Edinburgh University

ভূতপ্রেত থেকে টেলিপ্যাথি, এবার এই বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে আজব সব বিষয়ে পিএইচডির সুযোগ!

অনেকে মনে করেন, প্যারাসাইকোলজি নিয়ে গবেষণা নতুন বিষয়। বাস্তবে তা নয়। ইউরোপে অতিপ্রাকৃত দাবি নিয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল এক শতাব্দীরও বেশি আগে। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ও কয়েক দশক ধরে এই বিষয়ে গবেষণা করে আসছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২৬, ২০:১৩

options
link
ভূতপ্রেত থেকে টেলিপ্যাথি, এবার এই বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে আজব সব বিষয়ে পিএইচডির সুযোগ!
প্রতীকী চিত্র।

ভূতপ্রেত কী সত্যিই আছে? অশরীরীদের উপস্থিতি কি সত্যিই অনুভব করা যায়? টেলিপ্যাথি কি সত্যিই সম্ভব? বিশ্বে কোথাও কি সত্যি এমন জ্ঞান রয়েছে, যা আয়ত্ত করতে পারলে ভবিষ্যতের কথা জানতে পারে মানুষ? এমন হাজারও প্রশ্ন মানুষের মাথায় ঘুরপাক খেয়ে চলেছে অনাদিঅনন্তকাল ধরে। কেবল ইন্টারনেট ঘেঁটে এসবের উত্তর পাওয়া যায় না।

Advertisement

তাই এ দায়িত্ব তুলে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় (Edinburgh University)। সেখানে রয়েছে কোয়েস্টলার প্যারাসাইকোলজি ইউনিট (Koestler Parapsychology Unit)। যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য যে কোনও বিভাগের মতোই এখানেও রয়েছে নির্দিষ্ট অধ্যাপকেরা। রয়েছে শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তির সুযোগও। এই বিষয়ে পড়তে আগ্রহী ব্যক্তিরা পিএইচডি ডিগ্রিও লাভ করতে পারে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে।

Advertisement
Edinburgh University Investigates the Psychology of Paranormal Experiences
এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়

অনেকে নাম শুনে মনে করতে পারেন, এখানে ভূত-প্রেতের অস্তিত্ব প্রমাণের চেষ্টা করা হয়। আসলে বিষয়টি তেমন নয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য হল, মানুষ কেন এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় বা কেন অতিপ্রাকৃত বিষয়কে সত্য বলে মনে করে— তার পেছনের মনোবিজ্ঞান, মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি ও মানুষের আচরণের ভূমিকা অন্বেষণ।

Advertisement

এই গবেষণা কেন্দ্রটি ১৯৮৫ সালে লেখক আর্থার কোয়েস্টলারের অনুদানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরেই প্যারানরমাল বা অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে আসছে।

গবেষকেরা মানুষের নানা ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করেন। যেমন— কেউ কেন মনে করেন তিনি ভূত দেখেছেন, কেন কেউ অদৃশ্য উপস্থিতি অনুভব করেন, অথবা কেন টেলিপ্যাথি বা অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার মতো ধারণায় বিশ্বাস জন্মায়। এসব ক্ষেত্রে মানুষের স্মৃতি, উপলব্ধি, মনোযোগ, ঘুমের সমস্যা, মানসিক প্রত্যাশা ও পরিবেশের প্রভাব কতটা কাজ করে, তাও বিশ্লেষণ করা হয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে গবেষকেরা আগে থেকেই ধরে নেন, সব অতিপ্রাকৃত দাবি মিথ্যা। বরং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে বিভিন্ন দাবি ও অভিজ্ঞতা পরীক্ষা করে দেখা হয় এবং সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করা হয়। ভূত-প্রেতের অস্তিত্ব প্রমাণের চেয়ে মানুষের মন ও আচরণকে বোঝাই এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

অনেকে মনে করেন, প্যারাসাইকোলজি নিয়ে গবেষণা নতুন বিষয়। বাস্তবে তা নয়। ইউরোপে অতিপ্রাকৃত দাবি নিয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল এক শতাব্দীরও বেশি আগে। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ও কয়েক দশক ধরে এই বিষয়ে গবেষণা করে আসছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.