শিলিগুড়ি ডার্বি ড্র, টানা আটবার কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল

পেনাল্টি থেকে লাল কার্ড- নানা নাটকে ভরপুর ছিল ম্যাচ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭, ১৩:৫৪

options
link
শিলিগুড়ি ডার্বি ড্র, টানা আটবার কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল

মোহনবাগান-২ (ক্রোমা, আজহারউদ্দিন) 

Advertisement

ইস্টবেঙ্গল-২ (লালরাম মাউয়া, আল আমনা)

Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ১,২,৩…৮। দরকার ছিল কেবল একটি ড্রয়ের আর তাহলেই অষ্টমবার কলকাতা লিগ চলে আসত লেসলি ক্লডিয়াস সরণীতে। দু’টি পেনাল্টি, দু’টি লালকার্ড- নাটকীয়তায় ভরা ৯০ মিনিটের শেষে নিজেদের লক্ষ্যেই সফল হল ইস্টবেঙ্গল। ২-২ গোলে ফলাফলে ম্যাচ শেষ হলেও গোল পার্থক্যে কলকাতা লিগ জিতল ইস্টবেঙ্গল। ভাঙল গতবছর নিজেদেরই করা টানা সাতবার কলকাতা লিগ জয়ের রেকর্ড। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল লালরাম মাউয়া এবং আমনার। উলটোদিকে মোহনবাগানের হয়ে গোল ক্রোমা ও আজহারউদ্দিনের। এই নিয়ে পঞ্চমবার গোলপার্থক্যে কলকাতা লিগের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হল।

Advertisement

[চিন-পাকিস্তানকে চাপে রাখতে অত্যাধুনিক ড্রোন কিনছে ভারত]

মোহনবাগানের একাধিক খেলোয়াড়ের এটাই প্রথম ডার্বি। উলটোদিকে প্রতিপক্ষের দরকার ছিল কেবল ড্র। সেই জায়গায় দলকে লিগ জিততে হলে জয় পেতেই হবে, তাই বেশ আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজিতেই দল গঠন করেছিলেন মোহনবাগান কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী। আর ম্যাচ শুরুর ২ মিনিটের মাথায় কাঙ্খিত গোলটি পেয়েও যায় মোহনবাগান। সৌজন্য ইস্টবেঙ্গলের বিদেশি ডিফেন্ডার মিচেল। আজহারউদ্দিনের নিরীহ গোলমুখী শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের গোলেই ঢুকিয়ে দেন ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর এই খেলোয়াড়। শুরুতেই গোল পেয়ে যাওয়ায় আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ায় ক্রোমা-কামোরা। কিন্তু সুযোগ নষ্টের কারণে এগিয়ে যেতে পারেনি সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। উলটোদিকে, প্রথমদিকে নড়বড়ে দেখালেও প্রথমার্ধের সময় যত গড়ায় খেলায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল। এর মধ্যেই প্রথমার্ধের শেষদিকে গোল শোধ করে তাঁরা। গ্র্যাবিয়েলের ফ্রিকিক থেকে বল পান রালতে। এরপর পাস দেন ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা সতীর্থকে। সেখান থেকে গোল করতে কোনও ভুল করেননি লালরাম মাউয়া। শেষপর্যন্ত প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ১-১ গোলেই।

[ফিফার সেরা ফুটবলার হওয়ার দৌড়ে রোনাল্ডো, মেসি এবং নেইমার]

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে খেলা এগোতে থাকে। এর মধ্যেই ৪৭ মিনিটের মাথায় বক্সে ফাউল করে বসেন সেই মিচেল। ফলে পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। সেখান থেকে গোল করতে কোনও ভুল করেননি ক্রোমা। এরপরই একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকেন আমনা-প্লাজারা। শেষ পর্যন্ত ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। তা থেকে গোল করতে ভুল করেননি আমনা। এরপর শেষদিকে আরও নাটক। প্লাজার সঙ্গে ঝামেলা করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন মোহনবাগানের অধিনায়ক কিংশুক দেবনাথ। ফলে দশজনে খেলতে বাধ্য হয় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। এরপরই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় লাল-হলুদের সুরাবুদ্দিনের ক্ষেত্রেও। কিংশুকের ঘটনার কিছুক্ষণই পরেই পরপর দু’টি হলুদ কার্ডের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পরিবর্ত হিসেবে নামা সুরাবু্দ্দিন। শেষপর্যন্ত মরিয়া চেষ্টা করেও আর গোল করতে পারেননি মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা। আর ড্র করায় গোল পার্থক্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল।

[ধোনির সাহায্যে ক্ষুরধার হয়েছে কোহলির অধিনায়কত্ব, মত ওয়ার্নারের]

ম্যাচ জিতলেও এদিন ইস্টবেঙ্গলের খেলা মন ভরানোর মতো হয়নি। লাল-হলুদের রক্ষণ অবশ্যই আগামিদিনে চিন্তায় রাখবে কোচ খালিদ জামিলকে। উলটোদিকে কলকাতা লিগে রানার্স হলেও কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তীর প্রাপ্তি তাঁর খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতা এবং তাগিদ। যা আগামিদিনে মোহনবাগানকে আরও ভাল খেলতে সাহায্য করবে। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.