আজকের দ্রুতগতির জীবনে মাথাব্যথা হলেই ট্যাবলেট, ক্লান্তি মানেই কোনও সাপ্লিমেন্ট, শরীরে ব্যথা হলে পেনকিলার- সবই যেন দ্রুত সমাধানের পথ। সবই সহজলভ্য। কিন্তু এই অভ্যেসই ধীরে ধীরে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, প্রেসক্রিপশন ছাড়া সাপ্লিমেন্ট ও পেনকিলার খাওয়ার প্রবণতা এখন এক নীরব বিপদ ( Self Medication Harmful Effects)। আজ যা সমাধান মনে হচ্ছে, কাল তা শরীরের জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন:

হেলথ সাপ্লিমেন্ট সব সময় নিরাপদ নয়
সাপ্লিমেন্টকে অনেকেই নিরাপদ মনে করেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, চুল ভালো রাখা, শক্তি বাড়ানো, থাকে এমন অজস্র প্রতিশ্রুতি। কিন্তু শরীর এত সহজভাবে কাজ করে না।
চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজন ছাড়া সাপ্লিমেন্ট খেলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চুল পড়া বা ক্লান্তির জন্য সাপ্লিমেন্ট খেতে গিয়ে বমি ভাব, ত্বকের সমস্যা, হজমের গোলমাল, এমনকী লিভারের সমস্যা বা কিডনিতে পাথর হওয়ার মতো ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
তবে সমস্যার মূল কারণ, ‘বেশি পুষ্টি, বেশি উপকার’- এই ভুল ধারণা। অতিরিক্ত পুষ্টি সব সময় শরীর থেকে বের হয় না। কিছু জমে যায়, কিছু শরীরের অন্যান্য প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়, আর কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

পেনকিলার: সহজ সমাধান, লুকনো ক্ষতি
পেনকিলার এখন প্রায় দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু নিয়মিত ও নিজের মতো করে খাওয়া মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই ওষুধগুলো সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে লিভার, কিডনি ও হজমতন্ত্রের উপর চাপ ফেলে। এর ফলে গ্যাস্ট্রিক আলসার, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল (জিআই) ব্লিডিং, কিডনির ক্ষতি, এমনকী লিভারের গুরুতর সমস্যাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, এই ওষুধগুলো আসল রোগকে আড়াল করে দেয়। ব্যথা কমে গেলেও তার কারণ অজানাই থেকে যায়।
নিজে নিজে রোগ নির্ণয়: আরও বড় বিপদ
ইন্টারনেটের যুগে অনেকেই উপসর্গ দেখে নিজেই রোগ নির্ণয় করে ফেলেন। কিন্তু একই উপসর্গের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। একজনের জন্য যে চিকিৎসা কার্যকর, অন্যজনের ক্ষেত্রে তা বিপজ্জনকও হতে পারে। বয়স, আগের অসুখের ইতিহাস, শারীরিক গঠন, সব কিছুই চিকিৎসা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

‘কুইক ফিক্স’ নয়, সচেতনতা জরুরি
এর মানে এই নয় যে সাপ্লিমেন্ট বা পেনকিলার সব সময় খারাপ। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে, সঠিক মাত্রায় ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহার করলে এগুলো কার্যকর ও প্রয়োজনীয়। সমস্যা হল, আমরা এগুলো খুব সহজভাবে ব্যবহার করি। অথচ ডোজ, সময়কাল, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, এই বিষয়গুলোই জানি না!
ওষুধের বদলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জলপান, ভালো ঘুম, এইগুলোই অনেক সময় ওষুধের প্রয়োজন কমিয়ে দিতে পারে। আর শরীর যখন কোনও সংকেত দেয়, সেটাকে চেপে না রেখে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। প্রতিবার ট্যাবলেট খাওয়ার আগে একবার ভাবুন- এটা কি সত্যিই প্রয়োজন, নাকি সমস্যাকে সাময়িকভাবে ঢেকে রাখার জন্য?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘রাজনীতি ২৪ ঘণ্টার কাজ’, কংগ্রেসের ধারাবাহিক হারে রাহুলকে দায়ী করে কটাক্ষ প্রণবকন্যা শর্মিষ্ঠার
-
পাঠানো হয়েছে চুক্তিপত্র, কবে ইস্টবেঙ্গলের কোচের আসনে মোহনবাগানের প্রাক্তন হাবাস?
-
হ্যাটট্রিকের হ্যাটট্রিক থেকে সর্বাধিক দর্শক, গ্রুপ পর্বেই ‘প্রথম সবকিছুর স্বাদ’ পেল বিশ্বকাপ
-
ভালোবাসার নামে অত্যাচার করেছে প্রাক্তন? ‘প্রেম’ বিতর্কের মাঝেই ‘টক্সিক’ শো আনছেন গৌরব!
-
মধ্যপ্রাচ্যে ধুন্ধুমার! মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ইরানের হুমকি, ‘নরকযন্ত্রণা ভোগ করবেন’