Santosh Trophy

চরম অব্যবস্থায় সন্তোষে ১২ ঘণ্টার বাস জার্নি! কল্যাণদের তোপ বাংলার, ‘এর থেকে পাড়া টুর্নামেন্টও ভালো’

অসমে আয়োজিত টুর্নামেন্টে চরম বিশৃঙ্খলা। প্রবল ক্ষোভের সঙ্গে কল্যাণ চৌবের সর্বভারতীয় ফেডারেশনকে চিঠি দিয়েছে বাংলার ফুটবল সংস্থা। আইএফএ'র আবেদন, বাংলার কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ যেন পিছিয়ে দেওয়া হয়।

প্রসূন বিশ্বাস
প্রসূন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১৯:৫৬

options
link
চরম অব্যবস্থায় সন্তোষে ১২ ঘণ্টার বাস জার্নি! কল্যাণদের তোপ বাংলার, ‘এর থেকে পাড়া টুর্নামেন্টও ভালো’
এআইএফএফের সভাপতি কল্যাণ চৌবে ও বাংলা দল। ফাইল ছবি

সন্তোষ ট্রফির (Santosh Trophy) গতবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলা। এবারও লিগ শীর্ষে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করেছে সঞ্জয় সেনের ছেলেরা। মাঠের লড়াই জিতেছে। কিন্তু মাঠের বাইরেও কম লড়াই লড়তে হচ্ছে না রবি হাঁসদাদের। প্রায় ১২ ঘণ্টা বাস জার্নি করতে হচ্ছে। পরপর ম্যাচ, রিকভারির সময় পর্যন্ত নেই। সব মিলিয়ে এবার অসমে আয়োজিত টুর্নামেন্টে চরম বিশৃঙ্খলা। ‘স্থানীয় টুর্নামেন্টও এর চেয়ে ভালোভাবে আয়োজিত হয়’, প্রবল ক্ষোভের সঙ্গে কল্যাণ চৌবের সর্বভারতীয় ফেডারেশনকে চিঠি দিয়েছে বাংলার ফুটবল সংস্থা। আইএফএ’র আবেদন, বাংলার কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ যেন পিছিয়ে দেওয়া হয়।

Advertisement

শুক্রবার সারাদিন ডিব্রুগড়ে অমিত শাহর একাধিক কর্মসূচি যেমন ছিল, তেমনই ছিল মিসিং জনজাতির উৎসব। সেই কারণে ১২ ঘণ্টা খাবার বা জল ছাড়া বাস জার্নি করতে হয় বাংলার ফুটবলারদের। উৎসব বা রাজনৈতিক সভা তো আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তাহলে কেন সূচি পরিবর্তনের কথা ভাবল না ফেডারেশন? এই সময়ে কোনও খাবার বা জলের ব্যবস্থাও ছিল না ফুটবলারদের জন্য। এদিকে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচও একদিন পর। অর্থাৎ পর্যাপ্ত রিকভারির সময় পাবেন না সঞ্জয় সেনের ছেলেরা। তাই যেন ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়া হয়। এই আবেদনের সঙ্গে রীতিমতো কড়া ভাষায় টুর্নামেন্টের অব্যবস্থা নিয়ে চিঠি দিয়েছেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত।

Advertisement

Advertisement

সেই চিঠিতে আইএফএ লিখেছে, ‘সন্তোষ ট্রফি যেভাবে সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন, অসংবেদনশীল এবং নিম্নমানে আয়োজন করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। খেলোয়াড়দের জন্য তীব্র শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হচ্ছে। একেবারে অমানবিক পরিস্থিতি। এই ধরনের হেনস্তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় টুর্নামেন্টগুলো এর চেয়ে বেশি পেশাদারিত্বের সঙ্গে আয়োজন করা হয়। সন্তোষ ট্রফির মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় টুর্নামেন্টে এমন পরিস্থিতি লজ্জাজনক। নিম্নমানের মাঠ, কম খরচার ব্যবস্থাপনায় এআইএফএফের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। যাঁরা এই খেলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য এটা চরম অপমানের। আমরা চাই, এআইএফএফ দায় বহন করে দ্রুত পদক্ষেপ নিক। এই ধরনের অব্যবস্থা যাতে আর কোথাও না হয়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিক। প্লেয়ারদের স্বাস্থ্য কোনও ভাবেই অবহেলা করা যাবে না।’

সন্তোষ ট্রফি যেভাবে সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন, অসংবেদনশীল এবং নিম্নমানে আয়োজন করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। খেলোয়াড়দের জন্য তীব্র শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হচ্ছে। একেবারে অমানবিক পরিস্থিতি। এই ধরনের হেনস্তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় টুর্নামেন্টগুলো এর চেয়ে বেশি পেশাদারিত্বের সঙ্গে আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ঢেকুয়াখানা স্টেডিয়ামে দুপুর দু’টো থেকে গ্রুপ পর্বের বাংলা-অসম ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত চল্লিশ মিনিট দেরিতে ম্যাচ শুরু হয়। অসমের ডিব্রুগড়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহের কর্মসূচি ছিল। সকাল ৯.৫০ মিনিটে হোটেল থেকে স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা দেয় বাংলা। যেহেতু হোটেল থেকে মাঠ প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু পৌনে দু’টোয় পৌঁছয় তারা। ম্যাচ খেলে উঠেও ফেরার পথে বিপত্তিতে পড়ে বাংলা দল। সন্ধ্যা ৫.২৫ মিনিটে ঢেকুয়াখানা স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে শনিবার ভোর ৪.৪৪ মিনিটে টিম হোটেলে পৌঁছয় বাংলা দল। অর্থাৎ আড়াই ঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগে প্রায় ১২ ঘণ্টা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.