woodlands Hospital

ক্রিটিক্যাল কেয়ারে নয়া দিগন্ত, উডল্যান্ডসের ৭ম বার্ষিক কনফারেন্স সফলভাবে সম্পন্ন

দিনভর চলা আলোচনায় উঠে আসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা, নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২০, ২০২৬, ১৭:৪৬

options
link
ক্রিটিক্যাল কেয়ারে নয়া দিগন্ত, উডল্যান্ডসের ৭ম বার্ষিক কনফারেন্স সফলভাবে সম্পন্ন
সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্টজনেদের সঙ্গে হসপিটালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের প্রধান ডা. সৌতিক পান্ডা।

ক্রিটিক্যাল বা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ কীভাবে চিকিৎসার ফল আরও উন্নত ও ভালো করা যায়, সেই বিষয়কে সামনে রেখেই কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালের সপ্তম বার্ষিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার সম্মেলন। রবিবার শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত এই সম্মেলনের থিম ছিল, ‘Redefining Critical Care: A Multidisciplinary Approach to Patient Outcomes’। অর্থাৎ, বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে গুরুতর অসুস্থ রোগীর চিকিৎসার ফল আরও ভালো ও উন্নত করা। 

Advertisement

উডল্যান্ডসের ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রখ্যাত চিকিৎসক, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নেন। দিনভর চলা আলোচনায় উঠে আসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা, নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের মতবিনিময় এবং প্রশ্নোত্তর পর্বও ছিল সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ।

Advertisement

সম্মেলনের আয়োজক সম্পাদক এবং উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ইনচার্জ (ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন) ডা. সৌতিক পান্ডা বলেন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তের সিদ্ধান্ত একটি জীবন বাঁচাতে পারে। চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আদানপ্রদান যত বাড়বে, ততই রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল উন্নত হবে। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য সেই সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তৃত করা।

Advertisement
woodlands Hospital 7th critical care conference kolkata
গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসায় নতুন দিশার সন্ধানে।

এবারের সম্মেলনে ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়গুলি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিশদ আলোচনা করেন। আইসিইউ-তে জীবনাবসানের সময় চিকিৎসা-সংক্রান্ত নৈতিক সিদ্ধান্ত, গর্ভবতী মহিলাদের তীব্র শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা, সেপসিস দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সম্ভাবনা, অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি রোধে আধুনিক চিকিৎসা, হৃদ্‌যন্ত্র বিকল হলে উন্নত মেকানিক্যাল সার্কুলেটরি সাপোর্টের ব্যবহার এবং সংক্রমণ শনাক্তকরণে দ্রুত মলিকিউলার পরীক্ষার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় হয়।

এদিনের আলোচনায় অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সুনীল বরণ রায়, ডা. বিশ্বজিৎ ঘোষ দস্তিদার, অধ্যাপক ডা. বিভু কল্যাণী দাস, ডা. মনিময় ঘোষ, ডা. এস. কে. টোডি, ডা. সুশ্রুত বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. সুরেশ রামাসুব্বান-সহ বহু বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত চিকিৎসাই আগামী দিনে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসাকে আরও কার্যকর করে তুলবে।

চিকিৎসকদের মতে, আইসিইউ-র প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি জীবন। তাই জ্ঞান, গবেষণা এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের বৈজ্ঞানিক সম্মেলন চিকিৎসা জগতকে নতুন দিশা দেখাবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.