Mohun Bagan

লিগ শিল্ড জিতেই দল গোছাতে মন, আইএসএলের তিন তরুণ তুর্কির দিকে নজর মোহনবাগানের

বিদেশিদের মধ্যে একমাত্র টম অলড্রেডের সঙ্গেই চুক্তি শেষ হচ্ছে সবুজ-মেরুনের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৪, ২০২৫, ১২:০২

options
link
লিগ শিল্ড জিতেই দল গোছাতে মন, আইএসএলের তিন তরুণ তুর্কির দিকে নজর মোহনবাগানের
ফাইল ছবি।

দুলাল দে: মোহনবাগান যে এই মুহূর্তে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের এক নম্বর দল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দলবদলের বাজারে টিমটা ধরে রাখাই নয়, মোহনবাগানের এই মুহূর্তে লক্ষ্য হল, যেভাবে সম্ভব ইন্ডিয়ান সুপার লিগে প্রতিপক্ষ দলের সেরা ফুটবলারটিকেও তুলে নেওয়া। সেক্ষেত্রে দলবদলের বাজারে নিজেদের সেরা দলকে যেরকম ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে, সেরকম প্রতিপক্ষ দলগুলিকেও দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব। এই সিস্টেমেই প্রতি বছর দল তৈরি করছে মোহনবাগান। এখনও মরশুম শেষ হয়নি। বাকি রয়েছে আইএসএলের প্লে অফ। তারপর সুপার কাপ। কিন্তু পরের মরশুমে দল কীভাবে আরও ভালো করা যায়, তার পরিকল্পনা করতে শুরু করে দিয়েছেন মোহনবাগানের কর্তারা। পরিকল্পনামাফিক প্রস্তাবও দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে এই মরশুমের আইএসএলে ভাল খেলা প্রতিপক্ষ দলের ফুটবলারদের।

Advertisement

মোহনবাগানের এই মরশুমের দলের যে বিদেশি ফুটবলাররা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র টম অলড্রেডের সঙ্গেই চুক্তি শেষ হচ্ছে সবুজ-মেরুনের। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাইকার জেমি ম্যাকলারেনের সঙ্গে আরও তিন মরশুমের চুক্তি রয়েছে সবুজ-মেরুনের। আলবার্তো, দিমিত্রি পেত্রাতোস, কামিংস তিনজনের সঙ্গেই আরও এক মরশুমের চুক্তি। সেভাবে দেখলে একমাত্র ম্যাকলারেন ছাড়া দিমিত্রি এবং কামিংস মরশুম জুড়ে কখনই নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি। অথচ দু’জনেই যে স্তরের ফুটবলার, তাতে ছাড় পেলে আইএসএলের যে কোনও দল দিমিত্রি আর কামিংসকে লুফে নিয়ে নেবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কিন্তু মোহনবাগান এই দুই ফুটবলারের সঙ্গেই যে পরিমাণ আর্থিক চুক্তি করে রেখেছে, ভারতীয় ফুটবলের অন্য কোনও ক্লাবের পক্ষে এই দুই অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলারকে ছোঁয়া বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। দিমিত্রির সঙ্গে মোহনবাগানের আর্থিক চুক্তি বার্ষিক প্রায় আড়াই কোটি টাকা। কামিংসের সঙ্গে চুক্তির পরিমাণ, বার্ষিক প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। এর থেকে বেশি টাকার প্রস্তাব পেলে তবেই একমাত্র তাঁরা ভাববেন। এর উপর এই দুই ফুটবলারকে দলে নিতে গেলে মোটা অঙ্কের ট্রান্সফার ফি দিতে হবে মোহনবাগানকে। তাতে যে পরিমাণ অর্থ দাঁড়াবে, আইএসএলের কোনও দলের পক্ষেই এই দুই বিদেশিকে মোহনবাগান থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। একমাত্র টমের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছ। তবে মোহনবাগান যদি টমকে থেকে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়, তাহলে তিনি যে দল ছাড়বেন না, বলাই বাহুল্য।

Advertisement

সত্যি কথা বলতে পরের মরশুমে কাউকে ছাড়া হবে কি না, তা নিয়ে মোহনবাগান এখনও কিছু ঠিক করেনি। ঠিক হয়েছে, মোহনবাগান কর্তারা আগে কোচ মোলিনার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তারপর সিদ্ধান্ত হবে, কোন কোন ফুটবলারকে দলে রাখা হবে। তবে মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েই আছে, এএফসির জন্য নতুন করে বিশাল কোনও অর্থ খরচ করবে না মোহনবাগান। কারণ, পূর্বের অভিজ্ঞতা বলছে, মারাত্মক দল গড়েও এএফসি-তে বিশাল কিছু করার কঠিন। তবে কোচের সঙ্গে পরামর্শ করেই এফসি গোয়া এবং নর্থ ইস্ট থেকে তিনজন ফুটবলারকে প্রস্তাব দিয়েছে সবুজ-মেরুন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর গোয়ার ফুটবলার ব্রাইসেন ফার্নান্ডেজের দিকে। যিনি আইএসএলে এখনও পর্যন্ত ২২টা ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৭টি। ফলে তাঁকে নিয়ে যে টানাটানি হবে বলাই বাহুল্য। এফসি গোয়াও ব্রাইসেনকে রেখে দিতে চায়। ব্রাইসেন ছাড়া মোহনবাগানের নজর নর্থ ইস্টের দুই ফরোয়ার্ডের দিকে। একজন, পর্থিব সুন্দর গগৈ। যিনি ২১ ম্যাচে গোল করেছেন ২টি। আরেকজন, জিতিন সুব্রান। যাঁর ২২ ম্যাচে গোল সংখ্যা ২টি। আপাতত এই তিনজনের দিকেই নজর মোহনবাগানের। যার মধ্যে এগিয়ে ব্রাইসেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন