খেলার বিবাদে বদলেছে বন্ধুদের বাড়ির রং, ডানকুনি মজেছে দুই ফুটবলভক্তের কীর্তিতে

এই না হলে ফুটবলপ্রেমী বাঙালি!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৮, ১৪:৩৪

options
link
খেলার বিবাদে বদলেছে বন্ধুদের বাড়ির রং, ডানকুনি মজেছে দুই ফুটবলভক্তের কীর্তিতে

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাঙালি ফুটবলঅন্ত প্রাণ। তা সে বিশ্বকাপই হোক বা কলকাতা প্রিমিয়ার লিগ। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাও যেমন ফুটবলপ্রেমী বাঙালির হৃদয়ে তেমনই মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল বলতে অজ্ঞান। পাড়ার মোড়ে, চায়ের দোকানে, ঘরোয়া আড্ডায় ফুটবল নিয়ে আলোচনা হবে না তা কী হয়। প্রিয় দলের কে কত বড় সমর্থক তা জাহির করতে সব বাঙালিই ওস্তাদ। তেমনই এক কাণ্ড করেছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের দুই সমর্থক। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল-দুই ক্লাবের মাঠের লড়াইয়ের ছাপ এবার বাড়ির দেওয়ালেও! পাশাপাশি পাড়ার দুই বন্ধু ইস্টবেঙ্গল সমর্থক তন্ময় ভৌমিক আর মোহনবাগানের অভিজিৎ দত্ত। বন্ধুত্ব থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা সর্বক্ষেত্রেই। রাজ্য তথা দেশের যে প্রান্তেই ক্লাব খেলেছে, সেখানেই হাজির হয়েছেন দু’‌জন। আর দুই ক্লাব মুখোমুখি হলে তো কোনও কথাই নেই। যত কাজই থাকুক না কেন, হাজির হয়েছেন।

Advertisement
[মেসিই ধ্যান-জ্ঞান চা বিক্রেতার, ইছাপুরে ‘আর্জেন্টিনা’ চায়ের দোকান]

দু’‌জনেরই বাড়ি ডানকুনি এলাকার কালীপুর এলাকায়। শুধু বাড়ির লেন দুটি আলাদা। ক্লাবের সমর্থনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরমে উঠেছে। দু’‌জনেই তাঁদের বাড়ি রাঙিয়েছেন তাঁদের পছন্দের ক্লাবের রঙে। শুধু রঙ নয়, দুই বাড়ির দেওয়ালে স্পষ্ট করে ছাপিয়েছেন ক্লাবের লোগো ইস্টবেঙ্গলের মশাল আর মোহনবাগানের পালতোলা নৌকা। হঠাৎ দেখলে মনে হতেই পারে, মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের ক্লাব তাঁবু। একই বেসরকারি টেলিকম সংস্থায় কর্মরত দু’‌জন। একই সঙ্গে কাজে যাওয়া-আসা থেকে আড্ডা, সবই। কিন্তু বিভেদ প্রকট হয় খেলা বা ক্লাবের প্রসঙ্গ উঠলেই। একজন ঘোর লাল-হলুদ সমর্থক তো অন্যজন সবুজ-মেরুনের অন্ধভক্ত। দু’‌জন মুখোমুখি হলেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মাঠের লড়াই প্রত্যক্ষ করেন কালীপুরের বাসিন্দারা।

Advertisement
[প্রতিবন্ধী ছেলের ইচ্ছেপূরণে বাবা, ব্রাজিলের তাঁবুর আদলে সাজল গোটা বাড়ি]

প্রিয় দলের সমর্থনে এমন ভালবাসা সর্বত্রই চোখে পড়ে। আর্জেন্টিনার সমর্থনে নিজের বাড়ি নীল-সাদায় রাঙানোর উদাহরণও আছে এ রাজ্যে। ইছাপুরের নবাবগঞ্জের বাসিন্দা পেশায় চা-বিক্রেতা শিবশংকর পাত্র প্রিয় দলের জন্য গোটা বাড়ি রাঙিয়েছেন নীল-সাদায়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর থেকে সাফল্য আসেনি আর্জেন্টিনার। এবারও খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে মেসিদের। তা বলে দলের প্রতি সমর্থনে ভাটা পড়েনি নবাবগঞ্জের বাসিন্দার। তেমনই সবুজ-মেরুন ও লাল-হলুদের সাফল্য বা ব্যর্থতায় কিছু তফাৎ হয়নি অভিজিৎ দত্ত-তন্ময় ভৌমিকদের। প্রিয় দলের জন্য এঁরা যেকোনও দৃষ্টান্ত রাখতে পারেন। এই না হলে ফুটবলপ্রেমী বাঙালি।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.