এশিয়ান গেমসে ভারতীয় হকির দুই দলই ভালো ছন্দে। কিন্তু মাঠের বাইরে ফের প্রকাশ্যে হকি ইন্ডিয়ার অন্দরের কোন্দল। কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন ফেডারেশন সভাপতি দিলীপ তিরকে (Dilip Tirkey)। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর বিষয়ও। এমনকী এই আবহে দিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভে শামিল হন প্রাক্তন হকি খেলোয়াড়রা।
আরও পড়ুন:
দিল্লির একটি থানায় অভিযোগ করেছেন তিরকে। দক্ষিণ দিল্লির ডিসিপি দপ্তর জানিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখনও কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। হকি ইন্ডিয়ার মুখ্যকর্তা আরকে শ্রীবাস্তব, ফিনান্স ম্যানেজার সুবোধ কুমার, অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ভূষণ কুমার এবং গাড়িচালক হরমিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিরকে। বিশ্বকাপে জার্সি বিতর্কের সময়ই শ্রীবাস্তবকে পদ থেকে সরিয়েছিলেন তিরকে। তার পর থেকেই হকি ইন্ডিয়ার অন্দরের টানাপোড়েন।
ঘটনার সূত্রপাত ২২ সেপ্টেম্বর। সরকারি কাজে দিল্লিতে গিয়েছিলেন তিরকে। হকি ইন্ডিয়ার তরফে তাঁকে একটি গাড়ি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আচমকাই সেই গাড়ি ফিরিয়ে নিতে বলা হয়। তিরকের অভিযোগ, গাড়িতে তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিল। একটি ব্যাগে ছিল প্রয়োজনীয় ওষুধও। গাড়ি ফেরত নেওয়ার পর সেই জিনিসপত্র আর তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়নি। বারবার ফোন করেও হকি ইন্ডিয়ার আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত থানার দ্বারস্থ হন সভাপতি। বিশ্বকাপে জার্সি বিতর্কের পর থেকেই সচিব ভোলানাথের সঙ্গে তিরকের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে জল্পনা রয়েছে।

তিরকের অভিযোগ, তাঁকে বাদ দিয়েই একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটানো এবং হকি ইন্ডিয়া লিগের পুনর্গঠন নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠককে ‘অবৈধ’ বলেছিলেন তিরকে। যদিও বৈঠক হয়। সেখানে একাধিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। তবে তিরকের থানায় অভিযোগের কথা মানতে নারাজ ভোলানাথ। নাগোয়া থেকে তিনি বলেছেন, “আমি এরকম কিছু শুনিনি। আপাতত দলকে উদ্বুদ্ধ করতে নাগোয়ায় রয়েছি। যাতে ওরা অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। নির্বাচন ৭ নভেম্বরই হবে।”
এই পরিস্থিতিতে দিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন প্রাক্তন হকি খেলোয়াড়রা। ছিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক অসুন্তা লাকড়াও। তাঁরা একজোট হয়ে হকি ইন্ডিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন। বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা পরে বড় সংঘাতের আকার নেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, হকি ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট পুলিশে অভিযোগও করেন। যদিও স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারেননি প্রাক্তন খেলোয়াড়রা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাইরে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে প্রাক্তন অধিনায়ক অসুন্তা লাকড়া বলেন, “এককালে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছি। তবু আজ নিজেদের পরিচয় দিতে হচ্ছে। ভারতীয় হকির অবস্থা এখন এমনই।”
প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘হকি কা এবিসিডি পাতা নাহি, বন গায়ে সেক্রেটারি’। অর্থাৎ, হকির ‘অ-আ-ক-খ’ না জেনেও সচিব হয়ে গিয়েছেন। ইঙ্গিত ছিল হকি ইন্ডিয়ার সচিব ভোলানাথের দিকে। লাকড়াকে হেনস্তা ও ভয় দেখানোর অভিযোগও এই সংঘাতের অন্যতম কারণ। তাঁদের দাবি অবশ্য ব্যক্তিগত বিরোধে আটকে নেই। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যকে দেওয়া স্মারকলিপিতে হকি ইন্ডিয়ার প্রশাসনিক কাঠামো এবং ন্যাশনাল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট কোড, ২০২৫ মেনে চলা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ভারতীয় হকির স্বার্থেই ফেডারেশনের অন্দরে স্বচ্ছতা আনা জরুরি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সস্তা জনপ্রিয়তার লোভ! মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও, শ্রীঘরে ইনফ্লুয়েন্সার তরুণী
-
‘বলিউডের দেশাত্মবোধক ছবি নিয়ে উচ্চবাচ্য নেই, অথচ পাকিস্তানি শিল্পীকে তোল্লাই’, দিলজিৎকে খোঁচা মিকার
-
‘হিরো’ মচ্ছরকে কুর্নিশ, ‘বাংলা থেকেও তৈরি হবে রাষ্ট্রবাদী পাইলট’, বললেন শুভেন্দু
-
প্রেমিকার সঙ্গে মোমো ডেট! হাতেনাতে ধরতে সটান স্বামীর গাড়ির বনেটে স্ত্রী, তারপর যা হল…
-
ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের নির্বাচন গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ভীমরতি’তে হাসির রোল