রান্নায় পরিমাণমতো দারুচিনি দিয়েও স্বাদ-গন্ধ মালুম পড়ছে না। তবে কি দারুচিনিতে ভেজাল? গৃহস্থের এমন চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। বাঙালির রান্নাঘরে দারুচিনির পাকাপাকি অবস্থান। পোলাও, বিরিয়ানি, মাংসের ঝোল হোক, অথবা পায়েস, চা, সন্দেশ— রকমারি পদ তৈরিতে ব্যবহার হয় দারুচিনি। কিন্তু দারুচিনির নামে বাজারে যা কিনতে পাওয়া যায়, তার সবই যে খাঁটি, এমন কোনও কথা নেই।
আরও পড়ুন:

দারুচিনি বিস্বাদ হলে অনেকেই ঠাট্টার ছলে বলেন, বুঝি দোকানদার অন্য কোনও গাছের ছাল কেটে দিয়েছেন! আদতে তা নয়, বাজারে দুই ধরনের দারুচিনি চালু আছে। যাদের পোশাকি নাম যথাক্রমে, সিলন (ceylon) ও ক্যাসিয়া (cassia)। সিলন দারুচিনিকেই ‘আসল দারুচিনি’ বলে চিনি আমরা। দুই ধরনের দারুচিনির মধ্যে রং, গন্ধ, স্বাদ, বাকলের গঠনের পার্থক্য রয়েছে।
আপনার বাড়িতে যেটি আনা হয়েছে, তা আসল কি-না বোঝার জন্য রইল কয়েকটি সহজ পরীক্ষা।
১. গোটা দারুচিনি কিনলে প্রথমেই তার রং লক্ষ্য করুন। সিলন দারুচিনি হালকা লালচে-বাদামি রঙের হয়। অন্যদিকে ক্যাসিয়া তুলনামূলকভাবে গাঢ় লালচে-বাদামি। তবে শুধু রং দেখে দারুচিনির জাত নিশ্চিত করা যায় না। গাছের ধরন, শুকানোর পদ্ধতি এবং সংরক্ষণের কারণে রঙে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।
২. গোটা দারুচিনি চেনার ক্ষেত্রে বাকলের গঠন দেখা সবথেকে জরুরি। সিলন দারুচিনির কাঠি তলার দিকে থেকে বহুস্তরযুক্ত রোলের মতো দেখতে লাগে। অন্যদিকে ক্যাসিয়ার বাকল সাধারণত অনেক বেশি মোটা ও শক্ত, পাতলা স্তরের পরতও থাকে না বললেই চলে। তাই বাজার থেকে গোটা দারুচিনি কিনলে ভেতরের অংশ দেখতে হবে সবার আগে।
৩. সিলন দারুচিনির কাঠি পাতলা, হাতের চাপে সহজেই ভাঙা যায়। ক্যাসিয়ার কাঠি সাধারণত মোটা ও শক্ত হয়। হাতে নিলে দুই ধরনের কাঠির গঠনের পার্থক্য বোঝা যায়।
৪. সিলন দারুচিনির সুগন্ধ হালকা ও মিষ্টি। ক্যাসিয়ার গন্ধ তুলনামূলকভাবে তীব্র, ঝাঁঝালো এবং কড়া। তবে রান্নায় দিলে ক্যাসিয়ার আলাদা গন্ধ ছাড়ে না বললেই চলে। দুই ধরনের দারুচিনির স্বাদেও যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সিলন দারুচিনির স্বাদ মিষ্টি। ক্যাসিয়ার স্বাদ ঝাঁঝালো ও কিছুটা তিক্ত বা কষাটে বলা চলে।

৫. যদি গোটার বদলে প্যাকেটজাত দারুচিনি কেনেন, তবে প্যাকেটের গায়ে ‘সিলন সিনামন’ বা ‘সিনামোমাম ভেরাম’ লেখা আছে কি না দেখুন। বিশেষত গুঁড়ো দারুচিনি কেনার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে রাখা জরুরি— ক্যাসিয়া মানেই নকল দারুচিনি নয়। ক্যাসিয়াও রান্নায় বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তবে তা বাঙালি বা ভারতীয় স্বাদের থেকে একেবারেই আলাদা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবিভিপি-র বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত! যাদবপুর-মেদিনীপুর কলেজে অশান্তিতে কী বললেন শমীক?
-
প্লাবিত মেদিনীপুরে জলযাতনা, বিপন্ন মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে ভারত সেবাশ্রম সংঘ
-
যাদবপুরের আদলে এবার প্রেসিডেন্সিতেও অশান্তির ছক! গেটের কাছে এবিভিপি-এসএফআই সংঘর্ষ
-
ফেলো কড়ি, নাও লাইসেন্স, নিউ মার্কেটে ওড়ে হাওয়ালার টাকা! ‘শিখা’র আগুনে আলোয় ‘অন্ধকার জগৎ’
-
তারেক বরণের মহড়া বাতিল রাষ্ট্রপতি ভবনের, প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর