Asian Games 2026

‘মা-বাবা বেঁচে থাকলে কত খুশি হত’, এশিয়াডে কবাডিতে সোনার পর বিশ্বজয় লক্ষ্য রানাঘাটের পিংকির

জাতীয় শিবিরে ডাকও পেয়েছেন বহুবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলে নাম লেখাতে পারেননি। চোটে থমকে গিয়েছে তাঁর লড়াই। অবশেষে স্কোয়াডে ঢুকলেন ৩৩ বছর বয়সে পৌঁছে।

শিলাজিৎ সরকার
শিলাজিৎ সরকার

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১৯:৫১

options
link
‘মা-বাবা বেঁচে থাকলে কত খুশি হত’, এশিয়াডে কবাডিতে সোনার পর বিশ্বজয় লক্ষ্য রানাঘাটের পিংকির
সোনা জিতে পিংকি রায়।

নদিয়ার রানাঘাট থেকে জাপানের নাগোয়া শহরের দূরত্ব প্রায় ছ’হাজার কিলোমিটার। যে দূরত্ব পার হয়ে এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) পোডিয়ামের শীর্ষে উঠতে আঠারো বছর সময় লাগল পিংকি রায়ের। শনিবার কবাডির ফাইনালে ইরানের মহিলা দলকে হারিয়ে এশিয়াডে সোনা জিতেছে ভারত। আর সেই দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে স্বর্ণপদক উঠল রানাঘাটের পিংকির গলাতেও।

Advertisement

পনেরো বছর বয়সে স্কুলের হয়ে কবাডিতে হাতেখড়ি হয় পিংকির। তারপর রাজ্যের গণ্ডি পার হয়ে নিয়মিত খেলেছেন জাতীয় পর্যয়ে। জাতীয় শিবিরে ডাকও পেয়েছেন বহুবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলে নাম লেখাতে পারেননি। চোটে থমকে গিয়েছে তাঁর লড়াই। অবশেষে স্কোয়াডে ঢুকলেন ৩৩ বছর বয়সে পৌঁছে। তাও আবার এশিয়ান গেমসের মতো মঞ্চে। দেশের হয়ে প্রথমবার খেলতে নেমেই সোনা জিতে উচ্ছ্বসিত পিংকি। নাগোয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ কলে যখন পাওয়া গেল, তখনও আবেগী এই বঙ্গ-কন্যার কণ্ঠ। শোনালেন, “কবাডির জন্য এশিয়ান গেমস সম্ভবত সবচেয়ে বড় মঞ্চ। কারণ আমাদের খেলায় শক্তিশালী প্রায় সব দেশই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। দলে ডাক পাওয়ার সময় থেকেই ভেবে নিয়েছিলাম, সোনা জিতে ফিরব।” নিজের পরবর্তী লক্ষ্যও স্থির করে ফেলেছেন পিংকি। “আমি হয়তো আর দু’টো বছর খেলব। তাই যত বেশি সম্ভব সাফল্য পেতে চাই। আগামী বছর এপ্রিলে বিশ্বকাপ হওয়ার কথা। আপাতত তার জন্য নিজেকে তৈরি করতে চাই,” বলছেন সোনাজয়ী এই বাঙালি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ছোটোবেলায় পিতৃহারা হওয়ার পর বছর নয়েক আগে মা চণ্ডী রায়কেও হারিয়েছেন। নিজের সাফল্য তাঁদেরই উৎসর্গ করছেন পিংকি। “বাবাকে আমি সেভাবে পাইনি। কিন্তু মা ছিল আমাদের সব। মায়ের পরিশ্রমই জীবনের ভিত গড়েছে আমাদের। আজ মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে। আজ মা-বাবা থাকলে খুব খুশি হত।” ফাইনালে প্রতিপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে ৩৭-২৩ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছিল ভারতের মহিলা দল। কিন্তু ফাইনালে লড়াই ততটা একপেশে হয়নি। বরং একটা সময় ভারতকে বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল সাইয়ের সোনিপথ কেন্দ্রে এশিয়াডের প্রস্তুতি সারা ইরান।

Advertisement

শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৩৭-৩৪ পয়েন্টে ফাইনাল জেতে ভারত। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ নিয়ে পিংকির বার্তা, “ইরান পাল্টা লড়াই করলেও আমরা বিশেষ চাপে পড়িনি। নিজেদের উপর ভরসা রেখেছিলাম। শুধু লক্ষ্য ছিল, একসঙ্গে যাতে বেশি পয়েন্ট ওরা না নিতে পারে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.