শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রেমভক্তির সেই প্লাবন, যা একদা নদিয়ার সংকীর্তন-তরঙ্গে উথলে উঠেছিল, তা শেষ পর্যন্ত সমুদ্র ডিঙিয়ে সুদূর পাশ্চাত্যে আছড়ে পড়েছে এক একাকী সাধকের দূরদর্শী সংকল্পে। গঙ্গাতীরের কল্লোলিত মাটি থেকে দূরবর্তী আটলান্টিকের ওপার— পরম পূজনীয় শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের হাত ধরে বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংকীর্তন আন্দোলন বিশ্বজনীন রূপ পরিগ্রহ করেছে। বিশ্বজনীন কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর প্রতিষ্ঠাতা-আচার্যের আবির্ভাব তিথিতে আজ বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সেই পরম বৈষ্ণবের বন্দনাগীতিকা। অবশ্য একদিনে এই জয়যাত্রা সূচিত হয়নি। কীভাবে ঘটেছিল? লিখছেন ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ডিন ড. সুমন্ত রুদ্র।
আরও পড়ুন:
ভাগবতধর্মের মূল সূত্র নিহিত রয়েছে ঈশ্বরানুভূতির নিরবচ্ছিন্ন প্রেমানন্দে। ষোড়শ শতকে শ্রীচৈতন্যদেব যে হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে ভক্তিধারার পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছিলেন, তা কেবল ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ থাকার ছিল না। বৈষ্ণব গুরুপরম্পরার অন্যতম ধারক হিসেবে শ্রীল প্রভুপাদ এই গুহ্য তত্ত্বকে বিশ্বমানবতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার সঙ্কল্প গ্রহণ করেন। বিংশ শতকের প্রথমার্ধে গুরু শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের নিকট প্রাপ্ত সেই নির্দেশই হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনের পরম পরমার্থ।

১৯৬৫ সালে সত্তর ছুঁই-ছুঁই বয়সে কলকাতা বন্দর থেকে জলপথে তাঁর আমেরিকা যাত্রা কেবল দেশত্যাগ ছিল না, তা ছিল আধ্যাত্মিক দিগ্বিজয়ের সূচনা। মূলধন বলতে ছিল গুরুর বাক্য ও ভগবদ্গীতার শাশ্বত জ্ঞান। ১৯৬৬ সালে নিউ ইয়র্কের বুকে ইসকন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয় এক অভূতপূর্ব ভক্তিসাধনা। পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী আবহে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের এই ধ্বনি এক নতুন আধ্যাত্মিক উন্মাদনা তৈরি করে। ভক্তিযোগের চিরন্তন বার্তা সেখানে দ্রুত প্রসারিত হতে থাকে।
প্রভুপাদের এই প্রচার অভিযান কেবল মন্দিরের কাঠামো গড়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বৈষ্ণব সাহিত্যের আকর গ্রন্থ শ্রীমদ্ভাগবতম্, ভগবদ্গীতা ও চৈতন্যচরিতামৃত-এর সাবলীল অনুবাদ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যার মাধ্যমে তিনি ভক্তি মার্গকে যুক্তিবাদী বিশ্বসমাজের কাছে বোধগম্য করে তোলেন। সংকীর্তনরসে জারিত এই শাস্ত্রীয় জ্ঞান প্রচারের মাধ্যমে তিনি আচার্য সংস্কারের এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বর্ণময় সংস্কৃতি ও বিভিন্ন ভাষার মানুষ যখন একই মণ্ডপে সমবেত হন, তখন বোঝা যায় চৈতন্য মহাপ্রভুর সেই ভবিষ্যদ্বাণী কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
বাংলার মাটিতে প্রোথিত যে হরিভক্তির চারাগাছ, তা আজ প্রভুপাদের একনিষ্ঠ সেবায় মহীরুহে পরিণত। মহাজনের পদচিহ্ন অনুসরণ করে যে বাণী তিনি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, তা বিশ্বমানবের হৃদয়কে প্রেমানন্দে সিক্ত করে চলেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভাড়ার অ্যাকাউন্টে দেশজুড়ে সাইবার জালিয়াতি! পার্ক স্ট্রিটের ব্যাঙ্কে ‘মিউল অ্যাকাউন্টের’ সন্ধান পেল পুলিশ
-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সসম্মানে ফিরলেন বঙ্গবন্ধু, হাদির নাম মুছে ফিরছে শেখ মুজিবুর রহমান হল
-
শ্রীঘরে দুই বেয়াই! দু’বছর আগে নাবালিকার বিয়ে, কোলে ৬ মাসের শিশু, খবর পেতেই ‘অ্যাকশন’ পুলিশের
-
‘হিরো, আপনিই বাঁচিয়েছেন’, ককপিটে সতীর্থের ছুরিতে রক্তাক্ত হয়েও কর্তব্যে অবিচল ভারতীয় পাইলট
-
বার্বিকিউ কাণ্ড থেকে শিক্ষা! দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কত হোমস্টে? রিপোর্ট চাইলেন মন্ত্রী