পারফেক্ট পুজোয় উত্তরকে টেক্কা দিল দক্ষিণ!

এই বারোটি মণ্ডপ পরিক্রমায় আপনারও পুজো হোক পারফেক্ট!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০১৬, ১৫:২০

options
link
পারফেক্ট পুজোয় উত্তরকে টেক্কা দিল দক্ষিণ!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: জমে উঠেছে Renault KWID নিবেদিত ‘সংবাদ প্রতিদিন পুজো পারফেক্ট ২০১৬’। শারদোৎসবের এই সুমধুর প্রতিযোগিতার বিশেষ সহযোগী শ্রীলেদার্স। পাওয়ার্ড বাই সিমোকো। এর মধ্যেই সেরা বারোটি পুজো নিজেদের নাম তুলে ফেলেছে এ বছরের শারদোৎসবে। টালা বারোয়ারি, দমদম পার্ক ভারতচক্র, হাতিবাগান নবীন পল্লি, খিদিরপুর পল্লি শারদীয়া, ৬৬ পল্লি সার্বজনীন, শিবমন্দির সার্বজনীন, সুরুচি সংঘ, ৯৫ পল্লি সার্বজনীন, নাকতলা উদয়ন সংঘ, বেহালা ফ্রেন্ডস, বেহালা নূতন দল এবং এসবি পার্ক সার্বজনীন- এই বারোটি পুজো মণ্ডপই সৌকর্যে সৌন্দর্যে ভক্তিতে এ বছরের পারফেক্ট পুজো। বেছে নিয়েছেন দেবশঙ্কর হালদার, অপরাজিতা আঢ্য, অলকনন্দা রায়, সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়, পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার এবং শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার।

Advertisement

দমদম পার্ক ভারতচক্র:

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

গোটা মণ্ডপের যেদিকেই চোখ যাবে সেদিকেই রয়েছে ফিলিগ্রীর কাজ৷ প্রথা মেনে ফিলিগ্রীর সজ্জা সোনা এবং রুপোর তারে সম্পন্ন হলেও মণ্ডপে ব্যবহৃত হয়েছে তামা। সূক্ষ্ম তামার তারের উপর কারুকার্য করা দেওয়াল, ঝাড়বাতি, সিলিং, সবেতেই ফিলিগ্রীর কাজ৷ শিল্পী সঞ্জীব সাহার হাতের কাজে রয়েছে আরও অনেক চমক৷

Advertisement

হাতিবাগান নবীন পল্লি:

দেশেরই এক অখ্যাত গ্রামের সংস্কৃতিকে শহরের পুজোপ্রেমীদের সামনে তুলে ধরেছে হাতিবাগান নবীন পল্লি৷ ৮২তম বর্ষে তাদের পুজোর থিম রাজস্থানের বাসি জেলার লুপ্তপ্রায় লোকশিল্প ‘কাবার্ড’৷ স্থানীয় কাভাড়িয়া ভাটদের লোকশিল্প একটি চলমান দেবালয়৷ প্রায় ৫০০ বছর আগে বাসির ভাট সম্প্রদায়ের শিল্পীরা একটি কাবার্ডের মধ্যে করে পৌরাণিক গল্প নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন৷ এক একটি কাবার্ডের মধ্যে ছয় থেকে আটটি পাল্লা থাকে এবং প্রত্যেকটি পাল্লার গায়ে চিত্রিত পুরাণের বিভিন্ন উপাখ্যান৷ সেই পুরাণকল্পেই এই শহরের এই পুজোয় আত্মপ্রকাশ করেছেন শারদা।

খিদিরপুর পল্লি শারদীয়া:

খিদিরপুর পল্লি শারদীয়া ধারে ও ভারে দক্ষিণ কলকাতার বেশ নামজাদা পুজো৷ শুধু দক্ষিণ কেন, গোটা কলকাতা শহরের বেশ পরিচিত পুজো৷ এবার পল্লি শারদীয়ার থিমের ব্যাটন সুশান্ত পালের হাতে৷ শিল্পীর আলাদা করে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই৷ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির রহস্যকে এখানে তিনি সত্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন৷ কিন্তু অন্তঃসার পরিস্থিতি থেকে সত্য যখন যখন আকার ধারণ করে সেই পর্যায়কে শিবম হিসাবে আখ্যা দিচ্ছেন তিনি৷ আর সেই আকার যখন ধীরে ধীরে পরিণতি লাভ করে তখনই সুন্দরের সাক্ষাৎ হয়৷ অর্থাৎ এই ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ আদতে ব্রহ্মাণ্ডের আদি অনন্ত সত্যকে চাক্ষুষ করে সুন্দরকে উপলব্ধি করা৷

৬৬ পল্লি সার্বজনীন:

চেনা তিলোত্তমাকে এবার রেখায় রেখায় ফুটিয়ে তুলেছে দক্ষিণের নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিটের ৬৬ পল্লির পুজো৷ ৬৬তম বর্ষে ৬৬ পল্লির নিবেদন ‘তিলোত্তমা’-রেখায় রেখায় প্রাণের শহর৷ থিমশিল্পী পূর্ণেন্দু দের সৃজনে পুরনো কলকাতার নস্টালজিয়া ভারতীয় ও পাশ্চাত্য ধারার রেখাচিত্রে ধরা দিয়েছে ৬৬ পল্লির পুজোপ্রাঙ্গণে৷

শিবমন্দির সার্বজনীন:

থিমশিল্পী বিমল সামন্তর সৃজনে চৌখুপিতে বাজিমাত করেছে শিবমন্দির৷ চৌখুপি মানে ছোট ছোট খোপ৷ সেই খোপ আগলে রাখে আমাদের অনেক পার্থিব-অপার্থিব বিষয়৷ বুকের খাঁচার চৌখুপিতে সুরক্ষিত থাকে মন, চৌকো সিন্দুকে সুরক্ষিত থাকে অমূল্য রতন৷ চার দেওয়ালের ঘরও একপ্রকার চৌখুপি৷ মায়ের কোলের চৌখুপি হয় স্নেহের পরশ মাখা, আবার দুই মলাটের চৌখুপির ভিতরে লুকিয়ে থাকে বহু জানা-অজানা কাহিনি৷ কাঠের ফ্রেমও একরকম চৌখুপি যার মধ্যে বন্ধ থাকে প্রিয়জনের ছবি৷ দরজা-জানলা-চিলেকোঠা সবই তো চৌখুপি৷ এই চৌখুপিতেই এই মণ্ডপে আশ্রয় নিয়েছেন শারদসুন্দরী দুর্গা।

বেহালা ফ্রেন্ডস:

বাংলা ভাষায় এক অন্য জাদু আছে৷ বিশেষ করে অক্ষরে৷ যে জানে সে মানে৷ সেই কবে বিদ্যাসাগর মহাশয় বাঙালিকে বর্ণপরিচয় করিয়েছিলেন৷ তারপর থেকে বহু ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে বাংলা ভাষা৷ কিন্তু মাধুর্য হারায়নি বাংলা ভাষা৷ এ কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দিয়েছে বেহালা ফ্রেন্ডস৷ থিমমেকার বিশ্বনাথ দে পুজোর কলকাতায় বেশ নামজাদা শিল্পী৷ তাঁর সৃজনে এবার অক্ষরে অক্ষরে বাংলাভাষার মাধুর্য মিশিয়ে দিয়েছে বেহালা ফ্রেন্ডস৷ এবার ৫১তম বর্ষে পা দিয়েছে তাদের পুজো৷ থিম ‘হৃদয় জুড়ে অন্তরে অন্তরে, তব নামগাথা বর্ণে বর্ণে অক্ষরে অক্ষরে’৷ যাতে প্রকাশ ঘটেছে দেবী দুর্গার নানা নামের।

এসবি পার্ক সার্বজনীন:

ইট-কাঠ-পাথর, মানবসভ্যতার বুনিয়াদ তৈরির সব উপকরণই মজুত রয়েছে এই পুজোর শিল্পী ভবতোষ সুতারের ভাবনায়৷ গোটা মণ্ডপই একটি রূপক৷ শ্রমিকদের হাতে গড়া সভ্যতার বিজয় রথ এগিয়ে চলেছে৷ তার সামনে রয়েছে জীবনের ভার বয়ে নিয়ে চলা বাঁক৷ কাঠের উপর কারুকার্য করে তৈরি করা হয়েছে বাঁকের দড়ি৷ এছাড়া এই পুজোর জন্য এই প্রথম থিম মিউজিক তৈরি করেছেন কবীর সুমন। এসবি পার্ক সার্বজনীনের মণ্ডপও মেতে উঠেছে সেই সুরে।

টালা বারোয়ারি:

দুর্গা যে মূলত বৈষ্ণবী শক্তি- সেই সত্যের প্রকাশ ঘটেছে টালা বারোয়ারির পূজায়। তাদের এবারের থিম ‘ফিরুক চৈতন্য’। মহাপ্রভু চৈতন্যের প্রেমধর্ম, সাম্যবাদ যে এই মুহূর্তে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, সে কথাই বলে দিচ্ছে টালা বারোয়ারির পূজা। সেই সঙ্গে তারা যেন বা বলছে- আমাদেরও চৈতন্য হোক, আমাদেরও চৈতন্য ফিরুক!

সুরুচি সংঘ:

বরাবরই ভূ-ভারতের একেকটি রাজ্যকে নিজেদের থিম হিসেবে বেছে নেয় সুরুচি সংঘ। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবারে তারা বেছে নিয়েছে ভুটানকে। মনোরম পাহাড়ি এই সংস্কৃতির সাজে সেজে উঠেছে মণ্ডপ, সেজেছেন দেবীও।

৯৫ পল্লি সার্বজনীন:

৯৫ পল্লি সার্বজনীনের এবারের থিম ইচ্ছেপূরণ। সত্যি বলতে কী, আমরা সবাই তো সারা বছর ধরেই দেবীর কাছে ইচ্ছেপূরণের প্রার্থনা জানিয়ে চলেছি। আমাদের সেই কামনারই বহির্প্রকাশ ঘটেছে এই পুজোয়।

নাকতলা উদয়ন সংঘ:

নাকতলা উদয়ন সংঘের এবারের থিম অন্তঃসার। অর্থাৎ, আমাদের সবার অন্তরে লুকিয়ে রয়েছে যে সারবত্তা, তারই সন্ধানে উদ্যোগী এই পূজামণ্ডপ। সন্দেহ নেই, একমাত্র দেবীই পারেন আমাদের অন্তরের সেই সারবত্তাতে জাগ্রত করে উপলব্ধির স্তরে নিয়ে আসতে। যে কথা মূর্ত হয়েছে এই পুজোয়।

আজ মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বোধনান্তে জেগে উঠবেন দেবী। আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হবে পুজো। তার রেশ অন্তরে নিয়ে এই বারোটি মণ্ডপ পরিক্রমায় আপনারও পুজো হোক পারফেক্ট!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.