Kreeda Bharati

আর নীরবে নয়, পরিবর্তনের বাংলায় ফুটবলের খোলনলচে বদলাতে সক্রিয় আরএসএসের ‘ক্রীড়াভারতী’

ক্রীড়াভারতীর কর্তারা এই মুহূর্তে অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ঠিক হওয়ার জন্য। তারপরই ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসে ঠিক করবেন বাংলার ফুটবলের রূপরেখা।

Advertisement
দুলাল দে
দুলাল দে

শেষ আপডেট: মে ৬, ২০২৬, ১৪:৪০

options
link
আর নীরবে নয়, পরিবর্তনের বাংলায় ফুটবলের খোলনলচে বদলাতে সক্রিয় আরএসএসের ‘ক্রীড়াভারতী’
উত্তর কলকাতায় নিখিল নন্দী নামাঙ্কিত মাঠে ফুটবল প্রশিক্ষণ শিবির (উপরে)। সল্টলেকের বিবিসি পার্কে ক্রীড়া ভারতীর আয়োজনে খো-খো প্রশিক্ষণ শিবির। (নিচে)

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে ময়দানে। স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলেও যে পরিবর্তন আসবে বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে বিজেপি সরকার যে ময়দানকেও নতুনভাবে সাজাবে এটা প্রত্যাশিত। বাংলার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের এই মুহূর্তে তাই বড় জিজ্ঞাসা, কে হবেন বাংলার নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী।

Advertisement

এমনিতে আরএসএসের ক্রীড়াসংগঠন ‘ক্রীড়াভারতী’ (Kreeda Bharati) অনেক আগের থেকেই বিভিন্ন স্পোর্টস ডিসিপ্লিন নিয়ে সারা বাংলা ব্যাপী কাজ করে চলেছে। রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে ক্রীড়াভারতী কর্তারা এবার চাইছেন, রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে খোলনলচে বদলে ফেলবেন বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামো। যার মধ্যে ফুটবল অন্যতম।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সকলের অগোচরে সারা রাজ্যে প্রায় ৩ হাজারের মতো ফুটবল ক্যাম্প চালায় আএসএসের ক্রীড়া সংগঠন ‘ক্রীড়াভারতী।’ বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে সেই ফুটবল ক্যাম্প। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা সহ নানা জেলায় নিঃশব্দে ফুটবল প্রশিক্ষণ শিবির চালায় আরএসএসের এই ক্রীড়া সংগঠন। কলকাতায় এই মুহূর্তে চলছে ২৫টি ফুটবল প্রশিক্ষণ শিবির। বারুইপুরেও রয়েছে ক্রীড়াভারতীর এই ফুটবল প্রশিক্ষণ শিবির। প্রাক্তন ফুটবলার নিখিল নন্দীর নামে উত্তর কলকাতাতেও চলছে ক্রীড়াভারতীর এই ফুটবল প্রশিক্ষণ শিবির।

Advertisement

এমনিতেই আরএসএস তাদের কাজ নিঃশব্দে করে। ফলে খুব একটা জানার উপায় থাকে না, কোথায় কী হচ্ছে। আর আরএসএসের কর্তারাও কখনও কাজ করে সামনে আসতে চান না। এই কিছুদিন আগেই আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত কলকাতায় এসেছিলেন একটি অনুষ্ঠানে। প্রাক্তন তিন ফুটবলার মেহতাব হোসেন, ষষ্ঠী দুলে এবং অসীম বিশ্বাস উপস্থিতও ছিলেন মোহন ভাগবতের সেই সভায়। সুব্রত পাল সহ বহু প্রাক্তন ফুটবলারের সঙ্গে রীতিমতো সারাবছর ধরে যোগাযোগ রাখেন এই ক্রীড়াভারতীর কর্তারা। এ হেন ক্রীড়াভারতীর কর্তারা এই মুহূর্তে অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ঠিক হওয়ার জন্য। তারপরই ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসে ঠিক করবেন বাংলার ফুটবলের রূপরেখা।

বাংলার ফুটবল বলতে গেলে সবার আগে আসে আইএফএর নাম। পূর্ব কলকাতার ক্রীড়াভারতী শাখার সহ সম্পাদক দীপ দে বলছিলেন, “ফুটবলে বাংলাকে আবার আমরা সেরার আসনে বসাতে চাই। ক্রীড়াভারতী সারাবছর রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন ফুটবল শিবির চালায়। আমরা দুঃস্থ প্রতিভাবান ফুটবলারদের নানাভাবে সাহায্য করি। প্রাক্তন ফুটবলাররা কোচিংয়ে এগিয়ে এলে প্রত্যন্ত গ্রামের ফুটবলাররা ফুটবল শেখার জন্য অনেক উপকৃত হয়। অনেকদিন ধরে চেষ্টটা করে চলেছি।”

ফুটবলে বাংলাকে আবার আমরা সেরার আসনে বসাতে চাই। ক্রীড়াভারতী সারাবছর রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন ফুটবল শিবির চালায়। আমরা দুঃস্থ প্রতিভাবান ফুটবলারদের নানাভাবে সাহায্য করি।

আপাতত যা ঠিক হয়েছে, কলকাতা ময়দানের বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ক্রীড়াভারতীর ফুটবলের দায়িত্বে থাকা কর্তা ব্যাক্তিরা। আপাতত ফুটবলের দায়িত্বে থাকা দীপ দে নিজেও একটা সময় এফসিআই, ঐক্য সম্মিলনীর হয়ে ময়দানে ফুটবল খেলেছেন। ফলে তাঁর ফুটবল সম্পর্কে একটা ধারণা রয়েছে। যে কারণে, ক্লাবদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বুঝতে চান, কীভাবে এগোলে বাংলার ফুটবলের উন্নতি করা সম্ভব হবে। সেরকম আলোচনায় বসবেন আইএফএ কর্তাদের সঙ্গেও। তবে সবটাই ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর। ক্রীড়াভারতী এতদিন ধরে ফুটবলের জুনিয়র স্তরে নানাভাবে কাজ করে এসেছে। ফলে আইএফএর সঙ্গে আলোচনায় বসে তারা জানার চেষ্টা করবেন, আইএফএ এতদিন ধরে কীভাবে জুনিয়র স্তরে কাজ করেছে।

দীপ দে বললেন, “আমরা সবাইকে নিয়ে বাংলার ফুটবলের উন্নতির জন্য এগোতে চাই। সবাই মিলে সঠিকভাবে কাজ করলে নিশ্চয়ই বাংলার ফুটবলের পুরনো গৌরব একদিন ফিরিয়ে আনতে পারবে ক্রীড়াভারতী।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.