Prescription Plus

ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশি, বসন্তে বিপদে বয়স্ক ও শিশুরা

বসন্তে ভোররাত আর মাঝদুপুরের তাপমাত্রায় আকাশ পাতাল ফারাক। শরীরের ফার্স্ট লাইন ডিফেন্স ভেঙে তছনছ। সেই সুযোগটাই নিচ্ছে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ারা।

অভিরূপ দাস
অভিরূপ দাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১৫:০৩

options
link
ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশি, বসন্তে বিপদে বয়স্ক ও শিশুরা
ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশি, বসন্তে বিপদে বয়স্ক ও শিশুরা। ছবি: সংগৃহীত

বসন্ত এসে গেছে। সঙ্গে নিয়ে ভাইরাসের ছোবল। ঘরে ঘরে মাথাচাড়া দিচ্ছে জ্বর-সর্দি কাশি। বয়স্করা ভুগছেন ফুসফুসের ধুম জ্বর। বাড়িতে বাচ্চাদের সংক্রমণে। একাধিক সাবধান করছেন শহরের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা। বসন্তে ভোররাত আর মাঝদুপুরের তাপমাত্রায় আকাশ পাতাল ফারাক। শরীরের ফার্স্ট লাইন ডিফেন্স ভেঙে তছনছ। সেই সুযোগটাই নিচ্ছে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ারা। ভোরে ষোলো ডিগ্রি। দুপুরে ছাব্বিশ। আকস্মিক তাপমাত্রার ওঠানামায় শ্বাসনালির ভিতরের মিউকাস লেয়ার ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। নাক আর গলার ভিতরের সূক্ষ্ম লোম বা সিলিয়াও কাজ করতে পারছে না। এরা শরীরে ধুলো-ময়লা জীবাণু ঢুকতে বাধা দেয়।

Advertisement

Spike in fever cases in bengal, what are the doctors saying?

Advertisement

আকস্মিক তাপমাত্রার ওঠানামায় শ্বাসনালির ভিতরের মিউকাস লেয়ার ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। নাক আর গলার ভিতরের সূক্ষ্ম লোম বা সিলিয়াও কাজ করতে পারছে না।

প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অপূর্ব ঘোষের চেম্বারে বিগত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরের রোগীর বাড়বাড়ন্ত। চিকিৎসক জানিয়েছেন, কেউ এইচওয়ান এন ওয়ান ভাইরাসে আক্রান্ত। কারও শরীরে অ্যাডিনো ভাইরাস। উপসর্গ মোটামুটি একই রকম। জ্বর-সর্দি-গলা ব্যথা-কাশি। কারও কারও ফুলছে টনসিলও। দুই ভাইরাসই শ্বাসনালির মাধ্যমে প্রবেশ করে শরীরে। রাস্তায় পাবলিক প্লেসে হাঁচছে, কাশছে অনেকেই। যিনি হাঁচছেন, তিনি আক্রান্ত হলে, হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের সঙ্গে বেরিয়ে আসে ভাইরাস-ব্যাকটিরিয়া। ঢুকে পড়ে পাশের সহযাত্রীর শ্বাসনালিতে। ভাইরাস প্রথমে শ্বাসনালির কোষে আটকে যায়। তারপর দ্রুত কোষের মধ্যে ঢুকে বংশবৃদ্ধি শুরু করে। ডা. অপূর্ব ঘোষ জানিয়েছেন, “দেখা যাচ্ছে চিকেন পক্সের রোগীও। এর নেপথ্যে ভেরিসেল্লা জসটার ভাইরাস। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে রাস্তাঘাটে মাস্ক পরে চলাফেরা করুন।”

Advertisement

Health Tips: Learn how to stay healthy during the change of seasons

অভিভাবকদের প্রতি চিকিৎসকের পরামর্শ, শিশুকে এই সময় বাড়িতে বানানো সহজপাচ্য-স্বাস্থ্যকর খাবার দিন। ফল, মরশুমি সবজি, প্রোটিন জাতীয় খাবার শরীরে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী অ্যান্টিবডি বাড়াতে সাহায্য করে।

অভিভাবকদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, শিশুকে এই সময় বাড়িতে বানানো সহজপাচ্য-স্বাস্থ্যকর খাবার দিন। ফল, মরশুমি সবজি, প্রোটিন জাতীয় খাবার শরীরে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী অ্যান্টিবডি বাড়াতে সাহায্য করে। ভাইরাস ঘটিত অসুখের পাশাপাশি ব্যাকটিরিয়াল নিউমোনিয়াও বাড়ছে বসন্তে। নাকে ঢুকে পড়ছে স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি। শরীর দুর্বল হলে তা নেমে আসছে ফুসফুসে। সংক্রমণে ফুসফুসের বায়ুথলিতে জমছে তরল। দেখা যাচ্ছে কাশি-জ্বর-শ্বাসকষ্ট। এদিকে বসন্তের শুকনো আবহাওয়ায় দূষণকণা থিকথিক করছে বাতাসে। কিছু দূষণকণার ব্যাস আড়াই মাইক্রন বা তারও কম। সবচেয়ে বিপজ্জনক এরাই। নাক-মুখ দিয়ে সহজেই ঢুকে পড়ে এই দূষণকণা।

Child Care

জেরিয়াট্রিক সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি ডা. চিন্ময়কুমার মাইতি জানিয়েছেন, ষাট পেরিয়ে গেলে কমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। চট করে ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা যায়। এই সময় পিকনিক এড়িয়ে চলা উচিত বয়স্কদের। একান্তই পিকনিক, বনভোজনে গেলে মাস্ক পরুন। প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের কথায়, শ্বাসনালিতে ভাইরাসের আক্রমণ এই সময়টায় গা সওয়া। প্রবীণ নাগরিকদের বলব, নিউমোনিয়া-ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন অবশ্যই নিন। তাঁর পরামর্শ, নিয়মিত সকালে গরম জল খান। এড়িয়ে চলুন ঠান্ডা খাবার। ধুলোর মধ্যে যাবেন না। ভোরের দিকে তাপমাত্রা হঠাৎ নামছে। এই সময় প্রাতঃভ্রমণ এড়িয়ে চলুন।

How to take care of child in hot, humid and rainy weather? Expert gave health tips

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.