শ্রীক্ষেত্র আর কালীক্ষেত্র। ভৌগোলিক দূরত্ব অনেক, উপাসনার রীতিতেও আকাশ-পাতাল ফারাক। এক দিকে বৈষ্ণব ভাবাবেগ, অন্য দিকে শাক্ত সাধনা। কিন্তু নদী আলাদা হলেও সাগরে গিয়ে তো সবাই মেশে। জ্যৈষ্ঠের পূর্ণিমা তিথিতে এসে সেই দুই ভিন্ন ধারার মিলন ঘটে এক আশ্চর্য মোহনায়। পুরীর জগন্নাথদেবের মতোই উৎসবের আলোয় সেজে ওঠে মহাতীর্থ কালীঘাট। আবির্ভাব তিথিতে সেখানেও সাড়ম্বরে আয়োজিত হয় স্নানযাত্রা। প্রথার নিবিড় বন্ধনে বাঁধা পড়ে দুই ভিন্ন মেরুর পুণ্যতীর্থ।
আরও পড়ুন:

পুরীধামে জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় রত্নবেদী ছেড়ে স্নান-মণ্ডপে আসেন মহাপ্রভু। মনে করা হয়, এই পুণ্য লগ্নেই দারুবিগ্রহে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ঠিক একই দিনে, এই একই তিথিতে কালীঘাটেও চলে এক নিভৃত উৎসব। লোকশ্রুতি, এই জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমাতেই দুই ব্রহ্মচারী ব্রহ্মানন্দ গিরি ও আত্মারাম ব্রহ্মচারী হ্রদ থেকে উদ্ধার করেছিলেন সতীর প্রস্তরীভূত পদাঙ্গুলি। মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে সেই সতী-অংশের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়। সেই থেকে এই দিনটি কালীঘাটের মায়েরও আবির্ভাব তিথি। শ্রীক্ষেত্র আর কালীক্ষেত্র এ ভাবেই লীন হয়ে যায় এক বিন্দুতে। ঈশ্বরের করুণাধারায় ধুয়ে যায় সমস্ত ভেদাভেদ।
শাক্ত ও বৈষ্ণব শাস্ত্র মতে, কলিযুগে কৃষ্ণ ও কালী অভিন্ন। স্নানযাত্রার পুণ্যলগ্নে কালীঘাটে সেই লীলাই জীবন্ত হয়ে ওঠে। কথিত আছে, গভীর রাতে সেবায়েত ভবানীদাস চক্রবর্তীর পাওয়া স্বপ্নাদেশ মেনে, প্রতি বছর এই দিনে উষালগ্নে দেবীকে সাজানো হয় বৈষ্ণবী রূপে। মায়ের নাসিকাগ্রে ও কপালে এঁকে দেওয়া হয় শ্বেতচন্দনের তিলক। শাক্ত পীঠস্থানে তখন উপচে পড়ে বৈষ্ণবীয় স্নিগ্ধতা। মায়ের এই মায়াময় লাবণ্য দেখে ভক্তরা আবেগে আপ্লুত হন। শাক্ত ও বৈষ্ণব দর্শনের এই চিরায়ত সমন্বয়ই কালীঘাটের স্নানযাত্রাকে এক অনন্য মহিমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

তবে পুরীর সঙ্গে কালীঘাটের স্নানযাত্রার উপাসনা রীতির খানিক তফাৎ রয়েছে। জগন্নাথের মহাস্নান দেখেন লক্ষ লক্ষ ভক্ত। কিন্তু কালীঘাটের পুজো পরম গোপন, নিবিড় অনুশাসনের। বর্তমানে সতীর সেই পবিত্র অঙ্গটি দেবী দক্ষিণাকালীর মূর্তির নিচে একটি রুপোর সিন্দুকে সুরক্ষিত থাকে। স্নানযাত্রার দিন ভোরে সেবায়েতরা শুদ্ধবস্ত্রে চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রবেশ করেন গর্ভগৃহে। সম্পূর্ণ অন্ধ অবস্থায়, শুধু স্পর্শের অনুভূতিতে চলে দেবীর অঙ্গস্নান। গঙ্গাজল, গোলাপ জল, সুগন্ধি আতর, অগুরু আর জবাকুসুম তেলের মিশ্রণে স্নান করানো হয় সতী-অংশকে। স্নান শেষে দেবীকে পরানো হয় সোনার সুতোয় বোনা নতুন বেনারসি শাড়ি। তার পর আবার সযত্নে রেখে দেওয়া হয় রুপোর বাক্সে। তারপরই খোলা হয় মন্দিরের দ্বার।
এই উৎসবের আরও এক মহাজাগতিক মাহাত্ম্য রয়েছে। শাক্ত ও বৈষ্ণব শাস্ত্র মতে, কলিযুগে কৃষ্ণ ও কালী অভিন্ন। স্নানযাত্রার পুণ্যলগ্নে কালীঘাটে সেই লীলাই জীবন্ত হয়ে ওঠে। কথিত আছে, গভীর রাতে সেবায়েত ভবানীদাস চক্রবর্তীর পাওয়া স্বপ্নাদেশ মেনে, প্রতি বছর এই দিনে উষালগ্নে দেবীকে সাজানো হয় বৈষ্ণবী রূপে। মায়ের নাসিকাগ্রে ও কপালে এঁকে দেওয়া হয় শ্বেতচন্দনের তিলক। শাক্ত পীঠস্থানে তখন উপচে পড়ে বৈষ্ণবীয় স্নিগ্ধতা। মায়ের এই মায়াময় লাবণ্য দেখে ভক্তরা আবেগে আপ্লুত হন। শাক্ত ও বৈষ্ণব দর্শনের এই চিরায়ত সমন্বয়ই কালীঘাটের স্নানযাত্রাকে এক অনন্য মহিমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কমিকস থেকে শুরু জাপানের ফুটবল রূপকথা! ‘স্বার্থপর’ হয়েই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘মাঙ্গা’?
-
তীর্থযাত্রায় দুর্ঘটনা উত্তরপ্রদেশে, দু’টি গাড়ির সংঘর্ষে প্রাণ গেল এক পরিবারের ৪ জনের, প্রকাশ্যে ভিডিও
-
চল রাস্তায় সাজি ট্রামলাইন… এবার সল্টলেক, নিউটাউনেও! ফের শহরে স্বমহিমায় ফিরছে ট্রাম পরিষেবা
-
যানজটের সমস্যা মেটাতে ‘মাস্টারস্ট্রোক’, ‘অবৈধ’ ক্লাব ভাঙার নির্দেশ বাঁকুড়ার বিধায়কের
-
বিজেপি নেতাকে প্রাণে মারার চেষ্টা! গ্রেপ্তার রহিম নবির ভাই-সহ দুই তৃণমূল নেতা