ভারত শাসনকালে ব্রিটিশরা এমন বহু কিছু স্থাপন করেছিল, যার নিদর্শন চোখে পড়ে আজও। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ভারতের প্রাচীন রেলপথগুলি। পাহাড়, জঙ্গল ও দুর্গম পথ পেরিয়ে এমন একাধিক রেললাইন চলে গিয়েছে ভারতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। এই রেলপথগুলি পর্যটনের জন্য তৈরি হয়নি। মূলত পণ্য, সৈন্য ও সরকারি আধিকারিকদের দ্রুত যাতায়াতের জন্য এবং গরমের সময় ব্রিটিশদের পাহাড়ি স্টেশনে পৌঁছানোর সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে আজ চাইলে পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন সেসব।
আরও পড়ুন:
ভারতের স্বাধীনতার (Independence Day) এত বছর পার করেও, এই রেলপথের বেশ কয়েকটি চালু রয়েছে আজও। এর মধ্যে তিনটি আবার ‘ইউনেক্সো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’-এর মর্যাদাও পেয়েছে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে
ভারতের সবচাইতে ঐতিহ্যবাহী রেলপথ সম্ভবত এটিই। ১৮৭৯ থেকে ১৮৮১ সালের মধ্যে নির্মিত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত প্রায় ৮৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই রেলপথে রয়েছে ছয়টি জিগজ্যাগ ও পাঁচটি লুপ। এর মধ্যে ঘুমের কাছে অবস্থিত বাতাসিয়া লুপ সবচেয়ে বিখ্যাত।
নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে
ঊটির নীলগিরি পাহাড়ে রেলপথ তৈরির প্রস্তাব প্রথম দেওয়া হয়েছিল ১৮৫৪ সালে। কিন্তু প্রায় ৪০ বছর ধরে আলোচনা ও পরিকল্পনার পর ১৮৯১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৪৬ কিলোমিটার যাত্রাপথে ট্রেনটি ৩২৬ মিটার উচ্চতা থেকে উঠে প্রায় ২,২০৩ মিটার উচ্চতায় পৌঁছায়। পথে রয়েছে ১৬টি টানেল এবং প্রায় ২৫০টি সেতু।
কালকা–শিমলা রেলওয়ে
শিমলা যখন ব্রিটিশ ভারতের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হয়ে ওঠে, তখন সেখানে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য একটি রেলপথের প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই কালকা–শিমলা রেলওয়ের নির্মাণ। উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন। ৯৬ কিলোমিটারেরও কম দৈর্ঘ্যের এই রেলপথে রয়েছে ১০৩টি টানেল এবং ৮০০-রও বেশি সেতু। এর মধ্যে বারোগ টানেল সবচেয়ে বিখ্যাত। প্রায় ১,১৪৪ মিটার দীর্ঘ এই টানেল, নির্মাণের সময় ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম টানেলগুলির মধ্যে অন্যতম।
মাথেরান হিল রেলওয়ে
ঔপনিবেশিক যুগের সব রেলপথ যে ব্রিটিশ সরকার তৈরি করেছিল, তা নয়। মুম্বইয়ের কাছে মাথেরান হিল রেলওয়ে ছিল আবদুল হুসেন আদমজি পীরভয়ের ব্যক্তিগত উদ্যোগ। তাঁর বাবা, স্যার আদমজি পীরভয়, এই রেলপথ নির্মাণের সমগ্র অর্থায়ন করেছিলেন। পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণ করতে তিনি অত্যন্ত পছন্দ করতেন এবং সেখানে যাওয়ার পথ আরও সহজ করার জন্য রেলপথ তৈরির উদ্যোগ নেন।

১৯০৭ সালে সাধারণ মানুষের জন্য রেলপথটি খুলে দেওয়া হয়। নেরাল থেকে মাথেরান পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ন্যারো-গেজ রেলপথটির দু’পাশে রয়েছে ঘন জঙ্গল ও প্যানোরামা পয়েন্ট। রুটে রয়েছে মাত্র একটি টানেল, যার ডাকনাম ‘ওয়ান কিস টানেল’—কারণ টানেলটি এতটাই ছোট যে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই নাকি একটিমাত্র দ্রুত চুম্বন সেরে নেওয়া যায়!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
যুবতীর দেহ হাসপাতালে রেখেই পলাতক, খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার লিভ ইন পার্টনার-সহ ২
-
পুড়ল হেমন্ত-রাহুলের কুশপুতুল, পদত্যাগের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক ঝাড়খণ্ডের ছাত্রবিক্ষোভে
-
ঢাকার পাক দূতাবাসের মদতে পাকিস্তানে ভারতীয় সিমকার্ড পাচার! কোচবিহার কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়
-
পঞ্চভূতে বিলীন রাজা সেন, চোখের জলে বিদায় জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালককে
-
‘কী করছেন, সমস্ত রিপোর্ট আছে’, দলের বিধায়কদের চরম হুঁশিয়ারি শমীকের