চিনা উপকূলে রণতরী পাঠিয়ে সম্মুখ সমরে তাইওয়ান

দক্ষিণ চিন সাগরে যুদ্ধ পরিস্থিতি!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৬, ২০:১৪

options
link
চিনা উপকূলে রণতরী পাঠিয়ে সম্মুখ সমরে তাইওয়ান

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে খুব দ্রুত যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘনিয়ে উঠতে চলেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়৷ বুধবার বিতর্কিত দক্ষিণ চিন সাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠাল তাইওয়ান। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল চিনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পরই নিজেদের জলসীমা সুরক্ষিত রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাল তাইপেই।

Advertisement

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের দৃপ্ত ঘোষণা, স্বদেশের অধিকার অটুট রাখবে তাঁর সেনাবাহিনী। তাইওয়ান অধিকৃত তাইপিং দ্বীপপুঞ্জের দিকে এগিয়ে গিয়েছে যুদ্ধজাহাজটি। পাশাপাশি আমেরিকা, ভারত ও জাপান যেমন দক্ষিণ চিন সাগরে টহলদারি জাহাজ পাঠাচ্ছিল, তেমন ভাবেই টহলদারি চালিয়ে যাবে। তাইওয়ান দক্ষিণ চিন সাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সপ্তাহখানেক আগে থেকেই চিনা নৌসেনার একাধিক রণতরী সেখানে অবস্থান করছে। অতএব দক্ষিণ চিন সাগর যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা নিয়ে সংশয় নেই ওয়াকিবহাল মহলের।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বাণিজ্যিক জলপথ হিসাবে বহুল ব্যবহৃত দক্ষিণ চিন সমুদ্রের অধিকার নিয়ে মঙ্গলবার চিনের বিরুদ্ধে কঠোর রায় দিয়েছে দ্য হেগের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল৷ সেই রায়ের জেরে আজ তুমুল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চিন৷ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রায় যা-ই হোক না কেন, দক্ষিণ চিন সমুদ্র থেকে তাদের নৌবহর সরাবে না তারা৷ কারণ দক্ষিণ চিন সমুদ্র নিয়ে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের রায়কে তারা মানে না৷ স্বীকার করে না৷ বেজিংয়ের এই ঔদ্ধত্যেই চটেছে ওয়াশিংটন৷ চিনের অনধিকার চর্চা নিয়ে পাল্টা গর্জন করেছে তারাও৷ জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক আদালতের বক্তব্য না শুনে যদি দক্ষিণ চিন সমুদ্র থেকে নৌ বাহিনী না সরায় চিন তবে তারাও প্রস্তুত রুখে দাঁড়াতে৷ বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের এই প্রান্তীয় এলাকায়৷

Advertisement

আন্তর্জাতিক আদালত তাদের রায়ে জানিয়েছিল, দক্ষিণ চিন সমুদ্রের উপর চিনের দাবি করা ‘ঐতিহাসিক অধিকারের’ কোনও আইনি ভিত্তি নেই৷ ‘নাইন ড্যাশ লাইন’ দিয়ে দক্ষিণ চিন সমুদ্রের যে ৯০ শতাংশ এলাকার দখল চিন নিতে চাইছে, তা আদতে রাষ্ট্রসংঘ সম্মেলনের সমুদ্রবিধির বিরোধী৷ এই বিধি অনুযায়ী যেকোনও দেশের জলসীমার দুই নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এলাকাকেই কেবল সেই দেশের নিজস্ব জলসীমা বলে ধরা হয়৷ বাকি অংশ পড়ে আন্তর্জাতিক জলসীমার অধীনে৷ সেখানে যেকোনও দেশ প্রবেশ করতে পারে৷ প্রয়োজনে বাণিজ্যিক কাজেও ব্যবহার করতে পারে৷ কিন্তু, চিন সমুদ্রের ৯০ শতাংশেই নিজেদের অধিকার দাবি করায় সমুদ্র সংলগ্ন বাকি দেশগুলির সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হচ্ছে৷ চিন ছাড়াও ফিলিপিনস, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম বাণিজ্যিক কারণে দক্ষিণ চিন সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল৷ তাই চিনের ওই জবরদখলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে নালিশ জানিয়েছিল দেশগুলি৷ তারই রায় আজ দিল আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল৷

9_dotted_line

১৯৪০ সালের একটি ম্যাপ থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত৷ ওই ম্যাপ দেখিয়ে চিন দাবি করেছিল দক্ষিণ চিন সাগর আদতে চিনেরই অধিকার৷ এর নব্বই শতাংশ এলাকায় নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সমুদ্রে ছোট ছোট কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করতে শুরু করে তারা৷ বেশ কিছু প্রবাল প্রাচীর এবং সমুদ্রের মধ্যে জেগে থাকা পাথুরে অংশে বালি ফেলে তৈরি করে প্যারাসেল আইল্যান্ডস এ স্প্র্যাটলি আইল্যান্ডস৷ ওই সব দ্বীপে সামরিক পরিকাঠামো ও রানওয়ে তৈরি করে বসানো হয় মিসাইল লঞ্চারও৷ ন’টি ড্যাশ দিয়ে ওই সব দ্বীপ-সহ দক্ষিণ চিন সমুদ্রের ৯০ শতাংশের অধিকার দাবি করে চিন৷ কিন্তু, আন্তর্জাতিক আদালত তাদের রায়ে জানিয়ে দেয় ওই দ্বীপগুলি জোয়ারের সময় জলের নিচে চলে যায়৷ তাই চিনের তৈরি ওই ভূখণ্ডকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না৷

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.