রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভুগল ভারত! এশিয়াডে শুটারদের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
বিচার করতে গেলে, শুটিংয়ের পদক সংখ্যায় ৩১% পতন হয়েছে। সোনার পদকের সংখ্যা কমেছে ৫৭%।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে সাড়ে চার বছর ধরে। হাজারে হাজারে প্রাণহানি তো বটেই, গোটা বিশ্বে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে যুদ্ধের ফলে। কূটনৈতিক সমস্যা, তেল বেচাকেনা, আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিকাঠামো-সমস্ত ক্ষেত্রেই ক্ষতি হয়েছে যুদ্ধের কারণে। কিন্তু এবার সেই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়ল ভারতের ক্রীড়াজগতে। একটার পর একটা স্বর্ণপদক হাতছাড়া হল ভারতীয় শুটারদের। ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে উঠে আসছে চমকে দেওয়া রাশিয়া কানেকশন।
সদ্য শেষ হওয়া এশিয়ান গেমসে ভারতীয় শুটাররা জিতেছেন ১৫টি পদক। গত এশিয়াডে এই সংখ্যাটা ছিল ২২। শতাংশের নিরিখে বিচার করতে গেলে, শুটিংয়ের পদক সংখ্যায় ৩১% পতন হয়েছে। সোনার পদকের সংখ্যা কমেছে ৫৭%। উল্লেখ্যযোগ্যভাবে, একাধিক সোনা ভারতের হাতছাড়া হয়েছে একেবারে সামান্য ফারাকের জন্য। অলিম্পিকে জোড়া পদকজয়ী মনু ভাকের ফিরছেন খালি হাতে। একই অবস্থা রাইফেল শুটারদেরও।
আরও পড়ুন:
শুটারদের ব্যর্থতার নেপথ্যে যে শুধুই পারফরম্যান্স, এমনটা নয়। প্রতিযোগিতার শুরুতে বেশ ঝক্কি পোয়াতে হয়েছিল তাঁদের। যথাযথভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু মেলেনি অনেকের। কেউ বা বিমানবন্দরের সোফায় ঘুমিয়েছেন। ক্লান্তি নিয়েই বন্দুক চালাতে হয়েছে তাঁদের। একইসঙ্গে ভুগতে হয়েছে নিজেদের সরঞ্জাম নিয়েও। সেখানেই ওতপ্রোতভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও জড়িয়ে পড়েছে। বলা যেতে পারে, যদি এই যুদ্ধ না চলত তাহলে এশিয়াডে শুটারদের সাফল্য বাড়তে পারত।
যুদ্ধের সঙ্গে এশিয়াডের কী সম্পর্ক? ঠিক এশিয়াডের সম্পর্ক নেই, কিন্তু খেলার সরঞ্জামের সঙ্গে যুদ্ধের যোগ রয়েছে। ভারতীয় শুটাররা যে বুলেট ব্যবহার করেন নানা প্রতিযোগিতায়, তার সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তার মধ্যে অন্যতম .২২ ক্যালিবারের বুলেট। মূলত ক্রীড়াদুনিয়াতেই এই বুলেট ব্যবহার হয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে গুলি ছোড়ার জন্য এই বুলেট অত্যন্ত কার্যকর।
কিন্তু যুদ্ধের কারণে বুলেট আমদানিতে প্রবল সমস্যা হচ্ছে। যেহেতু একাধিক দেশের মধ্যে বাণিজ্যে কড়াকড়ি রয়েছে, ফলে বুলেট পেতে সমস্যায় পড়ছেন শুটাররা। তার চেয়েও বড় সমস্যা হয়েছে বুলেটের উৎপাদনে। যুদ্ধের জেরে হুহু করে বাড়ছে মানুষ মারার বুলেটের চাহিদা। উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিও মুনাফার আশায় ঘাতক বুলেট বানাচ্ছে, খেলার বুলেটে তাদের আগ্রহ নেই। ফলে টান পড়ছে বুলেটের জোগানে।
আরও পড়ুন:
বাধ্য হয়ে ভারতীয় শুটাররা অন্তত তিন থেকে চার বছরের পুরনো বুলেট ব্যবহার করছেন। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার ফলে বুলেটের নির্ভুলতা নষ্ট হয়ে যায়। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শুটিং কর্তা জানিয়েছেন, এশিয়ান গেমসে আগে পুরনো বুলেটেই অনুশীলন করতে হয়েছিল শুটারদের। সেই বুলেট নিয়েই প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। এবং একের পর এক ইভেন্টে নিজের সেরাটা দেওয়ার পরেও বুলেটের ব্যর্থতায় অধরা থেকে গিয়েছে তাঁদের সাফল্য।