Belgium beats Senegal

ম্যাচ চলাকালীনই তুমুল ঝগড়া, সেই দুই সতীর্থই রেকর্ড ভাঙা ম্যাচে জেতালেন বেলজিয়ামকে

বছর আটেক আগে রাশিয়ার মাটিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে নিজেদের সম্মানজনক জায়গায় তুলে এনেছিলেন ইডেন হ্যাজার্ডরা। আজকের এই বেলজিয়ান দলও সেই লিগ্যাসি বহন করছে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ১০:০৮

options
link
ম্যাচ চলাকালীনই তুমুল ঝগড়া, সেই দুই সতীর্থই রেকর্ড ভাঙা ম্যাচে জেতালেন বেলজিয়ামকে
বেলজিয়ামের জয়। ছবি: সংগৃহীত।

বেলজিয়াম: ৩ (লুকাকু, টিলেম্যানস ২)
সেনেগাল: ২ (দিয়ারা, সার)
ম্যাচ চলাকালীন দলের অন্যতম সেরা তারকার সঙ্গে তুমুল ঝগড়া অধিনায়কের। আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপে যে তথাকথিত হাইড্রেশন ব্রেক হয়, তাতে বেলজিয়াম শিবির রীতিমতো উত্তপ্ত। আসলে ততক্ষণে আফ্রিকার মহাশক্তি সেনেগালের বিরুদ্ধে ২ গোলে পিছিয়ে পড়েছে বেলজিয়াম। দল রীতিমতো দিশেহারা। সেসময় দলের অন্যতম সেরা তারকা ইউরি টিলেম্যানস আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে গিয়ে মাঝে মাঝেই বলের দখল হারিয়ে ফেলছেন। বারবার বক্সে ক্রস করতে গিয়ে বিপক্ষের পায়ে ‘পজেশন’ সঁপে দিচ্ছেন। যা মোটেই মেনে নিতে পারেননি অধিনায়ক লিনদ্রো ট্রসার্ড। মাঠেই মেজাজ হারিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন টিলেম্যানসকে। রীতিমতো উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়ে যায় দু’জনের।

Advertisement

কাট টু ৮৯ মিনিট। যে ভুলটা বারবার টিলেম্যানসকে ধরিয়ে দিচ্ছিলেন অধিনায়ক ট্রসার্ড। এবার সেটা তিনি নিজেই শুধরে দিলেন। ঠিক কীভাবে বক্সের দিকে ক্রস তুলতে হয়, নিজেই যেন সতীর্থকে দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক। মজার কথা হল, বক্সের দিকে বাড়ানো তাঁর সেই নিখুঁত ক্রস থেকে গোলটা করে সমতা ফেরালেন সেই সতীর্থ, যার সঙ্গে একটু আগেই ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন তিনি। ইউরি টিলেম্যানস। তারপর- কয়েক মিনিট আগের ঝগড়া ভুলে দুই সতীর্থের একসঙ্গে উচ্ছ্বাস। বিশ্বকাপে নিজেদের অস্তিত্ব শেষ মুহূর্ত টিকিয়ে ফেলতে পারার স্বস্তি। পরে ম্যাচের ১২৫ মিনিটে ওই টিলেম্যানসের গোলেই বেলজিয়ামের জয়। এবং রাউন্ড অফ সিক্সটিনে যাওয়া। ঐতিহাসিক ওই জয়ের পরও হয়তো টিলেম্যানস এবং ট্রসার্ডের ঝগড়া মনে রাখবেন বেলজিয়াম সমর্থকরা। দুই সতীর্থ সেসময় ঝগড়া না করলে হয়তো বেলজিয়াম ম্যাচে ফিরতেই পারত না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আসলে বৃহস্পতিবার রাতে বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচ এমন বহু মুহূর্তে নির্ধারিত হয়েছে। ম্যাচের ২৪ মিনিটে প্রথম পিছিয়ে পড়া, ৫১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করা। ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, বেলজিয়ামের জন্য বিশ্বকাপ বোধ হয় এখানেই শেষ। এর মধ্যে ট্রসার্ড এবং টিলেম্যানসের ওই ঝগড়াও হয়ে গিয়েছে। দল ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেছে বেশিরভাগ সময়। আশাহত বেলজিয়ানদের প্রথম মুহূর্তটা উপহার দেন তাঁদের তারকা স্ট্রাইকার লুকাকু। ৮৬ মিনিটে প্রথম সেনেগালের জালে বল জড়ালেন তিনি। তখনও বেলজিয়াম ২-১ গোলে পিছিয়ে। এবার দ্বিতীয় মুহূর্ত। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে ট্রসার্ডের সেই ক্রস থেকে টিলেম্যানসের গোল। বেলজিয়ামের জন্য চূড়ান্ত আনন্দের মুহূর্তটা এল ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে। ৯০ মিনিটে সমতা ফেরানোর পর খেলা এক্সট্রা টাইমে গড়িয়েছে। ১২০ মিনিটেও ফয়সলা হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের সংযুক্ত সময়ে বিতর্কিত পেনাল্টি পেয়ে যায় বেলজিয়াম। ম্যাচের একেবারে শেষ কিকে পেনাল্টি স্পট থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে শেষ ষোলোয় তুললেন টিলেম্যানস। ইতিহাস বলছে, এটাই বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে সবচেয়ে দেরিতে হওয়া গোল। ১২৫ মিনিটে।

বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের অনেকেই হয় অবসর যাপন করছেন, নয়তো কেরিয়ারে পড়তির দিকে। বছর আটেক আগে রাশিয়ার মাটিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে নিজেদের সম্মানজনক জায়গায় তুলে এনেছিলেন ইডেন হ্যাজার্ডরা। আজকের এই বেলজিয়ান দলও সেই লিগ্যাসি বহন করছে। এবার তাঁদের সামনে শেষ ষোলয় আমেরিকা। ধারেভারে এগিয়েই সেই ম্যাচ শুরু করবে বেলজিয়াম।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.