Muon

ব্রহ্মাণ্ডের ভিত নড়িয়ে দিতে পারে ইলেকট্রনের ‘তুতো ভাই’ মিউয়ন, নয়া গবেষণায় চাঞ্চল্য

এই আবিষ্কারকে যুগান্তকারী এবং গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো ঘটনা বলছেন বিজ্ঞানীরা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২১, ১৫:১৫

options
link
ব্রহ্মাণ্ডের ভিত নড়িয়ে দিতে পারে ইলেকট্রনের ‘তুতো ভাই’ মিউয়ন, নয়া গবেষণায় চাঞ্চল্য

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পৃথিবীর (Earth) বিভিন্ন উপাদান কী কী দিয়ে তৈরি? কঠিন এই প্রশ্নের প্রথম উত্তর খুঁজে পেয়েছিলেন এক ভারতীয়। নাম কণাদ। তিনি জানান, পরমাণুর কথা। বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণেও দেখা গিয়েছে, চোখের সামনে তরল, কঠিন, গ্যাসীয় সমস্ত কিছুরই আধার এই পরমাণু। তার পর কেটেছে অনেকটা সময়। ধীরে ধীরে ভৌতবিজ্ঞানের পাতায় সামনে এসেছে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রনের কথা। এবার অর্থাৎ ২০২১ সালে সামনে এল ইলেকট্রনেরই তুতো ভাই মিউয়নের (Muon) কথা। সে নাকি এতটাই শক্তিশালী যে, ব্রহ্মাণ্ডের ভিত নড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

Advertisement

গত বুধবার ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্সে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আপাতত নড়েচড়ে বসেছে বিজ্ঞানীমহল। পরে বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞান পত্রিকা ‘নেচার’ও ইলিনয়ের ফার্মি ন্যাশনাল অ্যাক্সেলেরেটর ল্যাবরেটরির গবেষণার কথা উল্লেখ করেছে। নতুন গবেষণা বলছে, ব্রহ্মাণ্ডে আরও অনেক কণাই রয়েছে। যাদের কথা এখনও জানা যায়নি।

Advertisement

[আরও পড়ুন: মঙ্গলের আকাশে সাতরঙা ‘রামধনু’! নাসার ‘পারসিভিয়ারেন্সে’র পাঠানো ছবিতে শোরগোল]

এর আগে ২০১২ সালে হিগ্‌স বোসনের ‘ঈশ্বরকণা’ আবিষ্কারকে যুগান্তকারী বলে মান্যতা দেওয়া হয়েছিল। এবার মিউয়নও একই রকম আশার আলো সঞ্চার করেছেন ফার্মিল্যাবের বিজ্ঞানীরা। কেন্টাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ এই চাঞ্চল্যকর গবেষণাপত্র পড়ার পর জানান, “মিউয়নের ব্যাপারে আরও জানতে চাই। এই গবেষণা সাফল্য পেলে আমরা নিশ্চিত হব যে, ব্রহ্মাণ্ডের আরও অনেক অজানা কণা রয়েছে।”

Advertisement

সালটা ২০০১। নিউ ইয়র্কের ব্রুকহাভেন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি প্রথম মিউয়ন কণার কথা উল্লেখ করে। কিন্তু খরচের জন্য সেই পরীক্ষাকে আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে ২০১৮ সাল থেকে ফার্মিল্যাব মিউয়ন নিয়ে গবেষণা শুরু করে। শুরু হয় মিউয়ন নিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ। অবশেষে গত বুধবার ফার্মিল্যাবের কণাপদার্থবিজ্ঞানী তথা অন্যতম গবেষক ক্রিস পলি বলেন, “মিউয়নের আবিষ্কার আসলে মঙ্গলে নাসার রোভার পারসিভের‌্যান্স-এর নিখুঁত ল্যান্ডিংয়ের ভিডিও তোলার মতো যুগান্তকারী এবং গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো ঘটনা।”

[আরও পড়ুন: ইউরেনাস থেকে ঠিকরে বেরচ্ছে এক্স-রে! কারণ নিয়ে সংশয়ে গবেষকরা]

প্রথমে পরীক্ষার নাম দেওয়া হয়েছিল, ‘মিউয়ন জি মাইনাস ২’। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, এই পরীক্ষার ফলাফল এতটাই নিখুঁত যে, ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রতি ৪০ হাজার ঘটনায় মাত্র একটি। পলির সঙ্গে ওই আবিষ্কারের গবেষণায় কাজ করেছেন সাতটি দেশের ২০০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী।

যদিও বিজ্ঞানীরা বলছেন, মিউয়ন নিয়ে এখনও গবেষণা শেষ হয়নি। এখনও অনেকটা পথ চলার বাকি। তবে মিউয়নের ম্যাগনেটিক মুহূর্ত নিয়ে আশাবাদী বিজ্ঞানীকুল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.