Pakistan vs India

৮-১! বয়কটের লজ্জাও ছাপিয়ে গেল পাকিস্তানের বিশ্রী ক্রিকেট

টানটান মহারণের বদলে একপেশে এই ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচ দুই চিরশত্রুর চিরন্তন লড়াইকে কলুষিত করে তুলছে। এই যদি মাঠের পারফরম্যান্স হয়, এর চেয়ে কি বয়কটই শ্রেয় নয়, পাকিস্তান?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০০:০৮

options
link
৮-১! বয়কটের লজ্জাও ছাপিয়ে গেল পাকিস্তানের বিশ্রী ক্রিকেট
পদদলিত পাকিস্তান।
সৌজন্য: পিটিআই

গত বছর এশিয়া কাপে পাকিস্তানে ৩ ম্যাচে হারানোর পর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব রাখঢাক না করেই বলে দিয়েছিলেন, ইদানিং আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। পুরোটাই একপেশে। সূর্য যে বিশেষ ভুল কিছু বলেননি, সেটা আরও একবার প্রমাণ করল পাকিস্তান দল। সলমন আলি আঘারা দেখিয়ে দিলেন, বড় ম্যাচে বড় দলের বিরুদ্ধে খেলতে হলে ঠিক কী কী করা উচিত নয়। যে লজ্জার ক্রিকেট পাক দল উপহার দিল, তাতে নেটিজেনদের কেউ কেউ বলছেন, “এর চেয়ে বয়কটই ভালো ছিল।”

Advertisement

এদিন যেন শুরু থেকেই ‘আত্মঘাতী’ মানসিকতা নিয়ে নেমেছিলেন সলমন আঘারা। প্রথমত এত বড় ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত। তারপর সেই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা। স্পিনাররা দিব্যি বল করছিলেন। অথচ দলের ব্রহ্মাস্ত্র উসমান তারিককে সলমন আলি আঘা আনলেন একাদশ তম ওভারে। ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে প্রায় শ’খানেক রান উঠে গিয়েছে। ঈশান কিষান বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ফেলেছেন। আবার ১৯ তম ওভার পর্যন্ত স্পিনাররা ভালোই বল করছিলেন। কিন্তু কুড়িতম ওভারে একাধিক স্পিনারের ওভার থাকা সত্ত্বেও ঠিক কোন যুক্তিতে শাহীন আফ্রিদিকে আনলেন সলমন আঘা? সেটা তিনিই বলতে পারবেন। সেই ওভারে যে ১৬টি রান হয়ে গেল, সেটাই পাহাড়প্রমাণ চাপ তৈরি করে দিল পাকিস্তানের উপর।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
Pakistan
একের পর এক উইকেট খোয়াচ্ছে পাকিস্তান।

১৭৬ রানের টার্গেট একেবারে যে দুঃসাধ্য ছিল, তেমন নয়। কিন্তু পাকিস্তান তো পাকিস্তানই। ওই লক্ষ্যমাত্রা দেখেই তাঁরা আয়ারাম গয়ারাম শুরু করলেন। প্রথম ৩-৪ ওভারেই যেন খেলা শেষ। দেখে মনে হল, এই পাকিস্তান যেন হারতেই এসেছে। অবশ্য এই প্রথম নয়, টি-২০ জমানায় ভারতের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ঠিক এমনই বিশ্রী ক্রিকেট খেলে এসেছে তারা। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে যতবার ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছে পাকিস্তান, একবার ছাড়া প্রতিবার হেরেছে। যে কোনও ধরনের অবস্থা থেকে, জেতার মতো জায়গা থেকেও হারার উপায় খুঁজে বের করছে। সেটা প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে বোল আউট হোক, ফাইনালে মিসবা উল হকের রিভার্স স্কুপ হোক, ২০২২-এ মেলবোর্নে কোহলির সেই ঐতিহাসিক ইনিংস হোক, বা ২০২৪ সালে মাত্র ১১৯ রান চেজ করতে না পারা হোক। ভারতের বিরুদ্ধে হারার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের জুড়ি মেলা ভার।

Advertisement
T20 World Cup: Pakistan faces real embarrassment vs India
বিশ্বকাপে দু’দেশের মুখোমুখি পরিসংখ্যান। গ্রাফিক্স: অরিত্র দেব।

ইতিহাস বলছে, টি-২০ বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচের মধ্যে একমাত্র ২০২১ সাল বাদে প্রতিবার হেরেছে পাকিস্তান। ২০২১ সালের সেই হারের পর ভারতীয় ক্রিকেটে আমূল বদল আসে। অধিনায়কত্বের ব্যাটন বিরাটের হাত থেকে যায় রোহিতের হাতে। তারপর দু’টো আইসিসি ট্রফি এসেছে টিম ইন্ডিয়ার ঝুলিতে। অথচ বছরের পর বছর ধরে বদলাচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেট। দিন দিন যেন দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছেন সলমন আলি আঘারা। ভারত-পাকিস্তানের যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটা সময় ক্রীড়াজগতে সুবিদিত ছিল। যে ম্যাচের আগে তো বটেই ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা থাকত, সেসব যেন কোথায় হারিয়ে গিয়েছে পাক দলের অপদর্থতায়! টানটান মহারণের বদলে একপেশে এই ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচ দুই চিরশত্রুর চিরন্তন লড়াইকে কলুষিত করে তুলছে। এই যদি মাঠের পারফরম্যান্স হয়, এর চেয়ে কি বয়কটই শ্রেয় নয়, পাকিস্তান?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.