Tutu Bose

‘আমি খেললে ঠিক মোহনবাগানকে জিতিয়ে দেব, ভরসা ছিল টুটুবাবুর’, স্মৃতিচারণায় ব্যারেটো

'আমি টুটু দা-কে যতই শরীর বিজ্ঞান, ফুটবল বিজ্ঞান বোঝাতে চেষ্টা করি, টুটুদা কবে আর ওসব শুনেছেন। ততই উনি ওনার আবেগ দিয়ে এমনভাবে বোঝাতে শুরু করলেন, আমি বোঝাতে ব্যর্থ হলাম।'

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৪, ২০২৬, ১৬:০০

options
link
‘আমি খেললে ঠিক মোহনবাগানকে জিতিয়ে দেব, ভরসা ছিল টুটুবাবুর’, স্মৃতিচারণায় ব্যারেটো
টুটুবাবুর প্রয়াণে শোকার্ত ব্যারেটো। ফাইল ছবি।

হোসে ব্যারেটো: ব্রাজিল আসার আগে এই তো সেদিন টুটুদা’কে বাড়িতে গিয়ে দেখে এলাম। অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, এরকমটা একবারও মনে হয়নি। মোহনবাগানে আমার কেরিয়ারে টুটু বোস একটা অধ্যায়। উনি কিছু বললে কোনওদিন না করতে পারিনি।

Advertisement

ইস্টবেঙ্গল সেবার আশিয়ান কাপ খেলতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই সময় বাইপাসের ধারে পাঁচতারা হোটেলে ছিল বাইচুংরা। ঠিক এমন সময় ছুটি কাটিয়ে ব্রাজিল থেকে আমি কলকাতায় ফিরেছিলাম। সেবার ব্রাজিলে থাকার সময় কোনও প্রি সিজন ট্রেনিং করিনি। ভেবেছিলাম, কলকাতায় গিয়ে একেবারে মাঠে নামব। চূড়ান্ত আনফিট অবস্থায় কলকাতায় এলাম। এসেই শুনলাম, ডার্বি। ম্যাচের আগের দিন ক্লাব গিয়েছি। টুটুদা বসে আছেন। জিজ্ঞসা করলেন, আমি না কি খেলব না বলেছি? নিজের ফিটনেসের কথা জানালাম। ডগলাসরা যেখানে চূড়ান্ত ফিট হয়ে মাঠে নামবে, সেখানে এরকম আধা ফিট অবস্থায় মাঠে নেমে কিছুই তো করতে পারব না। আমার জায়গায় কোনও ফিট ফুটবলারকে মাঠে নামলে সে ভালো খেলতে পারবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কিন্তু টুটুদা এরকমই। যেরকম ভালোবাসতেন আমাকে, সেরকম ভরসা করতেন প্রচুর। ভাবতেন, আমি খেললে ঠিক কিছু না কিছু করে মোহনবাগানকে জিতিয়ে দেব।

কিন্তু টুটুদা তো, টুটু দা-ই। সরাসরি জানিয়ে দিলেন, ওসব তিনি কিছুই জানেন না। উনি চান, আমি মাঠে নামি। দৌড়তে হবে না। ইস্টবেঙ্গল বক্সের উপর শুধু দাঁড়িয়ে থাকব। তাতেও যেন মাঠে নামি। আমি টুটু দা-কে যতই শরীর বিজ্ঞান, ফুটবল বিজ্ঞান বোঝাতে চেষ্টা করি, টুটুদা কবে আর ওসব শুনেছেন। ততই উনি ওনার আবেগ দিয়ে এমনভাবে বোঝাতে শুরু করলেন, আমি বোঝাতে ব্যর্থ হলাম। এক সময় হাল ছেড়ে দিয়ে সল্টলেকের ফ্ল্যাটের দিকে রওনা দিলাম, খেলার বুট খুঁজতে। সেদিন সত্যিই ভালো খেলতে পারিনি। মানে, ভালো খেলার কথাও ছিল না। কিন্তু টুটুদা এরকমই।

Advertisement

যেরকম ভালোবাসতেন আমাকে, সেরকম ভরসা করতেন প্রচুর। ভাবতেন, আমি খেললে ঠিক কিছু না কিছু করে মোহনবাগানকে জিতিয়ে দেব। কলকাতায় যে কয়েকজন লোককে নিজের লোক হিসেবে ভাবি, তারমধ্যে টুটুদা অন্যতম। কলকাতায় আমার ব্যক্তিগত সমস্যায় যখন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল, তখন টুটুদা কীভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ঘটনা সবচেয়ে ভালো আমিই জানি। যেখানেই থাকো, প্রভু তোমার সঙ্গেই থাকবেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.