birth chart

ভরসা নেই ডেটিং অ্যাপে, বিয়ে টেকাতে ‘আদ্যিকালে’র জন্মছক-কুণ্ডলীতেই ঝুঁকছে জেন জি!

জ্যোতিষীদের মতে, বাস্তব উদাহরণের সঙ্গে জন্মছক মেলালেই বোঝা যাবে, তা কতখানি কার্যকর। আধুনিক জীবন মানেই যে সেখানে জন্মছক অথবা কুণ্ডলীর গুরুত্ব নেই, তা কিন্তু একেবারেই ভুল। বরং জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের দিকে পা বাড়ানোর আগে যদি জ্যোতিষ শাস্ত্রের সাহায্য নেওয়া হয়, তবে তাতে তেমন ক্ষতি কিছু নেই।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৩, ২০২৬, ১৮:২৮

options
link
ভরসা নেই ডেটিং অ্যাপে, বিয়ে টেকাতে ‘আদ্যিকালে’র জন্মছক-কুণ্ডলীতেই ঝুঁকছে জেন জি!
ফাইল ছবি

আধুনিক যুগের প্রেম বললেই ধরে নিই, সোশাল মিডিয়ায় প্রথম আলাপ। অথবা কোনও ডেটিং অ্যাপে। আধুনিক প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা প্রেমের ব্যাপারে অনেক বেশি উদার। প্রেমের টানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, এমনকি দেশের সীমানায় পেরিয়ে যেতে পারে তারা। অনেকেই আবার বিয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদি বন্ধনে বিশ্বাস করে না। বরং সাময়িক ডেটিং, হুক-আপেই মন মজে তাদের। তাছাড়া বিয়ে হয়ে গেলেও ডিভোর্স যেন জলভাত! মতপার্থক্য হলেই রাস্তা আলাদা করে নেয় আধুনিক যুগের দম্পতিরা।

Advertisement

কিন্তু সমীক্ষা জানাচ্ছে অন্য কথা। জ্যোতিষীরা বলছেন, মন বদলেছে নবপ্রজন্মের। সোশাল মিডিয়ার বদলে তারা ফিরছে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ধর্মীয় ঐতিহ্যের কাছে। আন্দাজে তীর মেরে নয়, আধুনিক যুগের ছেলেমেয়েরা চায়, জন্মছক মিলিয়ে, কুণ্ডলী বিচার করে, তবেই জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনী খুঁজে নিতে। আর সময়ের সঙ্গে রীতিমত পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই ‘ট্রেন্ড’!

Advertisement
couples relying on birth charts for marriage
আধুনিক যুগের ছেলেমেয়েরা চায়, কুণ্ডলী বিচার করে, তবেই জীবনসঙ্গী খুঁজে নিতে

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, চারপাশের প্রেমবিচ্ছেদ বা বিবাহবিচ্ছেদই এর প্রধান কারণ। জীবনসঙ্গী বাছার প্রাচীন আচার-নিয়মের তোয়াক্কা না করে যেমন এক সময় ডেটিং অ্যাপে ভরসা করেছিল তরুণ প্রজন্ম, এ-ও খানিক তেমনই। অল্প চেনার ভিত্তিতে বিয়ে বা আবেগের বশে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ উপেক্ষা করেও সম্পর্কে যাওয়ার অসাড়তাকে ইঙ্গিত করছে এই নতুন ট্রেন্ড। তাই জেন-জির বিশ্বাস, চিরকালীন সম্পর্কে ঢোকার আগে অবশ্যই মিলিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন জন্মছক!

Advertisement

জ্যোতিষীদের মতে, জন্মছক মিলিয়ে বিয়ে করা কখনও ভিত্তিহীন নয়। কারণ গৃহস্থে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য দুই পক্ষের ধ্যানধারণা, আর্থিক বিষয়ে মতামত, স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্ক সবটাই যাচাই করে নেওয়া দরকার। আর গ্রহ-নক্ষত্রের স্থান বিচার করে তার অনেকটাই বোঝা যায়।

couples relying on birth charts for marriage
জ্যোতিষীদের মতে, জন্মছক মিলিয়ে বিয়ে করা কখনও ভিত্তিহীন নয়

একজন মানুষকে সামগ্রিকভাবে না হলেও অনেকখানি বোঝা যেতে পারে তার জন্মছকে উল্লিখিত দোষ দিয়ে। যেমন- 

  1. ছকে যদি ‘নাড়ি দোষ’ থাকে, তবে তা স্বাস্থ্য ও গর্ভাবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে সন্তানধারণ কঠিন হয় বা গর্ভজনিত দীর্ঘকালীন সমস্যা দেখা যায়।
  2. ‘ভকূট দোষ’ স্বামী-স্ত্রীয়ের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে। এতে দূরত্ব তৈরি হয়। দম্পতি একটা সময়ের পর বিচ্ছেদের পথেও হাঁটতে পারেন।
  3. মানসিক সামঞ্জস্যকে প্রভাবিত করে ‘গ্রহ মৈত্রী’। এতে দোষ থাকলে, স্বামী স্ত্রীয়ের মধ্যে বিবাদ লাগতে থাকে।
  4. ‘যোনি দোষ’ শারীরিক সম্পর্কজনিত ত্রুটিকে ইঙ্গিত করে। এই দোষ থাকলে ক্রমে পরস্পরের প্রতি শারীরিক আগ্রহ হারায় দম্পতি।

জ্যোতিষীদের মতে, বাস্তব উদাহরণের সঙ্গে জন্মছক মেলালেই বোঝা যাবে, তা কতখানি কার্যকর। আধুনিক জীবন মানেই যে সেখানে জন্মছক অথবা কুণ্ডলীর গুরুত্ব নেই, তা কিন্তু একেবারেই ভুল। বরং জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের দিকে পা বাড়ানোর আগে যদি জ্যোতিষ শাস্ত্রের সাহায্য নেওয়া হয়, তবে তাতে তেমন ক্ষতি কিছু নেই।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.