Saraswati Puja

সরস্বতী পুজোর বাকি ২দিন, অথচ পলাশের শাখায় শুধুই কুঁড়ি! পুজোর আগে চিন্তায় সকলে

এবার ফুল কতটা মিলবে ক্রমশ সংশয় বাড়ছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২৫, ২২:২২

options
link
সরস্বতী পুজোর বাকি ২দিন, অথচ পলাশের শাখায় শুধুই কুঁড়ি! পুজোর আগে চিন্তায় সকলে

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: কুড়িতে গাছ ভরেছে। কিছু গাছে সামান্য ফুল এলেও কনকনে ঠান্ডায় বেশিরভাগ গাছে কুড়ি থেকে গিয়েছে। একদিন বাদে রবিবার বসন্ত পঞ্চমী হলেও পলাশ ফুল বাজারে আসেনি। অথচ পলাশপ্রিয়া বাগদেবী আরাধনার উপাচারে পলাশ ফুল দেন প্রায় সবাই। পুষ্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবার বাগদেবী আরাধনা কিছুটা এগিয়েই হচ্ছে। তাপমাত্রা না বাড়লে এই ফুলের দেখা সেভাবে মিলবে না। স্বভাবতই প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে তবে কি উত্তরে এবার বসন্তের পথে শীত কাটা?

Advertisement

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে এবার পঞ্চমী তিথি শুরু হবে ১৯ মাঘ, রবিবার। সেদিন সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে শুরু হবে পুজো। পঞ্চমী তিথি শেষ হবে ৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার। অর্থাৎ দুদিন সরস্বতী আরাধনা চলবে। সাধারণত, শীতের শেষ, বসন্তের শুরুতে হয় বাকদেবীর আরাধনা। এটাই শাস্ত্র মতে দস্তুর। এই সময় থাকে, পলাশ, আমের মুকুলের সমারোহ। বাগদেবী আরাধনার পলাশ রাঙা আকাশই দস্তূর। কিন্তু এবার ফুল কতটা মিলবে ক্রমশ সংশয় বাড়ছে। কারণ, শহর-গ্রামের বেশিরভাগ গাছে এখনও তেমনভাবে ফুলের দেখা মেলেনি। তাই হয়তো বাগদেবী আরাধনায় কলি অর্পণ করতে হবে। 

Advertisement

পলাশ তেমন না ফোটায় বেশ উদ্বিগ্ন পুরোহিতকুলও। বঙ্গীয় পুরোহিত ও যজমান সঙ্ঘের সভাপতি জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, “দেবীর পুষ্পপাত্রে আবির, কুমকুমের পাশাপাশি পলাশ, আমের মুকুল ও যবের শিষ থাকা বাধ্যতামূলক। এবার পলাশের কুড়ি এলেও ফুল দেখা যাচ্ছে না। তাই কুড়ি দিয়েই পুজো সারতে হতে পারে।”

Advertisement

কেন বাগদেবীর আরাধনায় পলাশ থাকা বাধ্যতামূলক? জয়ন্তবাবু জানান, প্রজনন এবং উর্বরতার সঙ্গে দেবী সরস্বতীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ঋতুমতীর প্রতীক। পলাশের রং লালচে কমলা। তাই প্রতীকীভাবে ওই ফুল থাকা আবশ্যিক। যে কারণে দেবীকে পলাশপ্রিয়া বলা হয়। যদিও ঋকবেদে সরস্বতী শ্রেষ্ঠ নদী রূপে কল্পিত।

বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথি থেকে শীতের আড়ষ্ঠতা ভেঙে জীবন চঞ্চল হয়ে ওঠে। লাগে বসন্তের ছোঁয়া। পলাশ, শিমুলের রাঙা হয়ে ওঠে প্রকৃতি। হৃদয়ে জাগে প্রেম। সেই দিক থেকে বসন্ত পঞ্চমী বাঙালির প্রেম নিবেদনের দিবস অর্থাৎ ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ হিসেবেও সমাদৃত। কিন্তু এবার যে নিজেরাই আরষ্ঠ পলাশ, শিমুল। পর্ণমোচী পলাশের শাখে থোকা থোকা কালো রংয়ের কুড়ি এলেও লালচে কমলা আগুনের আভা যে মিলছে না! কেন এমন পরিস্থিতি? কোচবিহারের উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্পদ্যানবিদ্যা অর্থাৎ ফ্লোরিকালচার বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপক জানান,  “পলাশ বসন্তের ফুল। উষ্ণ পরিবেশে এই ফুল ফোটে। ঠান্ডা কুড়ি থেকে ফুল বের হতে পারে না। ফুল ফোটার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। এবার শীতের দাপট থাকায় সেটাই হয়েছে। তাপমাত্রা বাড়লে ফুল ফুটবে।”

গবেষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব যে পরিবেশ ও প্রকৃতিতে কতটা গভীর হয়েছে সেটা পলাশের আকাল থেকেই স্পষ্ট। তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী না হওয়ায় এবার বসন্ত ঋতু আসতে বিলম্ব ঘটছে। তাই পলাশ, আমের মুকুল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। জলপাইগুড়ি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর বিপ্লব দাস বলেন,  “তাপমাত্রা দুদিন সামান্য বাড়তে ফের এমন তলানিতে নামছে টেকা দায় হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি ফুল-ফলের ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করছে। পলাশের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.