পরাজয়েও ভারতীয় ফুটবলের মশাল জ্বালল ছোটরা

অনভিজ্ঞতা আর শারীরিক সক্ষমতাই ফারাক গড়ে দিল ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০১৭, ০৯:৩৮

options
link
পরাজয়েও ভারতীয় ফুটবলের মশাল জ্বালল ছোটরা

ভারত- ০

Advertisement

আমেরিকা- ৩ (জোস সার্জেন্ট, ডারকিন, কার্লটন)

Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একটা স্বপ্নের সত্যি হওয়া। একটা ইতিহাসের জন্ম। সেজে ওঠা জহওরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের বুকে শুক্রবার রাতে এ দুটো কথাই যেন লিখে রাখল ভারতীয় খুদেরা।

Advertisement

খেলার ফলাফল বলছে, আমেরিকার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে ভারত। কিন্তু এ নেহাতই পরিসংখ্যান। সত্যিই কি আজ হেরে গেল মাতোসের ছেলেরা? মোটেও না। বরং তাদের লড়াই-সংগ্রাম আর ঘামেই লেখা হল ভারতীয় ফুটবল প্রেমের সভ্যতার নয়া রূপকথা। এর আগে তো নীল জার্সি গায়ে কোনওদিন ভারতীয় ফুটবলারদের বিশ্বকাপে দেখা যায়নি। হোক না তা যুব বিশ্বকাপ। ১৩০ কোটির দেশ এই ভারতবর্ষ। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই সমর্থন চলে যেত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, ইতালি, ইংল্যান্ড, স্পেন কিংবা পর্তুগাল অথবা অন্য কোনও দেশের দিকে। ভিনদেশি পতাকা বুক জড়িয়েই আবেগের পরদা কাঁপত তিরতির করতে। আর জেগে থাকত অপেক্ষা। ডানা মেলত স্বপ্ন। ভারতের পতাকা হাতে, ভারতের খেলোয়াড়দের সমর্থনে উত্তাল-উদ্বেল হয়ে ওঠার সে অপেক্ষা যেন প্রতীক্ষায় পর্যবসিত হয়েছিল। আজ কোমল, ধীরজদের হাত ধরে স্বপ্নপূরণ একশো কোটি ভারতবাসীর। যে দেশে ফুটবল ধর্ম, আজ সে দেশে সেরা উৎসব। আর ওই এগারোজন অশ্বারোহী তার পূজারী। বিশ্বমঞ্চের আলোকজ্জ্বল ক্ষেত্রে ভারতীয় ফুটবলকে হাজির করলেন তো তারাই। নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলের বিজ্ঞাপনে এরাই ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার।

[জিএসটি-র হারে বড় পরিবর্তন, স্বস্তি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের]

কোমল থাতাল, অনিকেত যাদবরা কেউ নেইমার বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নন। কিন্তু খেলার শুরু থেকেই তাদের সমর্থনে চিৎকার করতে থাকে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা। ফিফার নির্দেশের কারণে হয়নি কোনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংবর্ধনা দেন ভারতের জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়কদের। বাদ যাননি বর্তমান ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীও। তাঁকেও সংবর্ধনা জানান মোদি। এরপর ম্যাচের শুরুতে দু’দলের ফুটবলারদের সঙ্গে সৌজন্য-সাক্ষাৎ করেন। এদিকে, ম্যাচের শুরু থেকেই রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেয় আমেরিকার খুদে খেলোয়াড়রা। প্রথম ১৫ মিনিটের পর থেকেই নাগাড়ে আক্রমণ তুলে আনতে থাকে তারা। কিছুটা হলেও এসময় রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে মাতোসের ছেলেরা। তবে এরপরই পালটা আক্রমণ শুরু করে ভারত। কিন্তু আমেরিকার গোলমুখী আক্রমণের কাছে তা কিছুই ছিল না। ৩০ মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্ডারের ভুলে পেনাল্টি পায় আমেরিকা। যা থেকে গোল করতে ভুল করেননি মার্কিন অধিনায়ক জোস সার্জেন্ট। প্রথমার্ধে গোল শোধের বেশ কিছু সুযোগ পেলেও মার্কিন রক্ষণের সামনে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন অনিকেত-কোমলরা।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই অবশ্য আরও একটি গোল খেয়ে যায় ভারত। ৫১ মিনিটে কর্নার থেকে ভারতীয় রক্ষণের ভুলে গোল করে যান মার্কিন খেলোয়াড় ডারকিন। তার শট রক্ষণের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলে ঢুকে যায়। সবাই যখন ভাবছে ভারতীয় খেলোয়াড়রা এবার বুঝি ভেঙে পড়ল, তখনই খেলার দিকবদল। ঘুরে দাঁড়ায় ভারতীয় খেলোয়াড়রা। বেশ কয়েকটি আক্রমণ উঠে আসে এসময়। কোমলের শট অল্পের জন্য বাইরে না গেলে কিংবা আনোয়ার আলির শট পোস্টে না লাগলে ভারতের নামের পাশেও দু’টি গোল থাকত। যদিও এরপর ফিরতি বল থেকে আক্রমণে এসে আরও একটি গোল করে ফেলে মার্কিন খেলোয়াড়রা। ৮৪ মিনিটে ভারতের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন কার্লটন। শেষপর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানেই হার মানতে বাধ্য হয় ভারতের খুদে তারকারা। অবশ্যই ভারতের খেলায় নজর কেড়েছেন কোমল থাতাল এবং গোলকিপার ধীরাজ। ধীরাজের জন্যই আরও দু-তিনটি নিশ্চিত গোল পায়নি আমেরিকা।

[বিজেপির ‘চক্রান্তে’ অশান্ত পাহাড়, মোদির কুশপুতুল নিয়ে প্রতিবাদের পথে তৃণমূল]

হ্যাঁ তারকাই বটে, যেখানে সবাই ভাবছে হাফডজন গোল না খেয়ে বসে ভারত। সেখানে লড়াই করে এই হার কখনই লজ্জায় ফেলার কথা নয় কোমল-অনিকেতদের। কারণ ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে কিংবা ফিনিশিং যদি আরও একটু ভাল হত, কে বলতে পারত হেরে নয়, মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়ত ব্লু ব্রিগেড। ধীরাজদের লড়াই বুঝিয়ে দিল স্রেফ আয়োজক দেশ হিসেবেই ভারত যোগ্যতা পায়নি। বিশ্বমঞ্চে শক্তি প্রদর্শনের মতো দক্ষতাও তাদের আছে। প্রথম ম্যাচেই ভারতীয় ফুটবলের দৌড়ের সেই স্বপ্নটিই দেখিয়ে গেল মাতোসের ছেলেরা।

[ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও বিরাটদের জন্য থাকছে বৃষ্টির পূর্বাভাস]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.