১০ দিন আগেও ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে, দাদার অনুপ্রেরণাতেই এশিয়াডে সোনা সেনা জওয়ান নিরুর
একই দিনে এশিয়াড থেকে জোড়া পদক জিতেছেন নিরু।
তাঁর রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে লড়াই। দাদাকে দেখেছিলেন বন্দুক হাতে দেশকে পদক এনে দিতে। সেই স্বপ্ন সফল করতে প্রাণপন লড়াই করতে হবে, সেটাও জানতেন। তাই হাসপাতালের খাট থেকে সটান নেমে পড়লেন এশিয়ান গেমসের মঞ্চে। ঐতিহাসিক সোনা জিতে নিলেন। সেনা জওয়ান নিরু ধান্ধার সোনা জয়ে উচ্ছ্বসিত গোটা দেশ। তবে ছোট্ট মেয়ে থেকে শুটার হয়ে ওঠার যাত্রা অসাধারণ।
ছোটবেলায় নিরু দেখেছিলেন দাদা লক্ষ্য শেওরানকে। ২০১৮ এশিয়াডে ট্র্যাপ শুটিংয়ে রুপো জিতেছিলেন লক্ষ্য। তাঁকে দেখেই নিরু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন, শুটিং নিয়েই জীবনে এগিয়ে যাবেন। মেয়ের এই স্বপ্নে পাশে দাঁড়ালেন নিরুর বাবা। বাড়িতে থাকা বন্দুকটাই তুলে দেন মেয়ের হাতে। টিনের ছোট ক্যান সাজিয়ে লক্ষ্য স্থির করতেন নিরু। সেখান থেকেই নির্ভুল শট মারার হাতেখড়ি।
আরও পড়ুন:
পরে লক্ষ্যর থেকে বন্দুক ধার করে শুটিং শুরু করেন নিরু। হরিয়ানার জিন্দের মেয়ে নিরুকে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ছাড়তে হয় ঘর। যোগ দেন ভোপালের শুটিং অ্যাকাডেমিতে। সেখান থেকেই শুটিংয়ে কেরিয়ার গড়ার সূচনা নিরুর। ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম। জাতীয় পর্যায়ে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্সের পর অবশেষে ২০২২ সালে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে নামেন। কিন্তু সাফল্য আসেনি।
গতবছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতেন নিরু। সেখান থেকেই এশিয়াডে সোনা জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু। চলতি বছর বিশ্বকাপে সোনা জেতেন। এশিয়াডেও পদকের দাবিদার হিসাবে নিরুর নাম ছিল আলোচনায়। এশিয়াডের শুটিংয়ে বরাবরই ভারত সাফল্য পেয়ে এসেছে। সেই ধারা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ ছিল নিরুর। কিন্তু সেই অভিযানের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিলেন তিনি।
প্রতিযোগিতার মাত্র ১০ দিন আগে পর্যন্তও হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ছিলেন নিরু। ফ্লুয়ে আক্রান্ত হয়ে কাবু হয়ে পড়েছিলেন। খানিকটা সেরে উঠেই নেমে পড়তে হয় শুটিং রেঞ্জে। ব্যক্তিগত এবং দলগত-দুই বিভাগেই ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে আইচি-নাগোয়ায় নেমে পড়েন। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ট্র্যাপ শুটিংয়ে একের পর এক নির্ভুল শট মারলেন। এনে দিলেন জোড়া পদক।
আরও পড়ুন:
এশিয়াডের দশম দিনের শুরুতেই সোনা জয়ের হাতছানি ছিল নীরুর সামনে। মহিলাদের ট্র্যাপ শুটিংয়ে দলগত বিভাগে নেমেছিলেন নিরু। সঙ্গী অসীমা অহলাওয়াত এবং মনীষা কির। কিন্তু আবারও ফাইনালে গিয়ে চিনের কাছে হার। রুপো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় ভারতীয় ব্রিগেডকে। কিন্তু সেই ব্যর্থতা ব্যক্তিগত বিভাগে ভুলিয়ে দিলেন মিলিটারি পুলিশ কোরের নায়েব সুবেদার নিরু।