দিল্লি ক্যাপিটালস- ২০৩/৪ (জেমাইমা ৫৭, লরা ৪৪)
আরও পড়ুন:
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু- ২০৪/৪ (স্মৃতি ৮৭, ভল ৭৯)
তাঁরা দু’জন অভিন্নহৃদয় বন্ধু। স্মৃতি মন্ধানা ও জেমাইমা রডরিগেজ। কিন্তু বৃহস্পতিবার WPL-এর ফাইনালে তাঁরাই ছিলেন কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বী। জানাই ছিল, বিজয়ীর হাসি হাসবেন একজনই। শেষমেশ সেই বিজয়ীর শিরোপা পরলেন স্মৃতি। লড়েও হারতে হল জেমাইমাকে। স্মৃতি যে মেজাজে ব্যাট করছিলেন এই খেলার অন্য ফল সত্যিই কল্পনা করা যাচ্ছিল না। যদিও একেবারে শেষে দিল্লি নিশ্চিতভাবেই লড়াই দিয়েছিল। তবু পরপর চারবার ফাইনালে উঠে হারতে হল তাদের। অন্যদিকে আরসিবি এই নিয়ে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হল ফাইনাল ওভারে জয় ছিনিয়ে নিয়ে।
এদিন টসে জিতে দিল্লিকে ফিল্ডিং করার আহ্বান জানায় আরসিবি। শুরু থেকেই জমিয়ে ব্যাট করেন শেফালি (২০) ও লিজেল লি (৩৭)। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে এক উইকেটে ৪৯ দারুণ না হলেও বেশ ভালো সূচনা মানতেই হবে। নির্ধারিত ২০ ওভারে দিল্লি ক্যাপিটালস তুলে ফেলে ৪ উইকেটে ২০৩। সর্বোচ্চ অধিনায়ক জেমাইমার ৫৭ (৮x৪)। প্যাডের উপরে আসা সহজ ফুলটসকে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে তিনি আউট না হলে স্কোর আরও বাড়তে পারত দিল্লির। লরাও ৪৪ করে যান। একেবারে শেষে চিনেল হেনরি ১৫ বলে ৩৫ করে নটআউট থাকেন। বেঙ্গালুরুর কোনও বোলারই সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি লরেন বেল ছাড়া। তিনি ৪ ওভারে ১৯ রান দিলেও উইকেট অবশ্য তুলতে পারেননি।
ব্যাট হাতে নেমেই স্মৃতির মসৃণ স্ট্রেট ড্রাইভ বাউন্ডারিতে আছড়ে পড়ল। খেলা এখান থেকেই ঘুরতে শুরু করল আরসিবির দিকে। খেলা হয়ে গেল কার্যতই একপেশে।

দশের বেশি আস্কিং রেট মাথায় রেখে ব্যাট করতে নামে আরসিবি। শুরুতেই গ্রেস হ্যারিস ফিরে যান ৯ রান করে। তাঁর মিডল স্টাম্প উড়ে যাওয়ার সময় স্কোরবোর্ডেও সাকুল্যে ৯ রানই! এই পরিস্থিতিতে লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে যে পালটা মার দরকার ছিল তা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে না। পাশাপাশি উইকেট হাতে রাখাও দরকার ছিল। আর এই পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে নেমেই স্মৃতির মসৃণ স্ট্রেট ড্রাইভ বাউন্ডারিতে আছড়ে পড়ল। খেলা এখান থেকেই ঘুরতে শুরু করল আরসিবির দিকে। খেলা হয়ে গেল কার্যতই একপেশে। অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গত দিয়ে গেলেন জর্জিয়া ভল।
ফাইনালে সাধারণত কড়া টক্কর দেখতে চায় সবাই। দুশো রান টার্গেট হিসেবে বেশ বড়। এবং অবশ্যই ট্রফিজয়ের শেষপ্রান্তে পৌঁছে। সেই জায়গায় শুরুতেই উইকেট তুলেও শেষদিকের সামান্য লড়াই বাদ দিলে স্মৃতিদের কাছে যেন কার্যতই আত্মসমর্পণ করলেন শেফালি-জেমাইমারা। অবশ্য না করে সত্যিই কি উপায় ছিল? খেলার একেবারে শেষলগ্নে আউট হওয়া ভল চমৎকার খেলেছেন। ৭৯ রান ৫৪ বলে! মারলেন ১৪টি বাউন্ডারি। নিঃসন্দেহে অসাধারণ। কিন্তু স্মৃতি তাঁর চেয়েও নিখুঁত। কে বল করছে, কোথায় বল করছে সেসব যেন তাঁর মাথাতেই ছিল না। হেলাফেলার ভঙ্গিতে লেংথ বলকে দেখে দেখে যেভাবে সীমানা পার করাচ্ছিলেন, মনে হচ্ছিল কোনও কিছুই আজ তাঁকে থামাতে পারবে, এটা বিশ্বাসই করেন না।
ফাইনালে সাধারণত কড়া টক্কর দেখতে চায় সবাই। দুশো রান টার্গেট হিসেবে বেশ বড়। এবং অবশ্যই ট্রফিজয়ের শেষপ্রান্তে পৌঁছে। সেই জায়গায় শুরুতেই উইকেট তুলেও শেষদিকের সামান্য লড়াই বাদ দিলে স্মৃতিদের কাছে যেন কার্যতই আত্মসমর্পণ করলেন শেফালি-জেমাইমারা।
কিন্তু পরপর উইকেট পড়তেই খেলাটা সামান্য হলেও দিল্লির দিকে বাঁক নিচ্ছিল। তবু আরসিবি কখনওই লড়াই থেকে সরে আসেনি। স্মৃতি করে গেলেন ৪১ বলে ৮৭। ১২টি বাউন্ডারি, ৩টি ওভার বাউন্ডারি। তবু তিনি আচমকা বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে জয়ের আশা করেছিল বইকি দিল্লি। কিন্তু রাধা যাদবের পরপর জোড়া বাউন্ডারিতে ম্যাচ পকেটে পুরে নিল আরসিবি। খেলা শেষ হতে তখনও দুই বল বাকি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ব্রাজিল ম্যাচের আগেই পানামার বিরুদ্ধে নামবে ভারত, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল ফেডারেশন
-
ঠিকভাবে উল্লেখ নেই রাস্তার নাম! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে ৭ দফা আপত্তি সিপিএমের
-
হাসপাতালে থাকতে নারাজ বিমান বসু, ফিরতে চাইছেন কলকাতায়! কবে ছুটি?
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে মাস্টার প্ল্যান রাজ্যের
-
আচমকা মস্কোয় অবতরণ করল মার্কিন সেনার বিমান! ঘনাচ্ছে রহস্য, কী বলল ক্রেমলিন?