Ramakrishna Ghosh

খেলার জন্য ছাড়েন স্কুল, আইপিএলে অভিষেকেই ‘রকস্টার’ সিএসকের বঙ্গতনয় রামকৃষ্ণ

সুযোগ আসতে দেরি হতে পারে, কিন্তু একবার এলে সেটাকে কাজে লাগাতেই হয়। সেটাই করে দেখালেন বাঙালি ক্রিকেটার রামকৃষ্ণ ঘোষ। সিএসকের হয়ে আইপিএল অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়লেন তিনি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৩, ২০২৬, ১৬:৪৫

options
link
খেলার জন্য ছাড়েন স্কুল, আইপিএলে অভিষেকেই ‘রকস্টার’ সিএসকের বঙ্গতনয় রামকৃষ্ণ
রামকৃষ্ণ ঘোষ। ফাইল ছবি।

সুযোগ আসতে দেরি হতে পারে, কিন্তু একবার এলে সেটাকে কাজে লাগাতেই হয়। সেটাই করে দেখালেন বাঙালি ক্রিকেটার রামকৃষ্ণ ঘোষ। সিএসকের হয়ে আইপিএল অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়লেন তিনি। দুর্দান্ত এক ক্যাচের পাশাপাশি বল হাতেও তুলে নিলেন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। আইপিএলে অভিষেকেই ‘রকস্টার’ সিএসকের এই বঙ্গতনয়। 

Advertisement

১৯৯৭ সালের ২৮ আগস্ট নাসিকে জন্ম রামকৃষ্ণের। বাঙালি হলেও বড় হয়েছেন মহারাষ্ট্রে। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন মহারাষ্ট্রের হয়ে। বাবা শেখর ঘোষ একজন ক্রিকেট কোচ। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছেই ক্রিকেটের প্রথম পাঠ নিয়েছেন তিনি। রামকৃষ্ণ বোলিং অলরাউন্ডার। নিয়ন্ত্রিত গতি, নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় বোলিং করাই তাঁর শক্তি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by IPL (@iplt20)

Advertisement

ব্যাট হাতেও লোয়ার অর্ডারে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন। ২০২৪ মহারাষ্ট্র প্রিমিয়ার লিগে ৩৩ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছিলেন তিনি। তাছাড়া বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের বিপক্ষে ২৭ বলে ৬৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটেই খেলেছেন রামকৃষ্ণ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩ ম্যাচে ২৮ উইকেট, লিস্ট এ ক্রিকেটে ১১ ম্যাচে ২১ উইকেট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। বিজয় হাজারে ট্রফিতে হিমাচলপ্রদেশের বিপক্ষে ৪২ রানে ৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জোরেই আইপিএলের দরজা খুলে যায় তাঁর সামনে।

২০২৫ সালে সিএসকে তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকা বেস প্রাইসে দলে নেয়। যদিও প্রথম মরশুমে একটি ম্যাচেও সুযোগ পাননি। তবু ফ্র্যাঞ্চাইজি ভরসা রেখেছিল। এ বছর প্রথম সাত ম্যাচ অপেক্ষার পর অষ্টম ম্যাচে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন তিনি। অভিষেক ম্যাচেই প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নজর কাড়েন রামকৃষ্ণ। উইল জ্যাকসের শট ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে উড়ে গেলে দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন। পরে নিজের প্রথম আইপিএল উইকেট হিসাবে ফেরান সূর্যকুমারকে।

তাঁর ক্রিকেটযাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ক্রিকেটের জন্য স্কুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, “তখন আমার ১৬ বছর বয়স। ক্লাস নাইনে পড়ি। বাবা একদিন জিজ্ঞাসা করেছিল, পড়তে চাও নাকি ক্রিকেট খেলতে চাও? আমি ক্রিকেট বেছে নিয়েছিলাম।”

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Ramakrishna S. Ghosh (@rksghosh)

তিনি আরও বলেন, “উনি আমাকে স্কুল ছাড়িয়ে দেন। বাড়ি থেকেই ক্লাস টেনের পরীক্ষা দিয়েছিলাম। আমার বন্ধুরা যখন পড়াশোনা করত, আমি ক্রিকেট খেলেছি। সেখান থেকেই খেলোয়াড়ি মানসিকতা তৈরি হয়েছিল।” অপেক্ষা আর ধৈর্যের মূল্যও তিনি বুঝেছেন। তাঁর কথায়, “হয়তো বাকিদের থেকে একটু দেরিতে ক্রিকেট শুরু করেছি। কিন্তু মানিয়ে নেব ঠিকই।” বিজয় হাজারে ট্রফিতে গোয়ার বিরুদ্ধে শেষ দুই ওভারে এক রানও না দিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন তিনি। সেই স্মৃতি নিয়ে রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, “দারুণ মুহূর্ত ছিল ওটা। তবে পরিস্থিতিও অনেকটা সাহায্য করেছিল।”

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Ramakrishna S. Ghosh (@rksghosh)

নিজের সাফল্যের কথা গিয়ে তিনি সবার আগে বাবার নামই নেন রামকৃষ্ণ। তাঁর কথায়, সুযোগ দেরিতে এলেও বিশ্বাস হারাননি কখনও। বাবাই তাঁকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন। আজ তিনি যা হয়েছেন, তার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর বাবারই। বলেন, “আজ আমি যা, সেটা বাবার জন্যই।” রুতুরাজের নেতৃত্বে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েও মুখ খুলেছিলেন তিনি। রামকৃষ্ণ বলেন, “রুতুরাজ ঠান্ডা মাথার অধিনায়ক। শুরুতে চার বা ছয় খেলেও বোলারদের পাশে থাকে। চাপ দেয় না।” আর এমএস ধোনির সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়াই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাঁর মন্তব্য, “আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা ধোনি, রুতুরাজ এবং কোচেদের থেকে পাওয়া শিক্ষা।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.