Sonali Bendre

ক্যানসারের পর ১৮-২০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন সোনালি বেন্দ্রে! উপবাস কি সত্যিই ‘রিসেট’ করে শরীরকে?

সত্যিই কি দীর্ঘক্ষণ না খেলে শরীরের কোষ নিজেরাই নিজেদের মেরামত করতে শুরু করে? ক্যানসার থেকে সুস্থ হতে কি উপবাসের কোনও বিশেষ ভূমিকা আছে? নাকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি হচ্ছে?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১৮:০০

options
link
ক্যানসারের পর ১৮-২০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন সোনালি বেন্দ্রে! উপবাস কি সত্যিই ‘রিসেট’ করে শরীরকে?
সোনালি বেন্দ্রে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসারের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই জিতে নতুন জীবন শুরু করেছেন অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রে (Sonali Bendre)। সেই নতুন জীবনের অন্যতম সঙ্গী দীর্ঘ সময়ের উপবাস। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করেন। দিনে দেড় থেকে দু’বেলা খান, আর গুরুত্ব দেন সচেতনভাবে খাওয়ায়।

Advertisement

শুধু তাই নয়, তিনি বলেন, তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার যাত্রায় ‘অটোফ্যাজি’ বড় ভূমিকা রেখেছে। এই একটি মন্তব্যই নতুন করে আলোচনায় এনেছে বহু চর্চিত শব্দটি। সত্যিই কি দীর্ঘক্ষণ না খেলে শরীরের কোষ নিজেরাই নিজেদের মেরামত করতে শুরু করে? ক্যানসার থেকে সুস্থ হতে কি উপবাসের কোনও বিশেষ ভূমিকা আছে? নাকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি হচ্ছে?

Advertisement

অটোফ্যাজি আসলে কী?
‘অটোফ্যাজি’ শব্দটির অর্থই হল নিজেকে নিজেই খাওয়া। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি শরীরের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি কোষীয় প্রক্রিয়া। পুষ্টিবিদদের কথায়, শরীরের পুরনো, ক্ষতিগ্রস্ত বা অপ্রয়োজনীয় কোষীয় অংশগুলোকে ভেঙে পুনর্ব্যবহার করে নতুন কোষ তৈরির উপাদান জোগায় অটোফ্যাজি। এতে কোষ সুস্থ থাকে এবং শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সাহায্য হয়।

Advertisement

অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস এই প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে। আবার অটোফ্যাজি অতিরিক্ত সক্রিয় থাকাও ভালো নয়। শরীরে এর একটি স্বাভাবিক ছন্দ থাকা জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত না খাওয়া, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার খাওয়া এবং ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কিছু ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করতে পারে। তবে এটিকে কোনও রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখা ভুল।

Sonali Bendre follows 18–20-hour fasting after cancer.
ভালো থাকুন। ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসারের চিকিৎসার বিকল্প নয়
চিকিৎসকদের মতে, সোনালি বেন্দ্রের সুস্থ হয়ে ওঠার কৃতিত্ব শুধুমাত্র উপবাস বা অটোফ্যাজিকে দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়। ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের কথায়, অটোফ্যাজি নিয়ে গবেষণা এখনও চলছে। এটি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়া হলেও ক্যানসারের স্বতন্ত্র চিকিৎসা নয়। ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাই সবচেয়ে কার্যকর এবং অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে জাপানের বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওসুমি অটোফ্যাজির কার্যপ্রণালী আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হন। সোনালি নিজেও জানিয়েছেন, ক্যানসারের চিকিৎসার সময় তাঁর ন্যাচারোপ্যাথ তাঁকে এই গবেষণার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কেন জনপ্রিয়?
বর্তমানে ওজন কমানো থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, এমনকী দীর্ঘায়ুর আশায়ও অনেকে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করছেন। এই পদ্ধতিতে সাধারণত ১৬:৮ বা ১৮:৬-এর মতো নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থেকে সীমিত সময়ে খাবার খাওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, খাবার খাওয়ার সময় কমে যাওয়ায় অনেকের অজান্তেই মোট ক্যালরি গ্রহণ কমে যায়। ফলে অতিরিক্ত স্ন্যাকস বা চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।

তবে দীর্ঘক্ষণ উপবাস করলেই যে দ্রুত ওজন কমবে, এমন ধারণা ভুল। কেউ ১৮ ঘণ্টা উপবাস করেও অতিরিক্ত ক্যালরি খেলে ওজন বাড়তে পারে। আবার কেউ নিয়মিত তিনবেলা সুষম খাবার খেয়েও ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ওজন কমাতে পারেন।

সেলিব্রিটির ডায়েট সবার জন্য নয়
সোনালি বেন্দ্রের জীবনযাপন তাঁর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, কোনও সেলিব্রিটির খাদ্যাভ্যাস দেখে তা অন্ধভাবে অনুসরণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক মানুষ, নিয়মিত ওষুধ সেবনকারী বা অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা রোগীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় উপবাস বিপজ্জনক হতে পারে।

দিনে খুব কমবার খেলে শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও দেখা দিতে পারে। এর ফলে পেশিশক্তি কমে যাওয়া, দুর্বলতা বা অন্যান্য পুষ্টিগত সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তাহলে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে ১৮-২০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকাই একমাত্র পথ নয়। বরং রাতের খাবার একটু তাড়াতাড়ি খাওয়া, রাত জেগে খাওয়ার অভ্যাস ছাড়া, রাতের খাবার ও প্রাতরাশের মধ্যে ১২-১৪ ঘণ্টার স্বাভাবিক বিরতি রাখা, সুষম খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা অনেক বেশি নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর।

সোনালি বেন্দ্রের লড়াই নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক। তাঁর শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনও প্রশংসনীয়। তবে চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা, অটোফ্যাজি বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংকে কখনও ক্যানসারের চিকিৎসা বা অলৌকিক সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.