গ্রহাণুপুঞ্জের মাঝে মহাশূন্যে দেবী, থিমের চমক সিমলাপালে

লোকায়ত চিত্রকলায় সাজছে বাঁকুড়ার পুজো।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮, ২০:৩৮

options
link
গ্রহাণুপুঞ্জের মাঝে মহাশূন্যে দেবী, থিমের চমক সিমলাপালে
সিমলাপালে চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ, ছবি: সাধন মণ্ডল।

দেবব্রত দাস, সিমলাপাল: ফেসবুক,  হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টগ্রাম-সহ তথ্য প্রযুক্তির অত্যাধুনিক নেট দুনিয়া। ডিজিটাল দুনিয়ায় তাই পুজোর থিম নিয়েও চলছে নিত্য নতুন ভাবনাচিন্তা। এমনকী,  প্রতিযোগিতাও। চলছে থিমের কাটাছেঁড়া করে একে অন্যকে টেক্কা দেওয়ার লড়াই। থিম বৈচিত্র্যে নিত্যনতুন স্বাদ আনতে তাই ভাবনার শেষ নেই পুজো উদ্যোক্তা থেকে শিল্পী সকলেরই। তবে ডিজিটাল দুনিয়াতেও লোকায়ত চিত্রকলা ও ভাস্কর্যের মিশ্রণে সেজে উঠছে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের সিমলাপাল স্কুল মোড়ের মণ্ডপ। ‘মহাশূন্যে মা’-এই থিমের সুদৃশ্য মণ্ডপ তৈরি করে এলাকার নজর কাড়তে উদ্যোগী এই সর্বজনীন পুজো কমিটি।

Advertisement

সিমলাপাল স্কুল মোড় সর্বজনীনের দুর্গাপুজো এবার ২৫ বছরে পা দিল। প্রতি বছরই নতুন নতুন থিমের মণ্ডপ তৈরি করে চমক দেয় এই পুজো কমিটি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের পাশে সিমলাপাল স্কুল মোড়ে সুউচ্চ মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছে। মণ্ডপ শিল্পী খাতড়ার চন্দন রায়। পুজো কমিটির সহ-সম্পাদক কুন্তল সৎপতি বলেন, ‘এবার আমাদের পুজো ২৫ বছরে পা দিল। বাজেট প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। মণ্ডপের ভিতর ভাসমান দুর্গার মূর্তি দেখা যাবে। মহাকাশে গ্রহ, নক্ষত্র,  গ্রহাণুপুঞ্জের মধ্যে ফাইবার গ্লাসের তৈরি দেবীমূর্তি থাকবে। পুজোর পাঁচদিন স্থানীয় ও বহিরাগত শিল্পীদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।’

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[চন্দ্রকোণার এই বনেদি বাড়ির পুজোয় কালো পাঁঠা চাই-ই চাই! কেন জানেন?]

প্রতি বছরই নতুন থিমের মণ্ডপ বানিয়ে দর্শকদের মন জয়ের চেষ্টায় মশগুল থাকেন জঙ্গলমহলের কারুশিল্পী চন্দন রায়। নেট দুনিয়ার মাঝেও পৌরাণিক সভ্যতা,  লোকায়ত চিত্রকল্প,  পাহাড়ি সৌন্দর্যের ছবি একত্রে ফুটে উঠবে সিমলাপাল স্কুল মোড় সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে। জঙ্গলমহলের অতি পরিচিত শিল্পী চন্দনবাবুর কথায়, ‘পুজোকে কেন্দ্র করে বাঙালির ভাবাবেগ একটু অন্যরকম। তাই থিমের সময় মাথায় রাখি কীভাবে পুজোর আবহের মাঝে যেন চিরন্তন শিল্পকলা ফুটে ওঠে। সেই লক্ষ্যেই আমি মণ্ডপের কারুকার্য করি। যাতে দেবীর গরিমা অটুট থাকার পাশাপাশি লোকায়ত শিল্পকলাও প্রদর্শিত হয়।’

Advertisement

তিনি জানান,  বাঁশ, কাঠের বাটাম,  দড়ি,  কাপড়ের পাশাপাশি থার্মোকল,  সিমেন্ট, ফাইবার গ্লাস দিয়ে ৪০ ফুট লম্বা ও ১০০ ফুট চওড়া ওই মণ্ডপটি তৈরি হয়েছে। মণ্ডপের ভিতরে থাকছে পাহাড়, টিলা, মহাকাশ, সেখানে ভাসমান গ্রহ, নক্ষত্র-সহ মহাশূন্যের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য। মণ্ডপের পথে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে দর্শকদের। মণ্ডপের ভিতরে থাকবে নিয়ন লাইট। প্রায় অন্ধকার পাহাড়ি পথ পেরিয়ে দর্শন পাওয়া যাবে দেবীর। মণ্ডপসজ্জা তৈরি করতে তাই খাতড়ার নিজস্ব স্টুডিওতে রাতদিন প্রায় ১৫ জন সহ-শিল্পীদের নিয়ে টানা কাজ করে চলেছেন জঙ্গলমহলের এই শিল্পী সিমলাপালের এই অভিনব থিমের মণ্ডপ দর্শকদের কতটা নজর কাড়বে সেটাই এখন দেখার।

[জমিদারি এখন ইতিহাস, ভাঙা নাটমন্দিরেই সপরিবারে আসেন দেবী দূর্গা]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.