জাতীয় শিবির ছাড়ার পর পর্তুগালের সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) দূরত্ব ক্রমে বেড়ে যাচ্ছে। সতীর্থদের সমালোচনা করে ব্রাজিলের প্রাক্তন ফুটবলার ফিলিপে মেলোর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ‘লাইক’ দিয়েছেন সিআর৭। মেলোর দাবি, রোনাল্ডোর সঙ্গে যা হয়েছে তা ঠিক হয়নি। সতীর্থদের উচিত ছিল হস্তক্ষেপ করে তাঁকে শিবিরে রাখা। কিন্তু তা না করে তাঁরা স্বার্থপরের মতো আচরণ করেছেন। সেই পোস্টে রোনাল্ডোর ‘লাইক’ নিয়ে নতুন প্রশ্ন, কোচ জর্জে জেসুসের পাশাপাশি সতীর্থদের উপরেও কি ক্ষুব্ধ তিনি?
আরও পড়ুন:
নেশনস লিগ চলাকালীন আচমকাই জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে দেন রোনাল্ডো। পরে এক্স-এ তিনি লেখেন, “জাতীয় দলের কোচের সাংবাদিক বৈঠক এবং পর্তুগিজ ফুটবল সংস্থার সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পরেই শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে আমি সব সময় নিজের সেরাটা দিয়েছি। কেন দল ছাড়লাম, খুব তাড়াতাড়িই দেশের মানুষের সামনে পুরো বিষয়টি জানাব। আপাতত সতীর্থদের জন্য রইল শুভেচ্ছা।” ঘটনার সূত্রপাত কোচ জেসুসের সিদ্ধান্ত ঘিরে। ওয়েলসের বিরুদ্ধে ৬৭ মিনিটে রোনাল্ডোকে তুলে নেওয়া হয়। নরওয়ের বিরুদ্ধে আবার পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তাঁকে। এমনকী তাঁকে গা গরম করিয়েও মাঠে নামাননি কোচ।
জেসুস বলেন, “আমি কোচ, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও আমার। কোনও ফুটবলারকে খেলাব না বলতেই পারি। কাউকে যদি ৩০ মিনিট প্রয়োজন হয়, সে ৩০ মিনিটই খেলবে। প্রয়োজন না হলে খেলবে না। কোনও ফুটবলার আমার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে পারবে না।” রোনাল্ডোকে গা গরম করিয়েও কেন মাঠে নামানো হয়নি, তার ব্যাখ্যাও দেন জেসুস। তাঁর কথায়, “আমি রোনাল্ডোকে জানিয়েছিলাম, ওই দু’টি ম্যাচে ও খেলবে না। পরে ম্যাচের মধ্যে গা গরম করতে বলেছিলাম। এতক্ষণ গা গরম করার পরেও মাঠে নামতে না পারলে খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। রোনাল্ডো চাইলে সেটা আমাকে বলতে পারত। তবে তাতেও আমার পরিকল্পনা বদলাত না।”
🚨📲| Ronaldo liked Felipe Melo’s post:
“I see more respect for Cristiano from opponents. Højlund seemed more affected by his situation than Portugal’s captain.
NO ONE reaches Cristiano’s level. You can’t let the best player in history leave like that.” pic.twitter.com/QfsDZZYqcA
— Kalshi FC (@KalshiFC) October 2, 2026
বিষয়টি নিয়ে পর্তুগিজ ফুটবল সংস্থার হস্তক্ষেপও নাকি ভালো ভাবে নেননি জেসুস। তিনি বলেন, “ফেডারেশন আমাকে রোনাল্ডোর সঙ্গে কথা বলতে বলেছিল। বিষয়টি আমার কাছে কিছুটা অবাক করার মতো। সভাপতি পর্যন্ত চলে এসেছিলেন। অথচ নৈশভোজের পরেই আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে নিয়েছিলাম, তখন কোনও সমস্যা ছিল না।” কোচের দাবি ছিল, চোটের কারণেই আগের দিন অনুশীলন করেননি রোনাল্ডো। পরের দিন তাঁর অনুশীলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শিবির ছেড়ে যান সিআর৭। এই ঘটনায় পর্তুগালের নিয়ম অনুযায়ী রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে শাস্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতা চলাকালীন জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে গেলে ছ’মাস পর্যন্ত নির্বাসন ও জরিমানার বিধান রয়েছে। যদিও রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এর মধ্যেই রোনাল্ডোর পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর বোন এলমা আভেইরো। তিনি লিখেছেন, “সিআর৭ আরও বেশি সম্মান পাওয়ার যোগ্য। পর্তুগাল দলের ফুটবলারদের উচিত ওকে যথাযথ সম্মান দেওয়া। আর পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করব, পুরো ঘটনা না জেনে কোনও জল্পনা ছড়াবেন না।” তাঁর আরও বক্তব্য, “আমরা যেন হিংসা, স্বার্থপরতা ও অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছি। রোনাল্ডো আসার আগে আমাদের ফুটবল কোথায় ছিল, সেটা আমরা ভুলে যেতে পারি না। সব কিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ, সিআর৭। তুমি আরও অনেক বেশি সম্মানের দাবিদার।” বিশ্বকাপের আগে রোনাল্ডো জানিয়েছিলেন, সেটিই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তবে কবে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন, তা বলেননি। আর এবার শিবির ছাড়ার পর সতীর্থদের সমালোচনামূলক পোস্টে তাঁর ‘লাইক’ সেই জল্পনাতেই যেন আরও ইন্ধন জোগাল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সস্তা জনপ্রিয়তার লোভ! মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও, শ্রীঘরে ইনফ্লুয়েন্সার তরুণী
-
‘বলিউডের দেশাত্মবোধক ছবি নিয়ে উচ্চবাচ্য নেই, অথচ পাকিস্তানি শিল্পীকে তোল্লাই’, দিলজিৎকে খোঁচা মিকার
-
‘হিরো’ মচ্ছরকে কুর্নিশ, ‘বাংলা থেকেও তৈরি হবে রাষ্ট্রবাদী পাইলট’, বললেন শুভেন্দু
-
প্রেমিকার সঙ্গে মোমো ডেট! হাতেনাতে ধরতে সটান স্বামীর গাড়ির বনেটে স্ত্রী, তারপর যা হল…
-
ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের নির্বাচন গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ভীমরতি’তে হাসির রোল