বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর ব্যবহারে ব্রাত্য চিন, আশ্বাস হাসিনার

নের সঙ্গে নানা বাণিজ্যচুক্তি করলেও বাংলাদেশ যে ভারতের সঙ্গেই ‘আন্তরিকভাবে’ রয়েছে তা মোদিকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন হাসিনা৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০১৬, ১৪:১৭

options
link
বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর ব্যবহারে ব্রাত্য চিন, আশ্বাস হাসিনার
ফাইল চিত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা: গোয়ায় ব্রিকস-বিমসটেক যৌথ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ছাড়াও একমাত্র আলাদা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা বা চিনের মতো হেভিওয়েট দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা থাকলেও শুধুমাত্র প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যার বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে৷ কারণ, উরিতে পাকমদতপুষ্ট জঙ্গি হানার পরে ইসলামাবাদ সার্ক সম্মেলন বয়কটের মোদির সিদ্ধান্তকে চটজলদি সমর্থন করে বাংলাদেশ পাকিস্তান-বিরোধী বার্তা স্পষ্ট করেছিল৷ পাক-বিরোধী সেই সিদ্ধান্ত সমর্থনের মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে গোয়ায় মোদি-হাসিনা একান্ত বৈঠক ঘিরে বাংলাদেশ জুড়ে নানা প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে৷ এছাড়াও ঢাকায় চিনের প্রেসিডেণ্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে ‘সফল বৈঠক’-এর পর ২৭টি চুক্তি সম্পূর্ণ করার দু’দিন পরেই গোয়ায় যাচ্ছেন হাসিনা৷ সেদিক থেকেই মোদির সঙ্গে বঙ্গবন্ধু-কন্যার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি উপমহাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ৷ স্বভাবতই জঙ্গি ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরু‌দ্ধে ভারতকে ‘নিঃশর্ত’ সমর্থনের বিনিময়ে গোয়া থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কী কী ‘আদায়’ করে ফিরতে পারেন সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে ঢাকার শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক মহল৷

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গোয়া সফর ও মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠক নিয়ে শনিবার ঢাকায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম৷ চিনের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানানোর পর বিমানবন্দরে আশরাফুল বলেন, “আমরা চিনের সঙ্গে কাজ করছি, আবার ভারতের সঙ্গেও অজস্র উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে তুলছি৷ সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে৷” আসলে ‘ঠান্ডা লড়াই’-এর জেরে চিনের সঙ্গে ২৭টি চুক্তি করার পর ভারত যাতে রুষ্ট না হয় সেজন্য যে শেখ হাসিনা গোয়ায় সচেষ্ট হবেন বলে ঢাকার কুটনৈতিক মহল জানিয়েছে৷ ঢাকার বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, চিনের সঙ্গে নানা বাণিজ্যচুক্তি করলেও বাংলাদেশ যে ভারতের সঙ্গেই ‘আন্তরিকভাবে’ রয়েছে তা মোদিকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন হাসিনা৷ জানিয়ে দেবেন, চিন চাইলেও বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর কোনওমতেই বেজিং প্রশাসনের হাতে দেওয়া হবে না৷ কারণ, ওই বন্দর ব্যবহার করেই ভারত-বাংলাদেশের সিংহভাগ পণ্যের পাশাপাশি প্রয়োজনে সামরিক কাজেও ব্যবহার হতে পারে৷  চট্টগ্রাম বন্দর ‘শক্তিশালী’ চিন ব্যবহারের সুযোগ পেলে যে দক্ষিণ এশিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং বাংলাদেশের তিনদিক ঘিরে থাকা ভারত ক্ষুব্ধ হলে ঢাকা খুবই সংকটে পড়বে তা অনুমান করেই হাসিনার এমন তৎপরতা বলে অনুমান৷ এছাড়াও মোদি-হাসিনা বৈঠকে তিস্তার জলচুক্তি ত্বরান্বিত করা এবং ভারতে গ্রেফতার হওয়ার জামাত-জঙ্গিদের দ্রূত ঢাকার হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা হতে পারে বলে খবর৷ এছাড়াও বাংলাদেশে চলা রেল ও সেতু-সহ একগুচ্ছ নির্মীয়মাণ প্রকল্পে ভারতীয় অংশীদারিত্ব এবং সীমান্ত সমস্যা নিয়েও মোদি-হাসিনা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কথা হতে পারে বলে ঢাকার কূটনৈতিক মহল সূত্রে খবর৷

Advertisement

 

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.