, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, হাঁপানি ও সিওপিডি রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মশা তাড়ানোর ধূপ কেনার আগে অবশ্যই প্যাকেটের গায়ে সিআইআর রেজিস্ট্রেশন নম্বর রয়েছে কি না দেখে নিন। শুধুমাত্র সস্তা বা সহজলভ্য বলে কোনও পণ্য ব্যবহার না করে, সরকারি অনুমোদিত ও নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পণ্যই বেছে নেওয়া উচিত। এতে যেমন মশার হাত থেকে সুরক্ষা মিলবে, তেমনই অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পাচারের বড় ছক বানচাল, দমদম বিমানবন্দরেই উদ্ধার কোটি টাকার দুর্লভ ‘সাপের মাথা’!
-
অস্ত্রোপচারের মাঝেই সোনুর কণ্ঠে কিংবদন্তি রফির গান, ভিডিও দেখে তাজ্জব নেটভুবন
-
জেলবন্দি আত্মীয়, জামিন পাওয়াতে ছত্তিশগড় হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির উপর কালাজাদু ৪ যুবকের!
-
ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না দত্তক-প্রাণীরা! খাদ্যে নজরদারির অধিকার অভিভাবকদের
-
বিপজ্জনক গতিতে ছুটে এল উপমুখ্যমন্ত্রীর কনভয়, গাড়ি চাপা পড়ে মৃত্যু প্রৌঢ়র