Uttarpara

ইউরোপের দুর্গমতম মাউন্ট এলব্রুস জয়, নজির উত্তরপাড়ার তরুণের

পাহাড়ি ফ্রস্টবাইটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুভমের মুখের চামড়া।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৬, ২০২৪, ১৭:৩২

options
link
ইউরোপের দুর্গমতম মাউন্ট এলব্রুস জয়, নজির উত্তরপাড়ার তরুণের

সুমন করাতি, হুগলি: ইউরোপের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এলব্রুস জয় করে বাড়ি ফিরলেন উত্তরপাড়ার (Uttarpara) পর্বতারোহী শুভম চট্টোপাধ্যায়। এর আগে মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো জয় করেছেন তিনি। প্রথম কোনও ভারতীয় হিসাবে শুভম এই আগ্নেয় পর্বতশৃঙ্গের শিখরে দুর্গমতম উত্তর দিক দিয়ে আরোহণ করে সেই দিক দিয়েই নেমেছেন। যা পর্বতারোহণের ইতিহাসে নজির। 

Advertisement

গত ১ জুলাই রাশিয়া ও ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এলব্রুস জয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দেন হিন্দমোটরের বাসিন্দা শুভম চট্টোপাধ্যায়। ৯ দিনের কঠিন চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করে ৫,৬৪২ মিটার উচ্চতাযর পর্বত শৃঙ্গে উঠতে সক্ষম হন তিনি। ৯ দিনের এই অভিযানে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তরুণ পর্বতারোহীকে। একদিকে তুষার ঝড় অন্যদিকে, পাহাড়ি বরফের গর্ত, এই সব অতিক্রম করে ৯ জুলাই পাহাড়ের শিখরে দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ান শুভম। পাহাড়ি ফ্রস্টবাইটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁর মুখের চামড়াও।

Advertisement

[আরও পড়ুন: প্যারিস অলিম্পিকসে সোনার স্বপ্ন, অ্যাথলিটদের জন্য বিশেষ বার্তা বিরাটের]

তবে সেই সবকে পরোয়া না করেই শুভম এগিয়ে গিয়েছেন নিজের লক্ষ্যে। শুভম জানান, ভারতীয় হিসাবে তিনিই প্রথম এই দুর্গম পর্বতশৃঙ্গের উত্তর দিক দিয়ে উঠে আবারও উত্তর দিক থেকেই নিচে নেমেছেন। তার আগে অন্য একজন ভারতীয় এই পর্বতারোহণ করেছিলেন। তবে তিনি উত্তর দিক থেকে উঠে দক্ষিণ দিক থেকে অবতরণ করেছিলেন। বলা চলে শুভমই প্রথম বাঙালি, যে ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সবচেয়ে দুর্গম পথ দিয়ে জয় করলেন।

Advertisement

শুভমের কথায়, এই অভিযানে তাঁর সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভাষা। কারণ তাঁর সহ শেরপারা সকলেই রাশিয়ান হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে ভাষাগত সমস্যা হচ্ছিল। দ্বিতীয়ত, বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তুষার ঝড় ও পাহাড়ের বরফের অদৃশ্য গর্ত। তবে সকলে মিলে একে অপরকে সাহায্য করে তাঁরা এই দুর্গম শৃঙ্গ জয় করতে পেরেছেন। পর্বতের হাতছানি এড়ানো যায় না, তাই বাড়ি ফিরেই পরের অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন এই পর্বতোরোহী।

জানা গিয়েছে, পরের মিশনে ওশিয়ানিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছনোর টার্গেট রয়েছে শুভমের। আর সেই প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে বাড়ি ফেরার পরেই। শুভমের স্বপ্ন, সবথেকে কম সময়ের মধ্যে পৃথিবীর সাতটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ও সাতটি আগ্নেয়গিরি আরোহণ করা। শুভমের এই সাফল্যের পর তাঁর মা বলেন, ‘‘ছেলেকে নিয়ে আমার গর্ব হয়। তবে ভয়ও লাগে। যখন সাত আট দিন কথা হয় না, তখন খুব চিন্তা হয়, শুধু ঈশ্বরকে ডাকি। ওর স্বপ্ন সার্থক হোক।’’ শুভমের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া গোটা এলাকায়।

দেখুন ভিডিও: 

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.