এ ভারতে শুধু পাত্র-পাত্রী নয়, বিবাহ হয় পরিবারের সঙ্গে পরিবারের। এমন জাঁকজমক, হইহল্লা, খাওয়া দাওয়া বোধহয় অন্য কোনও দেশেই দেখা যায় না। তাছাড়া দিনের পর দিন চলে আচার অনুষ্ঠান। সত্যিই এ যেন টিকিট কেটে দেখার মতোই বিষয়!
আরও পড়ুন:

ভারতীয়দের কাছে এমন অনুষ্ঠান আলাদা করে চমকপ্রদ না মনে হলেও, বিদেশিদের কাছে তো তা বটেই। আর তাই সাম্প্রতিককালে ভারত হয়ে উঠেছে অন্য দেশের বাসিন্দাদের কাছে এক নতুন ধরনের সাংস্কৃতিক পর্যটনের জায়গা, যার কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের বিবাহবাসর (Indian Wedding)! আজ্ঞে হ্যাঁ, ভারতীয় বিয়ের জাঁকজমক, রঙিন সাজসজ্জা, ঐতিহ্যবাহী আচার-রীতি, নাচ-গান ও ভোজের অংশিদার হতে এখন হাজার হাজার বিদেশি পর্যটক মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করছে।
ইতিমধ্যেই এই উদ্দেশে তৈরি হয়েছে একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যার মধ্যে অন্যতম ‘জয়েন মাই ওয়েডিং’। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের পরিচয় দেয় ‘Airbnb for Weddings’ হিসেবে। এর মাধ্যমে যে কোনও ভারতীয় হবু দম্পতি তাদের বিয়েতে বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানান এবং আগ্রহী পর্যটকরা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। বিয়ে সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানিয়ে রাখেন দম্পতিরা, যাতে তা থেকে পছন্দের বিয়েবাড়ি বেছে নিতে পারে বিদেশিরাই।
একই কাজে নিয়োজিত ‘দেশি ডিস্কভারিজ’ নামের প্ল্যাটফর্মটিও। তাদের লক্ষ্য বিদেশি পর্যটকদের ভারতীয় বিয়ে, উৎসব এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করা। সূত্র জানাচ্ছে, এমন সাইটগুলিতে ভারতীয় বিয়েবাড়ির টিকিটের মূল্য সর্বাধিক ২৪,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে! বিয়েবাড়িতে এসে বিদেশি পর্যটকরা অন্যান্য অতিথিদের মতোই আচরণ করেন। বরযাত্রীতে শামিল হন, বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে সঙ্গীত-মেহেন্দি উপভোগ করেন, স্থানীয় পোশাকে সেজে ওঠেন, স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যটনের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের উদ্যোগও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। বর্তমানে অনেক পর্যটকই কেবল দর্শনীয় স্থান দেখতে আগ্রহী হন না, স্থানীয়দের সঙ্গে সময় কাটিয়ে সেখানকার সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠতে চান।

তবে এ নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। অনেকের মতে, পারিবারিক এক অনুষ্ঠানকে বাণিজ্যিকভাবে পর্যটনের অংশ করে তোলা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কোনও এক বিয়েবাড়িতে যতই বাইরের অতিথিরা এসে থাকুক না কেন, আদতে তা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের উদযাপন, যার পণ্যায়ন কখনওই সমর্থন করা যায় না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুলিশি সুরক্ষাতেও রক্ষা নেই! রাতে জনতার ‘তাড়া’ খেয়ে সিতাই ছাড়লেন সস্ত্রীক জগদীশ বসুনিয়া
-
‘পড়ুয়ারা আমাদের সন্তান’, ঝাড়খণ্ডে পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক বিজেপির
-
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ-টিয়ার গ্যাস! ঝাড়খণ্ডে পুলিশের ‘বর্বরতা’য় ফুঁসছেন প্রকাশ
-
আমজনতার চেয়ে গড় আয়ু কম ডাক্তারদের! কিন্তু কেন? সামনে এল চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
-
জোড়াফুল প্রতীক কার হাতে? চলতি সপ্তাহেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ মমতা-ঋতব্রতর