Y Chromosome

ফুরিয়ে যাচ্ছে ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম, পৃথিবী থেকে কি মুছে যাবে পুরুষ জাতিই? বিজ্ঞান বলছে…

জেনেটিসিস্ট জেনিফার এ মার্শাল গ্রেভসের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ১ কোটি ১০ লক্ষ বছর পরে পুরোপুরি মুছে যাবে 'ওয়াই' ক্রোমোজোম।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২১, ২০২৬, ১৯:৪৬

options
link
ফুরিয়ে যাচ্ছে ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম, পৃথিবী থেকে কি মুছে যাবে পুরুষ জাতিই? বিজ্ঞান বলছে…
এআই দ্বারা নির্মিত চিত্র।

সদ্যোজাত শিশুটির লিঙ্গ কী, তা মা অথবা চিকিৎসক নয়, নির্ধারণ করে শিশুটির শরীরে উপস্থিত ক্রোমোজোম। নারীদেহে থাকা দুটো ক্রোমোজোমই ‘এক্স’, অন্যদিকে পুরুষদেহে থাকে একটি ‘এক্স’ ও একটি ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম। অর্থাৎ কোনও মানুষ পুরুষ কি-না, তা নির্ভর করে ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোমের (Y chromosome) উপরেই।

Advertisement

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বারবারই গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করছেন, বিবর্তনের ধারায় ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম ধীরে ধীরে তার জিন হারিয়েছে (Is the Y chromosome disappearing?)। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩০ কোটি বছরে এটি তার মূল ১,৪৩৮টি জিনের মধ্যে ১,৩৯৩টিই হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে রয়ে গিয়েছে আনুমানিক ৪৫টি জিন মাত্র। তবে কি পুরুষেরা বিলুপ্ত হয়ে যাবে পৃথিবী থেকে? কেবলমাত্র নারীরাই রয়ে যাবে? সেক্ষেত্রে প্রজন্ম এগোবে কীভাবে? তবে কি পৃথিবী থেকে মানবজাতিই গায়েব হতে চলেছে আগামী দিনে?

Advertisement
Whether a person is male depends on the Y chromosome
‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম।

গবেষণাপত্রের কিছু অংশ ‘পাব্লিক’ হতে, নানা জল্পনা শুরু হয়েছে বিষয়টি ঘিরে। এমনকী সোশাল মিডিয়াতেও রীতিমতো রমরম করে চর্চা চলছে— পুরুষদের সংখ্যা কি শূন্য হয়ে যাবে আগামী দিনে?

Advertisement

জেনেটিসিস্ট জেনিফার এ মার্শাল গ্রেভস দীর্ঘদিন ধরে ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর মতে, ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম বিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে ছোট হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে তাত্ত্বিকভাবে এটি প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ (১১ মিলিয়ন) বছর পরে হারিয়েও যেতে পারে। যদিও এটি সম্ভাবনার ভিত্তিতে করা হিসাবমাত্র, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

বিজ্ঞান অবশ্য জানাচ্ছে, পুরুষরাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে পৃথিবী থেকে, এমন আশঙ্কার কারণ নেই। কারণ ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম হারিয়ে গেলেও পুরুষের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে— এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে করা যায় না। একাধিক প্রাণী প্রজাতির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম না থাকলে, বিবর্তনের মাধ্যমে অন্য কোনও জিন পুরুষ লিঙ্গ নির্ধারণের দায়িত্ব নিয়েছে। অর্থাৎ, প্রকৃতি প্রয়োজন হলে বিকল্প পথও তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি ‘প্রোসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সাইন্সেস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনই যেমন এই কথার সমর্থন করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জাপানের এক বিশেষ প্রজাতির ইঁদুরের ক্ষেত্রে ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, বিবর্তনের ধারাতেই নতুন ‘মেল-ডমিনেটিং জিন’-এর আবির্ভাব হয়েছে।

তবে মানুষের ক্ষেত্রেও কি একেবারেই একইভাবে বজায় থাকবে ধারা? আজ থেকে এক কোটি বছর পরের পৃথিবীর নারী পুরুষেরা কেমন হবে, সে উত্তর কেবল বিজ্ঞানই জানাতে পারে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.