সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ঘরে ঢুকলেই মনে হবে যেন এক ঝটকায় জীবন পিছিয়ে গিয়েছে অনেকটা৷ এক লহমায় পৌঁছে যাওয়া সেই সাতের দশকে৷ চোখের সামনে ভেসে উঠবে ছোট্ট মারাদোনা হাসছে, খেলছে, ভাইদের সঙ্গে দুষ্টুমি করছে- এমন অনেক টুকরো টুকরো ছবির কোলাজ৷ গল্প নয়৷ সত্যি তাই৷ আর্জেণ্টিনার রাজধানীতে যে বাড়িতে মারাদোনার ছেলেবেলার বেশ কিছুটা সময় কেটেছে, সেটাই এবার পরিণত হতে চলেছে ‘তাঁর’ মিউজিয়ামে৷
বাড়ির আশপাশে যাঁরা থাকেন, তাঁরা এখনও যেন গোটা ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে পারছেন না৷ কাঠের তৈরি এই দোতলা বাড়িতেই থাকতেন ফুটবলের রাজপুত্র৷ ভিলা ফিয়ারিতোর শহরতলি অঞ্চল থেকে পরিবার সমেত বুয়েনস আইরেসে এই বাড়িতে উঠেছিলেন মারাদোনা৷ ১৯৭৮ সালে তাঁর প্রথম সই ছিল আর্জেণ্টিনোস জুনিয়র সকার ক্লাবে৷ ক্লাবের পক্ষ থেকেই এই বাড়ি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে৷ দোতলায় থাকতেন দিয়েগো৷ আসবাবপত্র বলতে শোয়ার খাট, একটা ছোট্ট টেবিল, নাইট ল্যাম্প৷ সব কিছু রাখা হয়েছে একদম আগের মতোই৷

বাড়িটি সত্যি মারাদোনার কি না সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে৷ সেই মতো সব ব্যবস্থাও করা হয়েছে৷ মারাদোনার ছোটবেলার বেশ কয়েকটি ছবি লাগানো হয়েছে বাড়ির ঠিক সামনে৷ মারাদোনা যখন থাকতেন বাড়িটির নাম তাঁর বাবা ডন দিয়েগোর নামে ছিল৷ এখনও তা অবিকল৷ আর আছে আর্জেণ্টিনোসের সেই চুক্তির খসড়া৷ তখন ম্যানেজার পদে ছিলেন আলবার্তো পেরেজ৷ বাড়ির যে জায়গায় মারাদোনা তাঁর ভাইদের সঙ্গে পিংপং দিয়ে খেলতেন, সেখানে দাঁড়িয়েই পেরেজ বলছিলেন, “ছোটবেলায় আমরাই মারাদোনাকে প্রথম চিনেছি৷ ওকে গড়ে তুলেছি নিজেদের মতো৷ ক্লাবের কাছে ও ঈশ্বরের মতো ছিল৷ দিয়েগোও আমাদের যথেষ্ট ভালবাসত৷ আমরা ওঁর জন্য গর্বিত৷ কারণ দিয়েগোর জন্যই বিশ্ব এখন আমাদের সবাইকে চিনেছে৷” প্রসঙ্গত, আর্জেণ্টিনোসের এই প্রাক্তন ম্যানেজার একক কৃতিত্বেই ছাত্রের পুরনো জিনিসগুলি জোগাড় করেছেন৷ এবার সেগুলি তুলে ধরতে চান গোটা বিশ্বের মানুষের সামনে৷ মারাদোনার মিউজিয়াম দেখতে অর্থ খরচ হবে না৷ কিংবদন্তির ফ্ল্যাশব্যাক সবাই দেখতে পারবেন ফ্রিতেই৷

১৯৮১ সালে বোকা জুনিয়র্সে যোগ দিয়েছিলেন মারাদোনা৷ তখন এই কাঠের দোতলা বাড়ি ছেড়ে দেন৷ তারপর থেকে এতদিন এই বাড়ির দখল নিয়ে ছিলেন এক মহিলা৷ মামলা-মোকদ্দমা চলে বেশ কয়েকিদন৷ আট বছর আগে এই বাড়ি কিনে নেন পেরেজ৷ খসেছিল এক লক্ষ মার্কিন ডলার৷

তারপর বাড়িটিকে একদম আগের মতো সাজিয়ে তোলায় মন দেন তিনি৷ মারাদোনার ব্যবহৃত জিনিসগুলির অনুকরণে আসবাবপত্রও জোগাড় করেছেন তিনি৷ নিঃসন্দেহে মারাদোনার ভক্তদের জন্য এই মিউজিয়াম যে এক তীর্থস্থান হয়ে উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷

সর্বশেষ খবর
-
কন্ডোম-খাট-বালিশ, বিধাননগরে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস যেন হোটেল! দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
‘কী করে ওকে বলব…?’ ভূমিকম্পে মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত স্ত্রী, ভেঙে পড়লেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার
-
‘মুসলমানদের নিয়ে স্যাটাভাঙা মার’! জনসভায় বেনজির হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!
-
মেট্রোপলিটান এলাকার বেআইনি নির্মাণে নজর, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তলব হাই কোর্টের